
চালাক আর বুদ্ধিমান শব্দটা একরকম না।
চালাক মানে চালাকি যা মোটেও ভালো নয়। আর বুদ্ধিমান শব্দটা ভালো। বুদ্ধি মানুষের দরকার আছে। কামাল অনেক চালাক। কিন্তু বুদ্ধিমান নয়। এই কামাল লোক দেখানো নামাজ পড়ে। লোক দেখানো কাজ কারবার আমার খুব অপছন্দ। আমি নিজের চোখে দেখেছি, কামাল চাকরি পাওয়ার পর অফিসে নিয়মিত নামাজ পড়তো। প্রথম একমাস সে নামাজ পড়েছে। এরপর চাকরীটা যখন পাকাপোক্ত হয়ে গেল সে নামাজ পড়া ছেড়ে দিল। আমি নিজে বলেছি কামাল ভাই নামাজ পড়বেন না। যান নামাজে যান। সে নামাজ পড়েনি। আজিব ব্যাপার। যদিও কামালদের মতো মুসলমানদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
এক বছর পরের ঘটনা।
কামাল প্রচন্ড ফাঁকিবাজ। এবং বিরাট বদ। কাজ না করেই মাস শেষে বেতন নেয়। কিন্তু এমন ভাব দেখায় যে, সে কাজ করে সব উলটে দিয়েছে। কিন্তু এক বছর পর অফিস বুঝতে পারে কামাল তো বিরাট ভন্ড। তখন তার চাকরী যায় যায় অবস্থা। ঠিক এরকম সময় কামাল আবার নামজ পড়া শুরু করলো। আযান দিতে দেরী তার নামাজে যেতে দেরী না। আমি বলি ভাই আবার নামাজ পড়া শুরু করলেন? কোনো বিপদ আপদ এসেছে নাকি? শাহেদ চুপ। আমি বললাম, নামাজ পড়লে সব সময় পড়বেন। লোক দেখানো নামাজ পড়ার দরকার কি? আসলে অফিসের সিইও স্যার নামাজ পড়েন। কামাল তাকে দেখানোর জন্যই নামাক পড়তো। সিইও যেন ভাবে আরে কামাল ছেলেটা তো বড্ড ভালো। খুব নামাজী।
কামাল দুই হাতে টাকা উড়ায়।
আমি খুব অবাক। এটা কিভাবে সম্ভব? অথচ তার বাবা জমিদার নয়। অফিসে আসার তিন দিন পর সে কমপক্ষে সাত জনের কাছ থেকে টাকা লোন নিয়েছে। কিন্তু এখন সে এত টাকার মালিক কিভাবে হলো? অফিস থেকে সে নানান দুই নম্বরী করে খুব অল্প সময়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়। কামালের ধারনা ছিল অফিস জানবে না কোনো দিন। কিন্তু ঘটনা চক্রে অফিস জেনে যায়। প্রতিমাসে কামাল পার্টিকে দিবে বলে অফিস থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। আসলে কামাল সেই টাকা পার্টিকে দিত না। জাল কাগজ বানিয়ে অফিসে দিয়ে দিত। এক বছর পর পার্টি একদিন অফিসে ফোন দিয়ে ঘটনা ফাঁস করে দেয়। এরপর কামাল অফিস থেকে পলাতক।
কামালের সাথে আমার দেখা মহাখালীতে।
আমি বললাম, ভাই চাকরীটা হারালেন। আবার মান সম্মানও গেল। কামাল বলল, এটা কোনো ব্যাপার না। বিরাট অফিস, ওদের কাছ থেকে কিছু টাকা না হয় নিয়েছি তাতে ওদের কিচ্ছু হবে না। ওদের টাকার অভাব নাই। আমি তো দরিদ্র মানূষের টাকা মেরে খাই নাই। ধনী লোকের টাকা মেরেছি। রবিন হুড কি করতো ভুলে গেছেন? এর আগেও আমি একটা বড় কোম্পানীতে কাজ করেছি। মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভেগেছি। আর কোনো প্রতিষ্ঠানেই আমি এক বছরের বেশী দিন কাজ করি না। আর অফিসও আমার ঠিকানা কোনোদিন খুজে পাবে না। কারন অফিসে জমা দেওয়া কাগজপত্র সব ভুয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




