
গত একমাস ধরে অদ্ভুত সব সিনেমা দেখছি, যেমন- তামিল, মালায়ালাম, তেলেগু ইত্যাদি। কোনো কোনোদিন একটানা তিনটা মুভিও দেখেছি। চরম বিনোদন। একটুও বিরিক্ত লাগেনি। তবে সুরভি খুব বিরক্ত। সে এতটাই বিরক্ত যে বালিশ নিয়ে পাশের রুমে চলে গেছে। গেছে যাক, আমিও ডাকিনি। আমি সিনেমা শেষ করে চুপ করে ঘুমিয়ে পড়েছি। গত একমাস এরকমই চলেছে। এত এত্ত মুভি দেখে আমার মাথা গেছে ভোঁতা হয়ে। কেমন টাল-টাল লাগে। অদ্ভুত একটা ফিলিংস। চারটা মুভির ঘটনা আজ বলব। তবে ছবির নাম বা নায়ক নায়িকা কে কিছুই জানি না। কিন্তু আমার মুভি বুঝতে কোনো সমস্যা হয় নাই।
১। ছোট একটা বাচ্চা স্কুলে যাচ্ছে গ্রামের পথ ধরে। বাচ্চাটার কাঁধে স্কুলের ব্যাগ, হাতে পানির ফ্ল্যাক্স। বাচ্চাটা তার গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই স্কুলের গাড়ি এসে অন্য বাচ্চাদে নিয়ে চলে যায়। বাচ্চা দূর থেকে দেখল স্কুলের গাড়ি এসে চলে গেল। শেষে বাচ্চাটা মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে পানি টপ টপ করে পড়ছে। টিক এমন সময় একটা লোক পিক-আপ ভ্যান নিয়ে সে বাচ্চা মেয়েটার সামনে থামলো। ড্রাইভার বলল, খুকি কাদছো কেন? কি হয়েছে। মেয়েটা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল, স্কুলের গাড়ি চলে গেছে। ড্রাইভারের খুব মায়া লাগল। সে বলল, খুকি তুমি আমার গাড়িতে আসো। আমি তোমাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি। মেয়েটা গাড়িতে উঠে বসে। ড্রাইভার অন্যপথ দিয়ে গাড়ি নিয়ে যায়। তখন মেয়েটা বলে আমার স্কুল তো এই পথে না। ড্রাইভার বলে- এই পথ দিয়ে তাড়াতাড়ি হবে। মেয়েটা বলে তাহলে ঠিক আছে। এইখান থেকে সিনেমা শুরু---
২। বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়া হয়েছে। ছেলে মেয়েকে আলাদা ভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেয়ে ছেলেকে বলছে- পরিবারের চাপে আমি রাজী হয়েছি কিন্তু আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই না। ছেলে বলল, কেন আমাকে বিয়ে করতে চাও না? আমাদের গ্রামে আমরাই ধনী। আমার বাবা গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান। আশে পাশে দশটা গ্রামে আমাদের অনেক সুনাম। মেয়েটা বলল, আমি চাই আমার স্বামী হবে সেলিব্রেটি। স্বামীকে নিয়ে রাস্তায় বের হলে লোকজন লাইন দিবে সেলফি তোলার জন্য। কিন্তু তুমি তো সেলিব্রেটি না। ছেলেটা খুব মন খারাপ করলো। এই ছেলেই সিনেমার নায়ক।
ছেলে মন খারাপ করে সারাদিন বাসায় থাকলো। বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে বের হলো। সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছে। তখন মাইকে শুনতে পায় স্কুল মাঠে বিশাল সমাবেশ হচ্ছে। শহর থেকে বড় বড় মন্ত্রীরা এসেছেন। খুব জমজমাট অবস্থা। নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন আর হাজার হাজার জনতা তালি দিচ্ছে। ঠিক এমন সময়- তারা আড্ডা রেখে সমাবেশে গেল। নায়ক বন্ধুদের বলল, আমাকে সেলিব্রেটি হতে হবে। বন্ধুরা বলল, তুই থাকিস গ্রামে। গ্রামে সেলিব্রেটি হওয়া যায় না। নায়ক বলল, দ্যাখ কিভাবে সেলিব্রেটি হই। মাটি থেকে একটা ইটার টুকরা তুলে নিয়ে- সরাসরি মন্ত্রীর কপাল ঢিল মারল। ঢিল লেগে মন্ত্রীর কপাল ফেটে রক্ত। পুলিশ এসে নায়ককে ধরলো। একদল সাংবাদিক নায়ক এর ছবি তুলল। সারা দেশের মানুষ তাকে চিনে ফেলল। এইভাবে সিনেমার শুরু-
৩। নায়ক নায়িকাকে বলছে, আমি তোমাকে এখন ভালোবাসি। কিন্তু এই ভালোবাসা সারা জীবন থাকবে না। বড়জোর এক বা দুই বছর। কিন্তু নায়িকা নায়কের কথা কিছুতেই মেনে নিচ্ছে না। নায়িক বলছে আমাকে সারাজীবন ভালোবাসতে হবে।
নায়ক বলছে- না, সম্ভব না।
নায়িকা বলল, ঠিক আছে তুমি আমাকে তিনদিন তোমার সাথে থাকতে দাও।
নায়ক বলল, কেন?
নায়িকা বলল, আমি তোমাকে বুঝতে চাই।
এইবার নায়ক রেগে-মেগে বলল, ও এই কথা। তাহলে চলো আমার সাথে।
নায়ক হেলিকাপ্টার থেকে নায়িকা লাথথি দিয়ে ফেল দিলো। নায়কও সাথে সাথে হেলিকাপ্টার থেকে লাফ দিয়ে নেমে নায়িকাকে বাচায়। এই ভাবে সিনেমার শুরু-
৪। নায়কটাকে মেরে ফেলা হয়। ভিলেন নায়ককে সিনেমা শুরুতেই মেরে ফেলে। ভয়াবহ অবস্থা। নায়িকা খুব কান্না করে। এদিকে নায়ক কিভাবে যেন মরে গিয়ে 'মাছি' হয়ে যায়। জীবন্ত মাছি। সে গাড়ির চেয়ে দ্রুত ছুটতে পারে। নায়ক মাছি হয়েই অদ্ভুত সব কর্মকান্ড করে।মাছি হয়েই নায়িকাকে গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচায়। বেশ কয়েকবার ভিলেনকে মারতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষমেষ অবশ্য গুন্ডাকে মারে। গুন্ডার টাকার গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




