somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সোমবার মঙ্গলবার

৩০ শে মে, ২০১৮ সকাল ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সোমবারের ঘটনা।
রিকশা করে যাচ্ছি খিলগা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে। গুলবাগ থেকে রিকশায় উঠেছি। রিকশা চালকের বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। মাথায় লাল কাপড় প্যাঁচিয়ে রেখেছেন।
গুলবাগ বাজার পার হতেই রিকশাওয়ালা বলল, বাবা তুই কেমন আসিছ?
আমি প্রচন্ড অবাক হয়ে বললাম, আমাকে বলছেন?
রিকশা চালক বললেন, হ তোরেই কইতাছি।
আমি প্রচন্ড মর্মাহত। অপরিচিত কেউ আমাকে তুই করে বললে মেনে নিতে পারি না। অপমান বোধ হয়, কষ্ট হয়।
আমি চুপ করে আছি। রিকশা চালক তুই করে বলাতে খুব মন খারাপ হয়েছে।
রিকশাচালক বললেন, বাবা তুই একটা সরিষা তেলের বোতল কিন। আমি ফু দিয়ে দিব। তাতে তোর মঙ্গল হবে।
সারা জীবন আমি কুসংস্কার অবিশ্বাস করে গেছি। আর রিকশাওয়ালা বলে কি! প্রচন্ড রাগ লাগছে। এর চেয়ে ভালো হতো যদি- রিকশাওয়ালা বলতো- আমি দরিদ্র মানুষ আমাকে সাহায্য করুন। আমি অবশ্যই তাকে সাহায্য করতাম।
রিকশাওয়ালা বলল, আমি আগে বোবা ছিলাম। বিশ বছর কথা বলতে পারি নাই। একজন স্বপ্নে দেখা দিয়ে আমাকে অলৌকিক একটা জিনিস দিছে। আর আমার মুখের জবান ফিরায়ে দিয়েছে।
আমি বললাম, চুপ করো। সামনে তাকিয়ে রিকশা চালাও। তুমি তো একসিডেন্ট করবে।
রিকশাওয়ালা হঠাৎ এক দোকানের সামনে রিকশা থামিয়ে একটা মাম পানির বোতল কিনল। তারপর অনেকক্ষন সময় নিয়ে কি কি পড়ে পানিতে ফু দিল। আমাকেও ফু দিয়ে বলল, এই পানি ওজু করে খাবি। মনের ইচ্ছা পূর্ণ হবে। আরে ভয় পাচ্ছিস নাকি? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি টাকা পয়সা নিই না। তোকে ভালো লাগলো, তাই ফু দিয়ে দিলাম। তোর মঙ্গল হবে।
আমি আমার গন্তব্যে নামলাম। রিকশাভাড়া দিলাম। তখন রিকশাওয়ালা বলল, কিছু বেশি দে। যদিও আমি কারো কাছ থেকে ফু-টু দিয়ে টাকা পয়সা নিই না। তবে তোর কাছ থেকে নিবো। দে বাবা দে। মন খুলে দে।
আমি বললাম, ভন্ডামি বাদ দেন। আমি অন্য জিনিস। আপনি ভুল মানুষের কাছে এসে নাটক করেছেন। এইসব বাদ দেন। মানুষ ঠকানো ভালো নয়। যদিও আমার উচিত আপনাকে পুলিশে দেওয়া। কিন্তু আমি আপনাকে ভালো হওয়ার জন্য সুযোগ দিলাম।



