somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সিনেমা

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত একমাস ধরে অদ্ভুত সব সিনেমা দেখছি, যেমন- তামিল, মালায়ালাম, তেলেগু ইত্যাদি। কোনো কোনোদিন একটানা তিনটা মুভিও দেখেছি। চরম বিনোদন। একটুও বিরিক্ত লাগেনি। তবে সুরভি খুব বিরক্ত। সে এতটাই বিরক্ত যে বালিশ নিয়ে পাশের রুমে চলে গেছে। গেছে যাক, আমিও ডাকিনি। আমি সিনেমা শেষ করে চুপ করে ঘুমিয়ে পড়েছি। গত একমাস এরকমই চলেছে। এত এত্ত মুভি দেখে আমার মাথা গেছে ভোঁতা হয়ে। কেমন টাল-টাল লাগে। অদ্ভুত একটা ফিলিংস। চারটা মুভির ঘটনা আজ বলব। তবে ছবির নাম বা নায়ক নায়িকা কে কিছুই জানি না। কিন্তু আমার মুভি বুঝতে কোনো সমস্যা হয় নাই।

১। ছোট একটা বাচ্চা স্কুলে যাচ্ছে গ্রামের পথ ধরে। বাচ্চাটার কাঁধে স্কুলের ব্যাগ, হাতে পানির ফ্ল্যাক্স। বাচ্চাটা তার গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই স্কুলের গাড়ি এসে অন্য বাচ্চাদে নিয়ে চলে যায়। বাচ্চা দূর থেকে দেখল স্কুলের গাড়ি এসে চলে গেল। শেষে বাচ্চাটা মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে পানি টপ টপ করে পড়ছে। টিক এমন সময় একটা লোক পিক-আপ ভ্যান নিয়ে সে বাচ্চা মেয়েটার সামনে থামলো। ড্রাইভার বলল, খুকি কাদছো কেন? কি হয়েছে। মেয়েটা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল, স্কুলের গাড়ি চলে গেছে। ড্রাইভারের খুব মায়া লাগল। সে বলল, খুকি তুমি আমার গাড়িতে আসো। আমি তোমাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি। মেয়েটা গাড়িতে উঠে বসে। ড্রাইভার অন্যপথ দিয়ে গাড়ি নিয়ে যায়। তখন মেয়েটা বলে আমার স্কুল তো এই পথে না। ড্রাইভার বলে- এই পথ দিয়ে তাড়াতাড়ি হবে। মেয়েটা বলে তাহলে ঠিক আছে। এইখান থেকে সিনেমা শুরু---

২। বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়া হয়েছে। ছেলে মেয়েকে আলাদা ভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেয়ে ছেলেকে বলছে- পরিবারের চাপে আমি রাজী হয়েছি কিন্তু আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই না। ছেলে বলল, কেন আমাকে বিয়ে করতে চাও না? আমাদের গ্রামে আমরাই ধনী। আমার বাবা গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান। আশে পাশে দশটা গ্রামে আমাদের অনেক সুনাম। মেয়েটা বলল, আমি চাই আমার স্বামী হবে সেলিব্রেটি। স্বামীকে নিয়ে রাস্তায় বের হলে লোকজন লাইন দিবে সেলফি তোলার জন্য। কিন্তু তুমি তো সেলিব্রেটি না। ছেলেটা খুব মন খারাপ করলো। এই ছেলেই সিনেমার নায়ক।

ছেলে মন খারাপ করে সারাদিন বাসায় থাকলো। বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে বের হলো। সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছে। তখন মাইকে শুনতে পায় স্কুল মাঠে বিশাল সমাবেশ হচ্ছে। শহর থেকে বড় বড় মন্ত্রীরা এসেছেন। খুব জমজমাট অবস্থা। নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন আর হাজার হাজার জনতা তালি দিচ্ছে। ঠিক এমন সময়- তারা আড্ডা রেখে সমাবেশে গেল। নায়ক বন্ধুদের বলল, আমাকে সেলিব্রেটি হতে হবে। বন্ধুরা বলল, তুই থাকিস গ্রামে। গ্রামে সেলিব্রেটি হওয়া যায় না। নায়ক বলল, দ্যাখ কিভাবে সেলিব্রেটি হই। মাটি থেকে একটা ইটার টুকরা তুলে নিয়ে- সরাসরি মন্ত্রীর কপাল ঢিল মারল। ঢিল লেগে মন্ত্রীর কপাল ফেটে রক্ত। পুলিশ এসে নায়ককে ধরলো। একদল সাংবাদিক নায়ক এর ছবি তুলল। সারা দেশের মানুষ তাকে চিনে ফেলল। এইভাবে সিনেমার শুরু-

৩। নায়ক নায়িকাকে বলছে, আমি তোমাকে এখন ভালোবাসি। কিন্তু এই ভালোবাসা সারা জীবন থাকবে না। বড়জোর এক বা দুই বছর। কিন্তু নায়িকা নায়কের কথা কিছুতেই মেনে নিচ্ছে না। নায়িক বলছে আমাকে সারাজীবন ভালোবাসতে হবে।
নায়ক বলছে- না, সম্ভব না।
নায়িকা বলল, ঠিক আছে তুমি আমাকে তিনদিন তোমার সাথে থাকতে দাও।
নায়ক বলল, কেন?
নায়িকা বলল, আমি তোমাকে বুঝতে চাই।
এইবার নায়ক রেগে-মেগে বলল, ও এই কথা। তাহলে চলো আমার সাথে।

নায়ক হেলিকাপ্টার থেকে নায়িকা লাথথি দিয়ে ফেল দিলো। নায়কও সাথে সাথে হেলিকাপ্টার থেকে লাফ দিয়ে নেমে নায়িকাকে বাচায়। এই ভাবে সিনেমার শুরু-

৪। নায়কটাকে মেরে ফেলা হয়। ভিলেন নায়ককে সিনেমা শুরুতেই মেরে ফেলে। ভয়াবহ অবস্থা। নায়িকা খুব কান্না করে। এদিকে নায়ক কিভাবে যেন মরে গিয়ে 'মাছি' হয়ে যায়। জীবন্ত মাছি। সে গাড়ির চেয়ে দ্রুত ছুটতে পারে। নায়ক মাছি হয়েই অদ্ভুত সব কর্মকান্ড করে।মাছি হয়েই নায়িকাকে গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচায়। বেশ কয়েকবার ভিলেনকে মারতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষমেষ অবশ্য গুন্ডাকে মারে। গুন্ডার টাকার গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৬
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×