
প্রধানমন্ত্রী ইফতার পার্টি করলেন- একজন ব্লগারকেও দাওয়াত দিলেন না। কেন? অথচ কত অগা বগা জগাকে দাওয়াত করলেন (তথা কথিত কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি)। কত পুরস্কার, কত ধরনের পুরস্কার, কত ধরনের মানুষকে দেওয়া হয়। কিন্তু কখনও শুনেছেন কোনো ব্লগারকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে? ব্লগাররাতো বাংলা'ই লিখছেন। তাদের লেখায় উঠে আসে- কত আনন্দ, বেদনা, দুঃখ-কষ্ট, পাওয়া না পাওয়া, সমস্যা ও সমাধান। ব্লগাররা তো এদেশের'ই সন্তান। সাংবাদিকেরা চামচাগিরি করে, তেলবাজি করে কত পুরস্কার হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ ব্লগাররা দেশ নিয়ে কত ভাবে, তাদের সব জ্ঞান ঢেলে দিচ্ছে প্রতিটা লেখায়। লিখে লিখে তারা দেশটা বদলে দিতে চায়। সমাজের ভুল গুলো সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তবুও তারা অবহেলিত।
আমাদের দেশে সকল পত্র পত্রিকা কোনো না কোনো দলের। এমনকি লেখকরা পর্যন্ত কোনো না কোন দলের হয়ে এক তরফা লিখে যাচ্ছেন কিন্তু ব্লগাররা একদম নিরপেক্ষ থেকে লিখেন। একটা সংবাদ পত্রের চেয়ে একটা ব্লগে সারাদিন দেশের আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা গুলো নিরলসভাবে লিখে যাচ্ছেন। অথচ ব্লগারদের অবহেলা করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্যাপারটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমি জানি, খুব ভালো করেই জানি ব্লগাররা কোনো পুরস্কারের আশায় লিখেন না। তারা মনের আনন্দে লিখে যান। দেশকে ভালোবেসে লিখে যান। তারপরও যখন দেখি অগা-বগা আর জগারা সম্মান পাচ্ছে, পুরস্কার পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত দিচ্ছেন ইফতার পার্টিতে অথচ কোনো ব্লগার ডাক পাচ্ছে না, তখন কষ্ট হয়।
স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জেমকন সাহিত্য পুরস্কার আরও কত রকম পুরস্কার আছে দেশে। এগুলো নিয়ম করে অন্যান্যদের সাথে ব্লগারদেরও দেওয়া উচিত। তারা এই সমাজের'ই মানুষ। তারা দেশকে ভালোবাসে। পৃথিবীর যে মেরুতেই একজন ব্লগার থাকুক- দেশের জন্য তার সীমাহীন টান আর ভালোবাসা তার লেখার প্রতিটা শব্দে প্রকাশ পায়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ- এরপর দয়া করে একটু ব্লগারদের দিকে তাকাবেন। আপনি তাকালেই এরপর সবাই তাকাতবে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যখন কোনো রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যান তখনও একদল আউল ফাউল, দালাল, চামচা আর চাটুকার নিয়ে যান। ব্লগার কেন নেন না? নাকি আপনি ব্লগার শব্দটিই জানেন না? তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আপনার কি কোনো ধারনা নেই? আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো দেশের সব খোজ খবর রাখেন।
আমরা ব্লগাররা অবহেলিত আসলে আমাদের নিজেদের দোষে। আমাদের কোনো সংগঠন নেই। সমিতি নেই। সারা দেশে সাংবাদিকদের দুনিয়ার সংগঠন আছে, সমিতি আছে, সবচেয়ে বড় কথা তাদের প্রতিটা জেলায় জেলায় প্রেসক্লাব আছে। কোনো কোনো জেলায় দুইটা তিনটা করে প্রেসক্লাব আছে। সাংবাদিকেরা নিজের স্বার্থে ঐক্যবদ্য। আমরা ব্লগাররা ছন্নছাড়া। অথচ সাংবাদিকের চেয়ে আমরা কোনো অংশেই কম নই। তারা লিখে সরকারের মুখের দিকে চেয়ে, আর আমরা ব্লগাররা লিখি সমস্ত দেশের মানূষের মুখের দিকে চেয়ে। সাংবাদিকেরা লিখে টাকা পায়, আমরা তো টাকাও পাই না। সমাজের অনেক লোক মনে করেন- একসময় কিছু ব্লগার ধর্মের বিরুদ্ধে লিখে সব ব্লগারদের মান সম্মান নষ্ট করে দিয়ে গেছে। কিন্তু সেই সমস্ত লোক সেই লেখা গুলোই দেখা অথচ প্রতিদিন ধর্ম নিয়ে কত সুন্দর সুন্দর পোষ্ট আসছে সেগুলো কেউ দেখে না। কিছু নির্বোধ লোক ব্লগারদের হত্যা পর্যন্ত করেছে।
লেখা এইখানেই শেষ করতে হলো। প্রচন্ড গরম পরেছে। পুরো শরীর ঘামে ভিজে একাকার। আমার ঘরে এসি নেই। ফ্যানটা দিয়ে যেন গরম বাতাস বের হচ্ছে। একটানা বসে আজ তিনটা লেখা লিখেছি। লিখতে আমার কখনই খারাপ লাগে না। কিন্তু গরমটা সহ্য করতে পারছি না। যাই হোক, আপনারা যারা এই লেখা পড়ছেন তারা ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সবার জন্য শুভকামনা। তবে আমি বলে রাখলাম, একদিন প্রধানমন্ত্রী তার ইফতার পার্টিতে ব্লগারদের দাওয়াত দিবেন, রাষ্ট্রীয় সফরেও নিয়ে যাবেন। এবং দেশের অনেক পুরস্কার ব্লগারদের জন্যও বরাদ্দ থাকবে। আমি সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সাকসেস না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার চেষ্টা চালিয়ে যাবো কথা দিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
