
আজ শুক্রবার।
প্রতি শুক্রবার কোনো কারন ছাড়াই আমার খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে আমি মনে মনে ভেবে রাখি- আগামীকাল অনেকবেলা পর্যন্ত ঘুমাবো। কিন্তু না, ঘুম ভেঙ্গে যায় খুব ভোরে। অগত্যা বিছানা ত্যাগ করি। ছাদে যাই। ছাদে কিছু গাছ পালা আছে, সেগুলোর সেবা যত্ন করি অনেক সময় নিয়ে। শুক্রবার সকালে আমরা হোটেলের নাস্তা খাই, মুভি দেখি, খুব গল্প করি- এটা আমাদের অলিখিত নিয়ম। পরী ও পরীর মা দেরী করে ঘুম থেকে ওঠে। সকালে হোটেলের নাস্তা খেলেও চা-টা বাসায় খাই। যাই হোক, বাসার সামনেই একটা সবজি বিক্রি করার দোকান আছে। সেখান থেকে অনেক রকমের সবজি কিনলাম। বুয়া আজ আসেনি। লাল শাক কিনেছি। চিংড়ী মাছ দিয়ে লাল শাক ভাজি আমার খুব ভালো লাগে।

শুক্র ও শনি দুইদিন পরী'র আর্ট ও আবৃত্তি ক্লাশ থাকে।
আজ সে বায়না ধরেছে আমি যেন তাকে নিয়ে যাই ক্লাশে। দুপুরে তাড়াহুড়া করে খেয়ে আমরা তিনজন গেলাম পরীর আর্ট স্কুলে। পরী লেখা পড়ার ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। এদিকে আজ প্রধানমন্ত্রী বইমেলা উদ্বোধন করবেন। ট্রাফিক পুলিশ রাস্তা আটকে রেখেছে অনেকক্ষন ধরে। আমরা লম্বা সিগনালে বসে আছি। মেয়ের মন খারাপ, তার ধারনা আজ সময় মতো সে ক্লাশে যেতে পারবে না। আমি মেয়েকে ভরসা দিলাম- আমি আছি কোনো চিন্তা করো না। সময় মতো ক্লাশে যেতে পারবে। যাই হোক, মেয়ে ক্লাশে গেল। আমি আর সুরভি গাছের নিয়ে বসলাম। নানান বিষয় নিয়ে গল্প করলাম পুরোনো দিনের মতোন। বাদাম-বুট খেলাম। পরী'র প্রথমে আর্ট ক্লাশ এক ঘন্টা। তারপর আবৃত্তি ক্লাশ এক ঘন্টা। দুই ঘন্টা আমি আর সুরভি খুব গল্প করলাম।

শিশু একাডেমিতে আর্ট এক্সিবিশন চলছিল।
ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদের আঁকা ছবি দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ছবি প্রদর্শনী দেখলাম। সব মিলিয়ে সময়টা ভালোই কেটেছে। এর আগে আমি একদিনও মেয়েকে নিয়ে আর্ট স্কুলে যাইনি। আজই প্রথম। একবার ভাবলাম কাছেই বইমেলা। যাই ঘুরে আসি। কিন্তু যাইনি। পরে যাবো। সারা মাস পড়ে আছে। এইভাবেই আজ হেসে খেলে একটি দিন পার করে দিলাম। এই পোষ্ট দেখে অনেকে হয়তো বলবেন- ব্লগটাকে আমি ফেসবুক বানিয়ে ফেলেছি। ছিঃ ছিঃ করবেন। তাদের কাছে আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। প্লীজ রাগ করবেন না। আজকের মতো পোষ্ট এই খানেই শেষ। খোদা হাফেজ। আজ ছবি যখন দিয়েছি- আরো কয়েকটা ছবি দিয়ে দিলাম। হা হা হা--- সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন এই দোয়া করি।




অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

