somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একজন বাবার আত্মকথা

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার নাম সিকদার আলী। আজ আমার বয়স হলো একাত্তর। আমি স্কয়ার হাসপাতালে ভরতি আজ সতের দিন ধরে। মনে হয় আর বাঁচবো না। জীবনে পাপ তো কম করি নাই। বিয়েই করেছি তিনটা। আমার তিন ঘরে ছেলে মেয়ের সংখ্যা মোট এগারো জন। আমার সব ছেলেমেয়ে শিক্ষিত। তারা সবাই ভালো ভালো চাকরি করে। এক মেয়ে থাকে লন্ডন। তার বিশাল অবস্থা। আমাকে লন্ডন নেওয়ার জন্য অস্থির। আরেক ছেলে হজ্ব করার কথা বলছে। হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলেই হজ্ব অথবা ওমরা করে ফেলব। আমার তৃতীয় বউ এর এক ছেলে, এক মেয়ে। এরা দু'জনেই ছোট। তৃতীয় বিয়েটা কিভাবে করি সেটা সংক্ষেপে বলি। ঢাকার বাইরে বনভোজনে যাই। সেই বোনভোজনে লুনা নামে এক মেয়ে নাচে। তাকে নাচার জন্যই ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে। লুনা মেয়েটাকে ভালো লেগে গেল। সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। মেয়েটা রাজী হয়ে গেল।

মুক্তিযুদ্ধের আগে এমএ পাশ করে আমি জাহাজে চাকরি নিই। তখন আমার যুবক বয়স। আমি দেখতে দারুন স্মার্ট। তাছাড়া আমার চলা ফেরায় একটা আভিজাত্যভাব আছে। আমার বাপ দাদার সম্পত্তির অভাব ছিল না। জাহাজে চাকরি করার সময় ঢাকার এক মেয়েকে ভালো লেগে যায়। সেই মেয়েকে নিয়ে প্রতি সপ্তাহে দু'টা সিনেমা দেখতাম। মেয়েটা আমার প্রেমে পাগল হয়ে গেল। অবশ্য মেয়েটার সাথে প্রেম করার সময় আমি খুব মিথ্যা বলতাম। প্রেম ভালোবাসা করার সময় সব ছেলেই মিথ্যা। আর এই মিথ্যা সোসাইটি এলাউ করে। মেয়েটাকে বিয়ে করে ফেলি। মেয়েটা মোটামটি ধনীর মেয়ে বলা যায়। বিয়ে করে আমি জাহাজে চলে যাই। ছুটিতে গ্রামে যাই বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে। গ্রামে যাওয়ার পর বাবা আমাকে তার পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। আমার বাবা অনেক রাগী। তাই তাকে বলতে পারিনি যে আমি ঢাকা একটা বিয়ে করেছি।

একসময় আমার দুই বিয়ের কথা জানাজানি হয়ে গেল। বিরাট ক্যাচাল লেগে গেল। যাই হোক, আমি যথেষ্ট বুদ্ধিমান তাই ব্যাপারটা সুন্দরভাবে মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হলাম। নিয়ম করে কিছু দিব ঢাকা থাকি, কিছু দিন গ্রামে থাকি। হঠাৎ জাহাজের চাকরিটা চলে গেল। পড়ে গেলাম ভয়াবহ বিপদে। তখন এক বউ ঢাকায়। আরেক বউ গ্রামে। ঢাকা এবং গ্রামে দুই বউ এর ঘরে প্রতি বছর বাচ্চা জন্ম নিতে থাকলো। দেখতে দেখতে গ্রামের বউ এর মোট পাঁচটা বাচ্চা হলো। আর ঢাকার বউ এর মোট চারটা বাচ্চা হলো। দুই দিকের খরচ টানতে টানতে আমাকে প্রচন্ড হিমসিম খেতে হলো। বাবার সম্পত্তি নামে বেনামে লুকিয়ে বিক্রি করতে শুরু করলাম। এক সময় সম্পত্তি সব শেষ হয়ে গেল। এদিকে এত গুলা ছেলে মেয়ে, তাদের খাওয়া দাওয়া আর লেখা পড়ার খরচ চালাতে-চালাতে আমার অবস্থা শেষ। আমার আবার মদ্যপানের খুব নেশা। প্রতি সপ্তাহে একদিন মন ভরে মদ না খেতে পারলে আমার ভালো লাগে না।

গ্রামের বউ জিদ করেছে সে আর গ্রামে থাকবে না। গ্রামে ভালো স্কুল নেই। নিয়ে এলাম তাদের ঢাকায়। বড় ফ্লাট বাসা ভাড়া করলাম। এদিকে আমার কতদিন ধরে চাকরি নাই। শুরু করলাম আদম ব্যবসা। হাতে আসতে শুরু করলো কাচা পয়সা। তখন দুইহাতে টাকা উড়াতাম। ধূমধাম করে ছেলে মেয়ের জন্মদিন পালন করতাম। যে বউ ঝগড়া করতো তার কাছে যেতাম না দিনের পর দিন। খরচও দিতাম না। একসময় আদম ব্যবসা করে চরম ধরা খেলাম। তারপর অনেদিন লুকিয়ে থাকতে হলো। পাওনাদাররা এসে বাসায় হইচই করতো। শেষে এমন অবস্থাও হলো- আমার এক ছেলে নতুন এক জোড়া জুতার জন্য কান্নাকাটি শুরু করেছে। তাকে জুতা কিনে দেইনি। কিভাবে জুতা কিনব(?) যদি ছেলেকে জুতা কিনে দিতাম, তাহলে সেরাতে আমি মদ খেতে পারতাম না। আমার কাছে ছেলের জুতার চেয়ে মদটাই গুরুত্বপূর্ণ। তার মানে এই না যে আমি আমার ছেলেকে ভালোবাসি না।

বুড়া বয়সে তৃতীয় বিয়েটা করে মনে হয় ভুল'ই করেছি। তখন আমার বড় ছেলে আর বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছে। আমার তিন নম্বর বঊ এর কথা এক বছর পর সবাই জেনে গেল। আমার ভাই বোন, দুই বউ আর সব ছেলে মেয়ে জেনে গেল। তবু কেন জানি আমার লজ্জা লাগলো না। আমি পুরুষ মানুষ। সোনার চামুচ। আমাদের হিসাব আলাদা। আমাদের নবিজিও অনেক গুলো বিয়ে করেছেন। যাই হোক, আজ আমার সব ছেলে মেয়ে বড় বড় হয়ে গেছে। তারা বিয়ে করে ফেলেছে। তারা আমার সেবা যত্নের কোনো ত্রুটি করে না। প্রতিমাসে মাসে আমাকে অনেক টাকা হাত খরচ দেয়। এই টাকা থেকেই আমি আমার তৃতীয় বউ এর ছোট দুই ছেলে মেয়ের সব খরচ চালাই। অনেক অন্যায় অবিচার করেও আমি বেশ ভালোভাবেই জীবন যাপন করেছি। এখন শেষ বয়সে এসেও বেশ ভালো আছি। সবচেয়ে বড় সমস্যা আর্থিক সমস্যাই নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:১৬
২৮টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×