somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অমানুষের আত্মকাহিনি

০৯ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি এক অমানুষ। অমানুষ হয়ে জন্ম নিইনি। জন্মের পর অমানুষ হয়ে গেছি। যদিও ভালো হওয়ার রাস্তা ছিল তবু খারাপ পথটাই বেছে নিয়েছি। ছোটবেলা থেকেই আমি বিরাট বদ। মেয়েরা গোছল করলে ফুটো দিয়ে তাকিয়ে দেখতাম। আহ কি যে ভালো লাগতো বিশাল বিশাল বক্ষ দেখতে! দিনের পর দিন এই কাজ করেছি। তখন ক্লাশ সেভেন বা এইটে পড়ি হয়তো। আর একটু বড় হয়ে সাহস গেলে বেড়ে। তখন গুলিস্তান যেতাম ইংরেজি সিনেমা দেখতে। এক টিকিটে দুই ছবি। প্রথম একটা ইংরেজি সিনেমা দেখাতো তারপর শুরু হতো আসল সিনেমা। সিনেমা দেখে ঘেমে টেমে অস্থির হয়ে যেতাম। গুলিস্তানে বাজে বই বিক্রি করতো। সেই বইতে রঙ্গিন ছবি থাকতো। দিনের পর দিন স্কুলের টয়লেটে বসে সব বন্ধুরা মিলে ছবি গুলো দেখতাম। একেক দিন একের বন্ধু ছবিওয়ালা সেই চটি বই বাসায় নিয়ে যেতাম।

কলেজে উঠে যেন হুট করে অনেক বড় হয়ে গেলাম। তখন আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে হোটেলে যাতায়াত শুরু করলাম। খুব কষ্ট করে টাকা জমাতাম। বাসায় বলতাম কোচিং করতে হবে। আসলে কোচিং করতাম না। সেই টাকা দিয়ে আমরা ফুর্তি করতাম। স্কুলে থাকতেই সিগারেট খাওয়া শিখে যাই। তখন তো আর ইন্টারনেট ছিল না। বন্ধুর বাসায় গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ভিসিআরে থ্রি এক্স ভিডিও দেখতাম। কি যে ভালো লাগতো! রাতে ভিডিওতে দেখা মেয়ে গুলোর কথা ভাবতাম। রাস্তার সব বয়সী মেয়েদের বুকের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতাম। মার্কেটে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতাম। কোনো মেয়ের সাথে গায়ে একটু ছোঁয়া লাগলেই সীমাহীন সুখ পেতাম যেন। মেয়ে দেখলেই চোখ বন্ধ করে চিন্তা করতাম যেন তার সাথে বিছানায় শুয়ে আছি। সমস্ত শরীর জুড়ে কি যে শিহরণ লাগতো! নিষিদ্ধ ভুবনের আনন্দ বেশি। স্কুলে থাকতে শিখে গেছি পাপেই আনন্দ।

চটি বই পড়ে, ছবি দেখে এমনকি ভিসিআরে দেখেও মন ভরে না। এখন ইচ্ছা করে বাস্তবে কাছে পেতে। সাহস করে যাই হোটেলে। প্রতিমাসে দুই বারের বেশি হোটেলে যেতে পারি না টাকার অভাবে। ছাত্র মানুষ এত টাকা কোথায় পাবো। তখন কাজের মেয়েকে অল্প টাকার বিনিময়ে হাত করলাম। রাতে ঘুমানোর আগে স্কুল, কলেজ আর মার্কেটে দেখা সুন্দরী নারীদের নিয়েও মনে মনে সেই সব চিন্তা গুলো করতাম। আহা কি যে সুখ! কি যে আনন্দ! বয়স বাড়ার সাথে সাথে রুচির পরিবর্তন হয়। কলেজ পাশ করার আগেই জেনে গেলাম কোন হোটেলের রেট কত। কোনো হোটেলে মেয়ে গুলো বেশি ঝাক্কাস! খারাপের সাথে খারাপ জুটে যায়। ঠিক আমি যেরকম আমার বন্ধুরাও সেরকম। বন্ধুরা সবাই মিলে প্রচুর সস্তা সিগারেট খাই। রাস্তায় মেয়ে দেখলে বাজে মন্তব্য করি। লেখা পড়া নাই সারাদিন ওইসব করেই কাটিয়ে দিতাম।