মঙ্গলবারের ঘটনা
প্রতিদিনের মতো অফিস শেষ করে হেটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম থাকে ইফতারীর আগে। ইফতারী বলে কথা না, সব সময়'ই জ্যাম থাকে। তাই হেঁটে হেঁটেই রোজ বাসায় ফিরি। বাসায় ফেরার পথে প্রতিদিন কিছু না কিছু সুরভির জন্য কিনে নিয়ে যাই। ভাবলাম আজ আম নিয়ে যাবো। এবছর এখনও আম কিনি নাই। চলতি পথে কয়েক জায়গায় আম দেখলাম, এক শ' টাকা কেজি চায় কিন্তু আমের মান ভালো না, তাই কিনি নি।
গুলবাগ রেল লাইনের কাছে একলোক আম বিক্রি করছে। আমি বললাম, এগুলো কি আম?
লোকটি বলল, এগুলো হিমসাগর।
আমি বললাম এখনও তো হিম সাগর বাজারে আসেনি। মিথ্যা বলছো কেন? এগুলো তো গুটি আমি। আমি আম খুব ভালো চিনি। আম আমার প্রিয় ফল।
আমওয়ালা রেগেমেগে অস্থির। বলল, এগুলো হিমসাগর না হলে আমি আপনাকে এক লাখ টাকা দিমু।
আমি বললাম, ঠিক আছে তুমি আমার সাথে বাসায় চলো। আমার বাসায় আম বিশেষজ্ঞ আছে। যদি সত্যি এগুলো হিমসাগর হয় তাহলে সব আম কিনবো।
আমওয়ালা বলল, আমি যামু না। আপনি কারে দিয়া পরীক্ষা করবেন তারে নিয়া আসেন। আমি আছি এইখানে।
আমি বললাম, এসে যদি দেখি তুমি চলে গেছো?
তখন আমওয়ালা তার মোবাইল নম্বর দিল আমাকে। তারপর রাস্তার ওইপারে একটা ছয় তালা বাড়িয়ে দেখিয়ে বলল, আমি অই বিল্ডিং এর তিন তালায় থাকি।
আমি আমওয়ালার মোবাইল নম্বর টুকে নিলাম।
আমওয়ালা বলল, এখন'ই একটা ফোন দেন। আমিও আপনার নাম্বার সেভ করে রাখি। আমওয়ালা আম দেখিয়ে বলল, এগুলো হিমসাগর না প্রমান করে এক লাখ টাকা নিয়ে যাবেন। ব্যস।
বাসায় এসে আমি আমওয়ালার কথা পুরোপুরি ভুলে গেলাম। পথে ঘাটে তো এরকম কত কিছুই ঘটে।
পরের দিন একজন ফোন করে বলল, কিরে কি খবর? আমাকে চিনতে পেরেছিস? আমি আমওয়ালা।
আমি প্রচন্ড অবাক!! আমওয়ালা আমাকে তুই তুই করে বলছে!!!
আমি বললাম, তোমার সমস্যা কি?
আমওয়ালা বলল, ইফতারী কি দিয়ে করলি? আমি কি ছিল? ও ভালো কথা, পরে আম কি কিনেছিলি?
আমি ফোন কেটে দিলাম।
আমওয়ালা একঘন্টা পর-পর ফোন দিয়েই যাচ্ছে। আমি ফোন ধরছি না।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৮ সকাল ৯:২৫
৪৫টি মন্তব্য ৪৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের রসায়নবিদ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


লেখকের নোট:
এই গল্পের পটভূমি ১৯৭৭ সালের ঢাকায় সংঘটিত জাপান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাইয়ের ঐতিহাসিক ঘটনাকে অবলম্বন করে নির্মিত। ঐতিহাসিক ব্যক্তি, স্থান ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানেনা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪২


কেউ জানেনা
আমার একটা জগৎ আছে,
খুব গহীনে, সংগোপনে,
বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা
একটা জগৎ....
নিজের জগৎ, নিজের মত
আমার একটা জগৎ লাগে।

রোজ বিকেলে কাজের পরে
একটু যখন অবসরে,
একটু সময় চায়ের কাপে
নিজের মত, নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদীরের জুলাই আন্দোলন: কারণটা কি একান্ত ব্যক্তিগত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০১


সালমান মুক্তাদীর বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েশন জগতের পথিকৃৎ। তার হাত ধরে এদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে কত তরুণ, তার কোনো হিসাব নেই। তার ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে কাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে পর্ণ এটাকের জনককে পাওয়া গিয়েছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৮



ব্লগার চারাগাছ সামুতে মডারেটর নেই বলে সন্দেহ করছেন। নিজের ধারণা পাকাপোক্ত করতে সামুতে পর্ণ এটাকের প্ল্যান করছেন। ইহা কি ব্লগার?

সামুতে পর্ণ এটাকের কারণে পর্ণ সাইটের ধুয়া তুলে বিগত সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×