somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৫

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জাহেদ ভাইকে আমি চিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে।
খুব ভালো মানুষ। বিয়ে করেছে পাঁচ বছরের বেশি সময় হয়েছে। তাদের কোনো বাচ্চা-কাচ্চা নেই। জাহেদ ভাইয়ের বউ সুমি। সুমিও ভাবীও বেশ প্রানবন্ত চমৎকার একজন মানুষ। হাসি খুশি সুন্দর একটি পরিবার। আমি জাহেদ ভাইয়ের বাসায় গেলে অবাক হই- সুমি ভাবী বাসাটা এত সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রেখেছে যে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। জাহেদ একটা চাকরি করে। বেতন খুব বেশি নয়। তবে সে যে টাকা বেতন পায় সেই টাকা দিয়ে তাদের দু'জনের বেশ ভালো ভাবেই চলে যায়। কিন্তু ইদানিং তাদের সংসারে অশান্তি দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড অশান্তি। জাহেদ আমার বন্ধু মানুষ। সে তার সব কিছুতেই (ভালো-মন্দ) আমাকে ডাকে। আমার স্বভাব হলো- আমি কারো বিপদে আপদে কিছু করতে পারি আর না পারি, তাদের পাশে থাকতে পারি।

আমি গেলাম জাহেদ ভাইদের বাসায়।
ছোট্র দুই রুমের বাসা। দুই রুমে দু'জন বসে আছে। আমি দু'জনকে ডেকে এক রুমে আনলাম। আগে আমি সুমী ভাবীর বক্তব্য শুনতে চাইলাম। ভাবী আমাকে বললেন, সে জাহেদকে ছেড়ে চলে যাবে। একেবারে চলে যাবে। ডিসিশান ফাইনাল। কারন তাদের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর হলো কিন্তু জাহেদ কোনো বাচ্চা নিতে চায় না। সে বলে, দরিদ্র দেশে, দরিদ্র বাপ মায়ের বাচ্চা নিয়ে বিলাসিতা করা ঠিক না।
জাহেদ বলল, সে এই নোংরা সমাজে কোনো বাচ্চা আনতে চায় না। জাহেদের শেষ কথা- এই বাজে সমাজে একটা বাচ্চা এনে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না। যদি এটা ইউরোপ হতো তাহলে চোখ বন্ধ করে বাচ্চা নেওয়া যেত।
আমি বললাম, এই সমাজে অলরেডি যাদের বাচ্চা আছে? অথবা যারা নতুন বিয়ে করছে এবং সন্তানের অপেক্ষায় আছে। তারা কি করবে?
জাহেদ বলল, সেটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আর বিয়ে করলেই বাচ্চা নিতে হবে এটা আমি মানি না। সমাজের রি বাজে নিয়মটা বদলানো দরকার। খুব দরকার।

আমাদের তিনজনের মধ্যে তুমুল আলাপ আলোচনা চলছে।
সুমী ভাবী বললেন, বিয়ের পর থেকে কোথাও গেলেই পরিচিত-অপরিচিত সবাই জানতে চায়- বাচ্চা নেই? কেন নেই? সমস্যা কার? তোমার? না স্বামীর? এই কথা শুনতে শুনতে আমার ঘৃণা ধরে গেছে। অথচ সমস্যা আমারও নেই। আমার স্বামীরও নেই। একটা বাচ্চা নিলে সমস্যা কি? বাচ্চা তো আমি লালন-পালন করবো। কত শখ আমার নিজের একটা সন্তান হবে আমার। আমি আদর ভালোবাসা দিয়ে বড় করবো, খাওয়াবো, গোছল করাবো, ঘুম পারাবো।
জাহেদ সহজ সরল গলায় বলল, এই সমাজে আমি নিজে চলতে পারি না। পদে পদে আমাকে ঠকতে হয়। এক কথায় আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ করি। এখন আমি এই নিষ্ঠুর সমাজে একটা শিশু এনে কষ্ট দিতে চাই না। তাছাড়া আমি যদি কোটি কোটি টাকার মালিক হতাম তাহলে সন্তান নিতাম। টাকা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করা যায়। এই সমাজ দুষ্টলোকদের সমাজ। এখানে ভালো মানূষদের জায়গা নেই। আমি যেমন কষ্ট করে চলছি, সন্তান নিলে সেও আমার মতোন কষ্ট করে চলবে? নিজের সন্তানের দুঃখ কষ্ট আমার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব না।

