somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অমীমাংসিত

৩০ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। কুড়ি বছর আগের ঘটনা।
পদ্মা নদীর পাশে ছোট্র একটা গ্রাম আমাদের। পাশের গ্রামে ফুটবল ম্যাচ খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। খেলা শেষ হতে দেরী হয়ে গেল। তখন শীত কাল। মাঘ মাসই হবে। পদ্মা নদীর পাড়ের গ্রাম গুলোতে প্রচন্ড শীত পড়তো। এখকার মতো এত ঘনবসতি ছিল না তখন। খেলা দেখে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা প্রায় শেষের দিকে কিন্তু মনে হচ্ছে গভীর রাত। একা একা বাড়ি ফিরছি। চারপাশে প্রচন্ড কুয়াশা আর অন্ধকার যেন হুট করে নামলো। আলামিন বাজার বায়ে রেখে 'কামার গাও' এর দিকে যাচ্ছি। দুই পাশে জঙ্গল, মাঝখানে সরু পথ। একেবারে নিশুত রাতের মতো নিঃঝুম। শুধু ঝি ঝি ডাকছে।

মাঝ রাস্তায় আসতেই হঠাৎ শুনতে পেলাম খুব কাছ থেকে কে যেন বলে উঠল, 'রাজীব একটু তাড়াতাড়ি যা বাবা।' আমি থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। গলাটা খুব চেনা। আমার বড় মামার গলা। কিন্তু মামা এখানে এই জঙ্গলে আসবে কি করে? তার তো বিছানা থেকে ওঠার'ই সামর্থ্য নেই। আমি চারদিকে চেয়ে দেখলাম, কোথাও কেউ নেই। কঠিন অন্ধকার আর কুয়াশায় ঢাকা। বললাম, কে? কে আপনি? কেউ জবাব দিল না। শুধু একটা পেঁচা ডেকে উঠলো। আর দুইটা বাদূর এক ডাল থেকে আরেক ডালে গিয়ে বসলো। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো আমার। কথাটা স্পষ্ট শুনেছি। ভুল নেই। কিছুক্ষন হাত পা সব কাঠ হয়ে রইল। তারপর হঠাৎ মনে হলো, গলাটা বড় মামার'ই। হয়তো মামা আর বেঁচে নেই। মনে হতেই প্রায় ছুটতে শুরু করলাম।

মাইল খানেক পথ দৌড়ে বাড়ির কাছাকাছি আসতেই কান্নার রোল শুনতে পেলাম। এসে দেখি মামা বেঁচে নেই।

২। বহু বছর আগের কথা। জীবনের প্রথম সিলেট গিয়েছি। সারা সিলেট ঘুরে বেড়াচ্ছি। ঢাকা ফিরে আসার আগের দিন গেলাম মাজারে। সবাই ই যায়- মাজার জিয়ারত করে। দান খয়রাত করে। আমি মাজার টাজার বিশ্বাস করি না। বন্ধুদের সাথে গিয়েছি। চারপাশ মনোযোগ দিয়ে দেখছি। জুতো অন্য জাগায় রেখে- মাজারে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। আমি চুপচাপ এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছি। ২৫/৩০ বছরের এক যুবক আমার পাশে নামাজ পড়ছিল। দেখলাম ছেলেটি নামাজ শেষে মোনাজাত ধরলো। সে বেশ জোরে জোরেই বলল, 'হে আল্লাহ আমার মতো বাপ মা দুনিয়াতে আর কাউকে দিও না। আমি সহ্য করে গেলাম, অন্য কোনো ছেলে মেয়ে যেন এমন বাপ মা না পায়''।
আমরা সবাই আমাদের বাবা মায়ের জন্য সব দোয়া করি। সারাক্ষন তাদের জন্য কিছু করার চিন্তা করি। আর এই ছেলে এমন কথা কেন বলল?

৩। এটা কয়েকদিন আগের কথা। মগবাজার মোড়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। খিলক্ষেত যাবো। হঠাত দেখি, এক ছেলে এক মেয়েকে থাপ্পড় দিচ্ছে। পরপর বেশ কয়েকটা চড় দিয়ে দিল কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। অনেকেই দাঁড়িয়ে দেখছে। কিন্তু কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে গেল না। আমি দৌড়ে গেলাম মেয়েটাকে সাহায্য করার জন্য। মেয়েটা আমার উপর রেগে উঠলো। গরম চোখে আমার দিকে তাকালো। আমি বেশ অপমানিত বোধ করলাম। মেয়েটা আমার উপর এত রাগ দেখালো কেন? আমি তো তাকে সাহায্যের জন্যই দৌড়ে গেলাম। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। ঠিক করেছি সাহায্যের জন্য আর নিজ থেকে এগিয়ে যাব না।

৪। স্বামী বাইক চালাচ্ছে। স্ত্রী পেছনে বসে আছে। পান্থপথ মোড়ের সিগনালে ট্রাফিকের ইশারায় সকল বাস গাড়ি, সিএনজি বাইক থেমে আছে। হঠাত শুনি খুব হই চই। বাসের হেল্পারের সাথে বাইকওয়ালার খুব লেগে গেছে। স্বামী বাইকওয়ালা বাসের হেল্পারকে খুব মারলো। একসময় দেখা গেল পাচ সাতজন মারামারি অংশ গ্রহন করেছে। কে কাকে মারছে কিছুই বুঝতে পারছি না। কে কার সাপোর্ট ক্রছে তাও বুঝা যাচ্ছে না। একসময় আশে পাশের জনতা ক্ষেপে উঠলো। জনতা বলছে বাইকওয়ালা হেল্পারকে বিনা অপরাধে মেরেছে। তখন বাইকওয়ালা তার স্ত্রীকে রেখেই বাইক নিয়ে পালিয়ে গেল। আমি বুঝতে পারলাম না সে তার স্ত্রীকে রেখেই কেন পালিয়ে গেল? এরপর জনতা রেগে মেগে স্ত্রীকে ধরলো। স্ত্রী সমানে কেঁদেই যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৫৭
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বকশিস

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৫

বকশিস
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

খুশি হতে বেশি কিছু লাগে না
যা ভাগ্যে জোটে তাতে সুন্তুষ্ট
হলে মন ভরে উঠে আনন্দে
একদিন বাসে চড়ে ফিরছিলাম ঘরে
ঈদের দিনে, বাসের কন্ডাক্টর
ভাড়া সংগ্রহ করছিল
প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে
অতিরিক্ত ভাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×