
গতকাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছি।
সুরভি আর আমি গল্প করতে-করতে রাত দুইটা বেজে গেছে। ভোরে ঘুম ভেঙ্গেছে দাদাকে স্বপ্নে দেখে। স্বপ্নে দেখি- বিশাল বড় একটা বাড়ির, বিশাল বারান্দায় কাচের মতো স্বচ্ছ রোদে ভেসে যাচ্ছে। এত বড় বারান্দায় আর কেউ নেই। চারিদিক কেমন ভয়করা নির্জন। সবচেয়ে বড় আশ্চর্য, বারান্দাটার শেষ নেই। আমি হাঁটছি তো হাঁটছিই। বারান্দা আর শেষ হয় না, ভীষন করছিল আমার। মনে মনে ভাবছি- এত বড় বারান্দা কে বানালো! হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন বলল, যা না, আরও যা, একসময় শেষ হবে ঠিকই।
কে বলল কথাটা? মুখ ঘুরিয়ে দেখি, আমার দাদাজান। তেমনই ফরসা টকটকে রঙ, তেমনি মোস্ত গোঁফ, তেমনি সুন্দর! ঠিক এমন সময় এক বন্ধুর ফোন। ঘুম ভেঙ্গে গেল। ওই বন্ধু আবার আরও দুই জনকে নিয়ে এসেছে আমার বাসায়। ওরা নির্বাচনের কাজে এসেছে আমার বাসার কাছে। তিনজনই ফোটোসাংবাদিক। আমার বাসার ওয়াইফাই ব্যবহার করবে। অফিসে ছবি পাঠাবে। সুরভি খুব তাড়াহুড়া করে সবার জন্য নাস্তা বানালো।
গেস্ট বিদায় নিল। আমি বের হলাম ভোট দিতে।
বেশ কয়েকটা কেন্দ্র ঘুরে বেড়ালাম। দোকানপাট সব বন্ধ। অফিস আদালত বন্ধ, রাস্তাঘাট সব ফাঁকা। সমস্যা হলো- রাস্তার পাশে কোনো চায়ের দোকান নেই। এদিকে মেয়ে বায়না ধরেছে তাকে একুরিয়াম কিনবে। মাছ চাষ করবে। দোকান তো সবই বন্ধ। তবু কাটাবন গেলাম মেয়েকে নিয়ে। সব দোকান বন্ধ। মেয়ের মন খারাপ। আমি বললাম, মন খারাপ করার কিছু নাই। বিকেলে একটা কিছু ব্যবস্থা করবো। চলো বাসায় যাই। অনেক ক্ষুধা পেয়েছে। গোছলও করা হয়নি। মেয়ে বলল, একুরিয়াম সন্ধ্যার মধ্যে পেলেই হলো। দুপুরে খেয়ে ছাদে গেলাম। গাছের সেবা যত্ন করতে। পেয়ারা গাছে অনেক গুলো পেয়ারা ধরেছে।
মাস শেষ। ফ্রিজ খালি।
বিকেলে খুব জরুরী কিছু বাজার করতে গেলাম। বাজারের বেশির ভাগ দোকানই বন্ধ। চা-পাতা আর দুধ নিয়ে বাসায় ফিরলাম। সুরভিকে বললাম, রাতে ডিম ভাজি, আলু ভর্তা আর ডাল ভর্তা করো। মেয়েকে নিয়ে বের হলাম। ভাগ্য ভালো একটা একুরিয়ামের দোকান পেয়ে গেলাম। মেয়ে নিজেই পছন্দ করে একটা কাঁচের ঝার কিনলো। দুই জোড়া গোল্ড ফিশ নিলো। দোকানদার খুব বেশি দাম রাখলো। চারটা মাছ আর ছোট্র একটা ঝারের দাম নিল- ৭০০ টাকা। কিছুতেই এত টাকা নেওয়ার কথা না। অন্য দোকানপাট সব বন্ধ। সুযোগ পেয়েছে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করলো। টাকা বেশি নিয়েছে তাতে দুঃখ পাইনি। মেয়ে সীমাহীন খুশি হয়েছে। মেয়ের খূশিতে আমিও সীমাহীন খুশি।
আজ নির্বাচন কেন্দ্রীক ফেসবুকে অনেক রকম ছবি দেখলাম। এর মধ্যে থেকে দীপুমনির এই ছবিটি বেশ লাগলো।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