এরপর শুরু করলাম গাঁজা খাওয়া। গাঁজা খেয়ে চোখ টোখ লাল হয়ে যেত। বিশেষ বিশেষ দিনে আমরা মদ খেতাম। টাকা পয়সা থাকলে হয়তো প্রতিদিনই খেতাম। রেল লাইনের আড্ডায় আমরা খুব গল্প করতাম। গল্প মানে অশ্লীল গল্প। নিষিদ্ধ গল্প। আমরা যে এত পেকে গেছি তা আমাদের পরিবারের কেউ জানতো না। পরিবারের কাছে সব সময় বোকা সেজে থাকতাম। তবে আমাদের বাবা মা খুব ভালো। তারা নামাজ রোজা করেন। এদিকে লেখা পড়ায় কোনো রকমে টেনে টুনে পাশ করে যেতাম। খুব বুদ্ধি করে চললতাম বলে বাবা মা আমাদের খারাপ দিক গুলো জানতে পারেন নি কখনও। কে জানে বাবা মা যখন ছোট ছিলেন তারাও হয়তো এমন করতো! দেখতে দেখতে হুট করে বড় হয়ে গেলাম। আর আমাদের খেলাও জমে উঠলো। তবে বেশির ভাগ ছেলেরা আমাদের মতোই আমরা প্রকাশ করি, তারা গোপন রাখে।

একই সাথে বেশ কয়েকজন মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতাম। আমার কাছে প্রেমটা আসল না। তাদেরকে বিছানায় নিয়ে যাওয়াটাই আমার আসল উদ্যেশ্য। বোকা মেয়ে গুলো বুঝে না। আচ্ছা, মেয়েরা এত নির্বোধ হয় কেন? একটু আবেগ দিয়ে কথা বললেই তারা কাঁত হয়ে পড়ে। একটা মেয়েকে পুরোপুরি আবিস্কার করার পর আমার আর ভালো লাগে না। তখন নতুন শিকার ধরি। এভাবে যে কত মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছি তার হিসাব নেই। সে যাই হোক, সব ফাজলামো বাদ দিয়ে বিয়ে করলাম। এখনও আমার বদমাইশি বন্ধ হয় নাই। এখনও রাস্তায় মেয়ে দেখলে হা করে তাকিয়ে থাকি বুকের দিকে। বিয়ের পরও অনেক মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক আছে। আমার বউ এসবের কিছুই জানে না। নিখুঁত অভিনয় করি আমি। বউ বুঝতেই পারে না। আসলে বদমাইশি আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে। এখন আমৃত্যু আমাকে বদমাইশি করে যেতে হবে। হবেই।

আমি রাস্তার রংসাইড দিয়ে হোন্ডা চালিয়ে যাই। রাস্তায় জ্যাম থাকলে ফুটপাতে হোন্ডা উঠিয়ে দেই। বাসে উঠলে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। সুযোগ পেলেই মেয়েদের সাথে একটু ঘষাঘষি করে নিই। আমার বাসের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কারনে কে বাসে উঠতে পারলো বা কে নামতে পারলো না তা আমার দেখার দরকার নাই। অফিসে নারী সহকর্মীদের সাথে খুব বেশি রঙ্গতামাশা করি। অফিসে কাজ কিছুই করি না তবু অফিসের বস'রা আমাকে খুব পছন্দ করে। আমি এত সুন্দর করে মিথ্যা বলি, কেউ আমার মিথ্যা ধরতে পারে না। সবাই মনে করে আমি খুব ভালো ছেলে। অফিসে যাকেই আমার ভালো লাগে না, তাকেই বিদায়ের ব্যবস্থা করে দেই। আমি কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। নামাজ পড়তে পড়তে কপালে স্থায়ী কালো দাগ বসে গেছে। যত বদমাইশি করে বেড়াই না কেন- নামাজটা নিয়মিত পড়ি। নামাজ বেহেশতে চাবি। বেহেশতের রাস্তাটা তো ক্লিয়ার রাখতে হবে। বদমাইশির সময় বদমাইশি, নামাজের সময় নামাজ। দু'টাই আমি ঠিক রেখেছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:২১
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
-মোঃ মুসা (গাঙচিল)

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
ঘর কাপলের জোড়া শালিক!
শেষ শিশিরের নরম আলো
তোমার মনে মুখটা একটু ধুইতে দেবে?

তুমি আমার নৌকা বিহীন নদী হবে?
বৈঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×