somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৩

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তুমি যদি রজনীগন্ধা ফুল হতে, তবে তোমাকে আমি রেখে দিতাম-
আমার জানালার পাশে।
সারারাত তুমি গন্ধ ছড়াতে ...আমি ঘুমিয়ে পড়তাম-
তবু তুমি গন্ধ ছড়াতে !


সকাল আটটা।
বাসা থেকে নাস্তা করে আয়রন করা জামা কাপড় পড়ে বের হয়েছি। যাবো উত্তরা। মনে মনে ভাবছি, নিজের জন্য যারা পড়াশোনা করেন তারা সম্মানিত কিন্তু চাকরির জন্য যারা পড়তে চায় তারা দেশের মেরুদন্ডটাকেই নড়বড়ে করে দেয়। বড় রাস্তার মুখে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় দেখি একজন অল্প বয়সী মা তার ছয় মাসের বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই বুঝেছি মা এবং কোলের শিশুটি প্রচন্ড অসহায়। মায়ের চোখে প্রচন্ড দিশেহারা ভাব। মায়ের সাথে কথা বললাম। তাদের থাকার জায়গা নেই। ফুটপাতে ঘুমায়। বাচ্চাটির নাম মানিক। মানিকের বাপ মারা গেছে মানিক পেটে থাকতেই। এখন এই মা তার শিশু সন্তানকে নিয়ে ফুটপাতে থাকে। এই অল্প বয়সী মা ভিক্ষা করার নিয়ম কানুনও কিছুই জানে না। সারা দিনে সে মানিককে কোলে নিয়ে এক শ" টাকাও ইনকাম করতে পারে না। খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে। আমি মানিককে কোলে নিলাম। মানিক বেশ আগ্রহ নিয়েই আমার কোলে এলো। আমি বেশ কয়েকবার মানিক-মানিক বলে ডাকলাম। বাচ্চাটা জানে তার নাম মানিক। আমি যতবার মানিক-মানিক বলেছি বাচ্চাটা হেসে দিয়েছে।


ছবিতে মানিক ও তার মা।

কেউ কি বলতে পারবেন এই ঢাকা শহরে মানিক ও তার মায়ের মতো কত জন আছে? অথবা সমস্ত বাংলাদেশে কত মানিক ও তার মা আছেন? এই দেশের সমস্ত মানিক আর মানিকদের মা'দের গল্প প্রায় একই রকম। অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে। পেটে বাচ্চা এসে গেছে, স্বামী পালিয়ে গেছে, অথবা ছেড়ে চলে গেছে। থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তারা জানেই না দেশে সরকার আছে। এবং তাদের সহযোগিতা করার জন্য মন্ত্রনালয় পর্যন্ত আছে। সমস্ত দেশে ধরে নিচ্ছি এরকম মানুষের সংখ্যা তিন লাখ। এই তিন লাখ মানূষের দ্বায়িত্ব কে নিবে? অবশ্যই সরকার। আচ্ছা, সরকার এদের জন্য কি কি করেছে? আমাদের দেশে 'মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়' (Ministry of Women and Children Affairs) আছে। এরা সম্ভবত দরিদ্র মহিলা ও শিশুদের জন্য কাজ করে থাকে। আমি আজ মানিকের মা-কে বললাম মগবাজার-ইস্কাটনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার জন্য। সেখানে গেলে সে সরকারের পক্ষ থেকে উপকার পাবে, সাহায্য পাবে। কিন্তু মানিকের মা আমার কথা সম্ভবত বিশ্বাস করেনি।

আমি নিজেই গেলাম মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। সেখানে দেখলাম তারা বিশাল গেট করেছে। ডিজিটাল সাইন বোর্ড করেছে। তাদের উন্নয়নের কর্মকান্ড লিখে রেখেছে। (পোষ্টের শুরুতেই উপরের ছবিটা লক্ষ করুন) তারা কি কি কাজ করেছে সব লেখা আছে। বেশ কিছু ছবিও আছে। তারা যদি সত্যি সত্যিই নারী ও শিশুদের জন্য এত-এত কাজ করে থাকে তাহলে রাস্তায় রাস্তায় যারা সারাদিন ঘুরে বেড়ায় আর ভিক্ষা করে তারা কারা? অন্যান্য সরকারী অফিস যেরকম, এটাও সেরকম। কেউ কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারে না। আমি ওদের কথা মতো এক টেবিল থেকে আরেক টেবিল ঘুরতে থাকলাম। এই টেবিলে গেলে, সে আরেক টেবিলে পাঠায়। আরেক টেবিলে গেলে সে আরেক টেবিলে পাঠায়। কোনো কোনো টেবিল খালি। ছুটিতে আছে। একজন আমাকে ডেকে বলল- কি মিয়া ভাই মেলার জন্য স্টল দিতে চান? আমি সব ব্যবস্থা করে দিতে পারি।

পৃথিবীতে তথা আমাদের দেশে কে কেমনভাবে বেঁচে আছে তা নিয়ে বহুকাল আমি সত্যিকারের মাথা ঘামাইনি। দুঃখ-দুর্দশায় নাভিশ্বাস ওঠা এই দেশে যে আমি নিজে সপরিবারে খেয়ে এবং মোটামোটি সুখেই থাকতে পারব এটা বুঝেই এতদিন তৃপ্ত ছিলাম। মাঝে মাঝে দরিদ্র মানুষকে সাহায্য দেওয়া, সমবেদনা বোধ করা এবং মানুষের জন্য কিছু করা উচিত বলে ভাবা, এছাড়া আর কিছু করার ছিল না আমার। সকালে বাস স্ট্যান্ডে অনেকক্ষন আজ দেশের মানুষজন নিয়ে ভাবলাম। বুকের মধ্যে কেমন একটা চাপ-চাপ কষ্ট হলো। মরেই যদি যাই- তাহলে পৃথিবীর আরও কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হোক। সারা পৃথিবীতে হাতে গোনা অল্প কিছু মানুষের সঙ্গেই আমার পরিচয় হয়েছে, অথচ পৃথিবীতে কত কোটি কোটি মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫২
২৬টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতীক্ষায় আছি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫০

প্রতীক্ষায় আছি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে মোবাইল নম্বর নিয়েছে
কল দিবে বলেছে
প্রতীক্ষায় আছি কখন কল আসবে
অস্থিরতা কাজ করছে প্রতিমুহূর্তে
সে পাশে আসলে দেখব রোজ ভোর
তার প্রশ্নে আমি বিমোহিত!
কারণ ইচ্ছেগুলো আমার প্রত্যাশিত
তাকে দেখে, শুনে শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×