
ছোটবেলা থেকেই আমি হতে চেয়েছিলাম ফায়ারম্যান।
সবাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট ইত্যাদি হতে চাইতো। আমি এসব কিছুই হতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম ফায়ার সার্ভিসে কাজ করবো। অসহায় মানূষের সেবা করবো। কোথাও আগুন লাগলে নিজের জান-জীবন দিয়ে মানুষদের বাঁচাবো। অসংখ্য বার আমি স্বপ্নে দেখেছি, আগুন লেগেছে। দাউ দাউ আগুন। আমি আগুনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষদের বাঁচাচ্ছি। কিন্তু আমি ফায়ার সার্ভিসে চাকরী পাইনি। আপনারা ভাবছেন, আমি চেষ্টা করিনি। খুব চেষ্টা করেছি। খুব। যাই হোক, এখন কোথাও আগুন লাগলে, টিভিতে দেখি। আর আফসোস করি। আমার খুব ইচ্ছা করে ছুটে যেতে ওই আগুনের মধ্যে।
গতকাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছি।
একটা মুভি দেখলাম। হিন্দি মুভি। নাম- রোড। ফালতু মুভি। ফালতু মুভি শেষ করে তারপর পড়তে বসলাম। হুমায়ূন আহমেদের ছোট গল্প সমগ্র থেকে বেছে বেছে দশটা ছোট গল্প পড়লাম। যদিও এ গল্প গুলো আগে অসংখ্যবার পড়েছি। হঠাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত তিনটা বেজে গেছে। সুরভি বাসায় নেই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে। আমি গিয়ে তাকে নিয়ে আসবো- এমনটাই কথা হয়ে রয়েছে। সকালে শ্বশুরের ফোনে ঘুম ভাঙল। উনি জানতে চাইলেন আমি কখন আসবো? আর কি কি খাবো? আমি বললাম, দেশী মাছ। আর সাদা ভাত। উনার বাসায় যাওয়ার কথা থাকলে- প্রতিবারই উনি জিজ্ঞেস করেন আমি কি খাবো?
আমি ঘুম থেকে উঠে গেলাম খিলগাও বাজারে।
সেখানে গতকাল আগুন লেগেছে। আমি সব সময় খিলগাও বাজার থেকেই বাজার করি। এই বাজারের সব কিছু আমার চেনা জানা। বিশাল বাজার। এখানে সব রকমের দোকান আছে। কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে, কামার-কুমারের দোকান পর্যন্ত। আমি বাজারে গেলেই পুরো বাজার ঘুরে ঘুরে দেখি। আজও দেখলাম। বাজারের এক অংশ পুড়ে শেষ। পুড়ে যাওয়া অংশটুকু খুব মন দিয়ে দেখলাম। বুঝতে চেষ্টা করলাম- আগুন কিভাবে লেগেছে। বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বললাম। আমার পর্যবেক্ষনে মনে হলো এই আগুন রাতের অন্ধকারে কেউ লাগিয়েছে। পোড়া অংশ দেখলেই মনে হয় পরিকল্পিত।
দুপুরে গেলাম সুরভিদের বাসায়।
সেখানে গিয়ে দেখি বিরাট আয়োজন। নানান পদের মাছ। সব দেশী। শাক সবজি, বাজি ভর্তা। মাংস টাংস হাবিজাবি আরও অনেক কিছু ছিল। এদিকে সুরভিদের বাসায় কেউ নেই। তারা সবাই ইন্ডিয়া গিয়েছে। রান্না করেছে সুরভি। সুরভি খাবে না। সে ডায়াট করছে। খেতে বসলাম আমি আর শ্বশুর মশাই। উনি প্রচন্ড জ্ঞানী মানুষ, সৎ মানুষ, ভালো মানুষ, পড়ুয়া মানুষ। অনেক জানেন। কিছু দিন আগে উনি উনার কর্ম জীবনের অভিজ্ঞতা গুলো লিখেছেন। আমাকে পড়তে দিয়েছেন। দারুন লেখার হাত। চমৎকার ভাষার ব্যবহার। শ্বশুর মশাইয়ের সাথে গল্প করে আরাম পাই। কোনো অহংকার নেই। মিথ্যা নেই। সহজ সরল জীবন যাপন করেন।
সন্ধ্যায় সুরভিকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম।
রাস্তা ঘাট মোটামোটি ফাঁকাই ছিল। দেড় ঘন্টা সময় লাগলো। রাতে দোতলায় দাওয়াত। লেখাটা শেষ করেই দোতলায় যাবো। ভাবী দাওয়াত দিয়েছেন। কোনো উপলক্ষ্য না। এমনি। এভাবেই আজকের দিনটি পার করে দিলাম। আগামীকাল আবার যাবো খিলগাও বাজারে। কিভাবে আগুন লেগেছে সেটা বুঝতে হবে। জানতে হবে আমাকে। আমি প্রায়ই গুনগুন করে আমাদের জাতীয় সংগীতটা গাই। কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—/কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।/ মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥ জাতীয় সংগীতটা খুব অদ্ভুত। বুকের মধ্যে কেমন হাহাকার করে উঠে।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