যখন কেউ কাউকে বুঝতে পারে না, তখনই সমস্যা শুরু হয়।
সুমি ভাবী বললেন, একটা রিকশাওয়ালারও দুইটা-তিনটা বাচা আছে। রাস্তার পাশে সবজি বিক্রেতারও বাচ্চা কাচ্চা আছে। তাহলে তারা তাদের সন্তানকে কিভাবে এই সমাজে মানুষ করবে?
জাহেদ বলল, তাদের সন্তান আর সংসার নিয়ে তারা ভাববে। আমি চিন্তা করবো- আমার সংসার নিয়ে। আমাদের দেশে কম করে হলেও ৩২ লাখ দম্পত্তির বাচা নেই। তারা বেঁচে আছে না। কি দরকার এই দরিদ্র দেশে বাচ্চা এনে? তাকে ভালো একটা স্কুলে পড়াতে পারবও না। ভালো খাওয়াতে পারবো না। উন্নত জীবন যাপনের কিছুই দিতে পারবো না। তাই আমি সন্তান নিবো না। বাশি থাকবে না, বাশি বাজবেও না। সন্তান ছাড়াই আমি বেশ ভালো আছি। আমার কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তাছাড়া আমার ভাই বোনদের বাচ্চা কাচ্চা আছে। ওদের আমি নিজের সন্তানের মতোন করেই আদর করি। জাহেদ বেশ জোরের বলল, সুমী আবেগটাকে কন্টোল করো। আমি তোমাকে প্রচন্ড ভালোবাসি।

এই সমাজে যারা খারাপ কাজ করে তারা কাদের সন্তান?
সব বাপ মা'ই সন্তান জন্ম দিয়ে ভাবে- আমার ছেলে ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে, পাইলট হবে। একজন ভিক্ষুকও ভাবে তার সন্তান বড় হয়ে বিরাট ব্যবসায়ী হবে। আসলে কোনো বাপ মা'ই চায় না তাদের সন্তান খারাপ হোক। কিন্তু দিন শেষে দেখা যায়- এক সময়ের ছোট্র শিশু বড় হয়ে চোর হয়, ছিনতাইকারী হয়, দূর্নীতিবাজ হয়, ধর্ষনকারী হয়, দালাল হয়, ধান্ধাবাজ হয়, নেশাগ্রস্ত হয়। এগুলো তো মিথ্যা নয়। এই সমাজে দশ জনের মধ্যে নয় জনই দুষ্টলোক। এই এত এত দুষ্টলোকের মাঝে জাহেদ নতুন একটা শিশু আনতে চায় না। আমার মনে হয় জাহেদ রাইট। সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো ঘটনা না। কিন্তু এই সমাজে সন্তানকে সঠিকভাবে মানুষ করা খুব কঠিন। বিশেষ করে এই নোংরা সমাজে। আসলে একটা শিশুকে উন্নত জীবন না দিতে পারলে সেই শিশুকে পৃথিবীতে এনে লাভ নাই। জন্ম দেওয়ার পর শিশুর খাওয়া দাওয়া, শিক্ষা আর চিকিৎসার জন্য মানূষের কাছে হাত পাততে হয়? তাহলে একটা শিশু পৃথিবীতে আনার কোনো দরকার নাই। সব শিশু তো আর ধনীর ঘরে জন্ম নেয় না। সব বাবা মা ধনী নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:০৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবুজের মাঝে বড় হলেন, বাচ্চার জন্যে সবুজ রাখবেন না?

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৯:১৮

যাদের বয়স ৩০এর বেশি, তারা যতনা সবুজ গাছপালা দেখেছে শৈশবে, তার ৫ বছরের কম বয়সী শিশুও ১০% সবুজ দেখেনা। এটা বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা।



নব্বয়ের দশকে দেশের বনভূমি ছিল ১৬... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে লীগ আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে জামাত

লিখেছেন আরেফিন৩৩৬, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৯:৪৬


বাংলাদেশে রাজনৈতিক ছদ্মবেশের প্রথম কারিগর জামাত-শিবির। নিরাপত্তার অজুহাতে উনারা এটি করে থাকেন। আইনী কোন বাঁধা নেই এতে,তবে নৈতিক ব্যাপারটা তো অবশ্যই থাকে, রাজনৈতিক সংহিতার কারণেই এটি বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালির আরব হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা!

লিখেছেন কাল্পনিক সত্ত্বা, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:১০



কিছুদিন আগে এক হুজুরকে বলতে শুনলাম ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নাকি তারা আমূল বদলে ফেলবেন। প্রধানমন্ত্রী হতে হলে সূরা ফাতেহার তরজমা করতে জানতে হবে,থানার ওসি হতে হলে জানতে হবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেকালের পাঠকপ্রিয় রম্য গল্প "অদ্ভূত চা খোর" প্রসঙ্গে

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:৪৩

সেকালের পাঠকপ্রিয় রম্য গল্প "অদ্ভূত চা খোর" প্রসঙ্গে

চা বাগানের ছবি কৃতজ্ঞতা: http://www.peakpx.com এর প্রতি।

আমাদের সময় একাডেমিক পড়াশোনার একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল। চয়নিকা বইয়ের গল্পগুলো বেশ আনন্দদায়ক ছিল। যেমন, চাষীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাসের কি প্রমাণ আছে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩১



এক অবিশ্বাসী বলল, বিশ্বাসের প্রমাণ নাই, বিজ্ঞানের প্রমাণ আছে।কিন্তু অবিশ্বাসের প্রমাণ আছে কি? যদি অবিশ্বাসের প্রমাণ না থাকে তাহলে বিজ্ঞানের প্রমাণ থেকে অবিশ্বাসীর লাভ কি? এক স্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×