
মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ কাতার। কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব, এবং এর পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন অবস্থিত। কাতারের রাজধানী দোহা। জনসংখ্যা ২৫ লাখ। দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আরবি ভাষা কাতারের সরকারি ভাষা। এখানকার প্রায় ৫৬% লোক আরবি ভাষাতে কথা বলেন। গত দশ বছরে বিপুল পরিমাণে বিদেশী শ্রমিক কাতারে এসেছে। কাতারে একজন অভিবাসী শ্রমিকের মাসিক আয় ৩৫০ ডলার। গত এক দশকে লন্ডনে প্রচুর সম্পদ কিনেছে কাতার। কয়েকমাস আগে কাতারের অর্থমন্ত্রী বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্যে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৫ থেকে ৫১ বিলিয়ন ডলারের মতো। ছোট এ দেশটিতে তেল ও গ্যাসের বিশাল মজুতের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।

কাতারের একটি স্টেডিয়াম।
খুব ছোট্ট একটা দেশ। মাত্র ১১,০০০ বর্গ কি.মি. আয়তন। লম্বা-লম্বি এ-মাথা ও-মাথা পাড়ি দিতে বড়জোড় ২ ঘণ্টার মামলা। মুদ্রার নাম 'রিয়াল'। বাংলাদেশের প্রায় ১৯ টাকার সমান। দেশটার তিন দিকেই সাগড়। প্রতিবেশীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বর্ডার সৌদি আরবের সাথে। আর আছে আরব-আমিরাত। দুই দেশের সাথেই স্থলপথে সংযোগ আছে। হজ্জ্বের সময় সবাই এদশে থেকে নিজের গাড়ি নিয়ে সৌদি চলে যায়। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কাতার। কাতারে অসাধারন বেশ কয়েকটা স্টেডিয়াম রয়েছে। কাতারে মোট ১২ টি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা হওয়ার কথা রয়েছে। কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির সম্পদের পরিমাণ ২.৪ বিলিয়ন ডলার। কাতারে প্রতি দশজনে সাতজনই স্থূলকায়, এবং পাঁচজনে একজন ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
কাতারের নিজস্ব জনসংখ্যা মাত্র ৭ লাখের মতো। এক সময় এদের প্রধান জীবিকা ছিল সাগড়ে মাছ ধরা। এর পর মুক্তার চাষ। তেল আবিস্কারের পর এরা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোর একটি। এখন এদেশে নিজস্ব জনসংখ্যার চেয়ে অনেক বেশী বিদেশী। সবচেয়ে বেশী লোক ভারতীয় উপমহাদেশের। তাই আরবীর পরেই এদেশে হিন্দির স্থান। মধ্যপ্রাচ্য মানেই মরুভূমি। এদেশও তার ব্যাতিক্রম নয়। পুরো দেশটাই স্রেফ মরুভূমি। এরই মধ্যে তৈরী হয়েছে ঘর-বাড়ী, দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাট। গাছপালা যে একদম নেই তা নয়। প্রচুর পরিমানে আছে খেঁজুর আর বড়ই গাছ। এদেশের বড়ই খুবই মজার। ধরেও প্রচুর পরিমানে। বেশীর ভাগ বাড়ীর সামনেই একটা-দুটা বড়ই গাছ পাওয়া যাবে। কিন্তু এরা নিজেরা এ বড়ই ছুঁয়েও দেখে না। বিদেশীরাই ইচ্ছেমতো নিয়ে খায়। কেউ কিছু বলে না। খেঁজুরের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সব রাস্তার পাশে খালি খেঁজুর গাছ।
কাতারে ৪ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। নির্মান শিল্পে লেবার ভিসায় যেসব শ্রমীক এখানে আসে, এরা যে কি অমানবিক কষ্ট করে টাকা রোজগাড় করে দেশে পাঠায়, দেশে বসে তা কল্পনা করা সত্যিই অসম্ভব! কাতারে বিদেশি অভিবাসীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতীয়তা হিসেবে ভারত, নেপাল ও ফিলিপাইনের পরপরই অবস্থান বাংলাদেশের। এই বাংলাদেশি অভিবাসীদের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী কাজ করছেন নির্মাণখাতে। পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে ভিসা বিহীন ভ্রমনের সুযোগ দিচ্ছে কাতার। ৮০ দেশের নাগরিকরা কেবল বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই পাবেন এমন সুযোগ। অবশ্য তালিকায় নেই বাংলাদেশ।
কাতারে পতিতাবৃত্তি অবৈধ। পতিতাবৃত্তির জন্য কাতারের আইনে গুরুতর শাস্তির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু মানব পাচারের জন্য অন্যতম দেশ হলো কাতার। এই দেশ দিয়ে অনেক নারী পাচার হয়ে আরব ও ইউরোপে প্রবেশ করে। চীনের অনেক মহিলা, যাদের বয়স ২০ বছর থেকে ৩০ বছর, তারা পর্যটক হিসেবে ভিসা নিয়ে কাতারে এসে পতিতাবৃত্তি করে। বাংলাদেশেরও অনেক মেয়ে আছে। বাংলাদেশি মেয়েদের শ্রমিক হিসেবে নারীদের নিয়ে এসে জোরজবরদস্তি করে পতিতাবৃত্তির সাথে যুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশি জনশক্তির গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হওয়ার কারণে রেমিট্যান্সের বড় উৎস এখন কাতার। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়ে ৪১১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে কাতার থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
