
খুব সুন্দর পরিবেশে ভোট দিয়ে এলাম।
আমি ঢাকা- ৮ নং আসনের ভোটার। প্রার্থী হলেন- মির্জা আব্বাস ও রাশেদ খান মেনন। প্রায় কুড়ি মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার কেন্দ্র ছিল 'শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়'। বিএনপি'র মির্জা আব্বাসও এ কেন্দ্রের ভোটার। আজ সম্ভবত আব্বাস সাহেব ভোট দেন নি। কারন তার ভোটাররা নাকি ভোট দিতে পারছেন না। কাগজে নাকি কি সব ঝামেলা। লক্ষ্য করে দেখলাম- মানুষজন বেশ আগ্রহ নিয়েই ভোট দিচ্ছেন। বেশ কয়েকটা কেন্দ্র ঘুরলাম। কেন্দ্র গুলোতে বেশ ভিড়। আমার পকেটে মোবাইল ছিল। সাউন্ড বন্ধ করে রেখেছিলাম।

দেখলাম একদল সাংবাদিক মির্জা আব্বাসকে ঘিরে আছেন।
তারা বেশ ফুরফুরা মেজাজে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের দায়িত্ব বেশ ভালোভাবে পালন করছে। প্রচুর পুলিশ, আনসার। যাই হোক, ভোট কেন্দ্রে একজন আঙুলে কালি দিয়ে দিল। তারপর অনেক গুলো মার্কাসহ এক একটা লম্বা কাগজ দিল। পর্দার আড়ালে গেলাম। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নৌকা, ধানের শীষ সহ আরও কয়েকটা মার্কা ছিল। দিয়ে দিলাম একটা মার্কার উপর সীল। তারপর কাগজ ভাজ করে বাক্সে ফেলে দিলাম। সব মিলিয়ে ৩৫ সেকেন্ড সময় লাগলো। ঝামেলাবিহীন ভোট দিলাম।

পরীও গিয়েছিল আমার সাথে ভোট দিতে।
মেয়ে খুব খুশি। মেয়ে বলে, 'বাবা সমস্যা নাই। মোবাইল আমার কাছে রাখব। তুমি ভোট দিয়ে আসো।' আমার ভোট খুব সুন্দর ভাবেই দিলাম। সমস্যা সুরভিকে নিয়ে। সে আবার মিরপুরের ভোটার। এখন মিরপুর যাবো কি করে? রাস্তায় যানবাহন বলতে আছে শুধু রিকশা। খিলগা থেকে মিরপুর অনেক দূর। ভোট দেওয়ার জন্য বিকেল চারটা পর্যন্ত হাতে সময় আছে। দুপুরে খেয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।

সবাইকে দেখছি- ভোট দিয়ে এসে ফেসবুকে ছবি দিচ্ছে।
আমিও ফেসবুকে ছবি দিলাম। চারিদিকে বেশ উৎসব উৎসব ভাব। কিন্তু নেতা কর্মীদের মুখ বেশ ভার-ভার। মোবাইলে কি নেট বন্ধ নাকি? শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংঘটিত হচ্ছে সুন্দর সুশৃঙ্খল ভাবে! বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে! আস্তে আস্তে পুরো দেশেই ভোট প্রদান করা হবে ইভিএম এ! অন লাইনে প্রার্থীর পরিচিতি আসবে! জানবো তাঁর লেখা-পড়া, তাঁদের কর্মকাণ্ড, তাঁদের সম্পত্তি অস্থাবর-স্থাবর, তাঁদের গুণাগুণ! আর এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন!
আজকের সফলতা আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ!!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




