
১। তুমি কখনো ভূত দেখেছো? অনেকেই এই প্রশ্নটা করে। তখন আমি এই গল্পটা শুনিয়ে দেই-
খুব দেখেছি, তাহলে ঘটনাটা শুনুন-
সে কথা মনে হলে আজও গায়ে কাটা দেয়। পাশের গ্রামে সেবার দূর্গা পূজোর সময় যাত্রাপালা হয়েছিল। খুব নামকরা দলের যাত্রাপালা। পালা শেষ হতে-হতে রাত দুটো বেজে গেল। আমরা তিনজন মিলে ফিরছিলাম। পথ একেবারে সুনসান। আমার সাথের দুজন বটতলার কাছে এসে অন্য দিকে চলে গেল। আমি একা। তালুকদার বাড়ির পুকুরের ধার বরাবর রাস্তা দিয়ে হাটছি। চারপাশে নানান রকম গাছপালা বাতাসে দুলছিল। কেমন শন শন একটা শব্দ। সুন্দর জোছনা রাত। তবে এ জায়গাতে দিনের বেলাও খুব বেশি লোক চলাচল করে না। বহু বছর আগে এখানে একটা খুন হয়েছিল। খুন হয়ে যাওয়া লোকটাকে নাকি এখানে প্রায়ই দেখা গেছে। আমি আপন মনে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে হাটছিলাম। হঠাৎ সামনে দেখি একটা লোক নিচু হয়ে কি যেন খুঁজছে!
আমি সামনে গিয়ে বললাম- কে ওখানে? কেউ জবাব দিল না।
তখন আমি বললাম, কিছু হারিয়ে থাকলে তো আর এই রাতে খুঁজে পাবেন না। আপনাকে দিনের বেলা আসতে হবে। এখন বাড়ি চলে যান, সকালে এসে খুঁজবেন। আপনি কোন বাড়ির?
তখন লোকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকালো। বিড়বিড় করে যেন কি বলছে। খুব ভয় পেলাম। প্রচন্ড ভয় পেলাম। ইচ্ছা করলো ঝেড়ে দৌড় দেই। কিন্তু হাত পা শক্ত হয়ে গেল। আমি একটুও নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছে আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো। ঠিক তখন দেখতে অদ্ভুত লোকটা মুহুর্তের মধ্যে বাতাসে মিলিয়ে গেল।
আমি আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে আর ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরে আসি। বাড়ি ফিরে প্রচন্ড জ্বরে পড়ি। টানা সাত দিন বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়েছিল।
২। মনে হচ্ছে আমি এক নিষ্কর্মা মানুষ। সারাদিন অকাজ করে যাচ্ছি। দুনিয়াতে যারা বড় মানুষ তারা মনে হয় বিশ্বকর্মা। তারা কত কী ভাবছে আর করে ফেলছে। সেই জন্যই তো দুনিয়াতে কত অশৈলী কান্ড ঘটছে। আকাশে এরোপ্লেন উড়ছে, চাঁদে মানুষ যাচ্ছে, মঙ্গলে যাছে। নতুন নতুন ডিভাইস মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে দিয়েছে। ওসব তো আমার মতো বোকা মানুষের কর্ম নয়। মনে হচ্ছে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে বেঁচে আছি। নাড়ী চলছে, বুক ধুক ধুক করছে, খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি। আমি থাকলেই কি, গেলেই কি। দুনিয়ার লাভও নেই, লোকসানও নেই।
৩। আমার যখন খুব রাগ হয়- তখন আমি এলোমেলো হাঁটি।
খুব হাঁটি। প্রচন্ড জোরে জোরে হাঁটি। রাগ কমা না পর্যন্ত হাটতেই থাকতাম। এই হেঁটে হেঁটে দুইটা রেকর্ড করেছি। একবার হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম এয়ারপোর্ট। আরেকবার মিরপুর। ভেবে দেখুন- খিলগা থেকে এয়ারপোর্ট, মিরপুর। এখন রাগ হলে হাঁটি না। আসলে হাঁটতে পারি না। খুব ক্লান্ত লাগে। চুপ করে বসে থাকি ঘন্টার পর ঘন্টা। খুব ছোটবেলা রাগ হলে- ছাদে চলে যেতাম। পানির টাংকির উপর চুপ করে বসে থাকতাম। সারাদিন ছাদে পার করে দিতাম। বাবা মা খুজেও পেত না। ছাদে ডিব্বার মধ্যে মুড়ি আগে থেকেই রেখে দিতাম। মুড়ি খেতাম। টাংকির কল থেকে ডক ডক করে পানি খেতাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



