
আষাঢ় মাসের অতি মনোমুগ্ধকর এক সন্ধ্যা।
রাত প্রায় নয়টা। আমি বলাকা সিনেমা হল থেকে বের হয়ে একটা হোটেলে ভাত খেতে ঢুকেছি। হোটেলের নাম- তাজমহল রেস্টুরেন্ট। তাজমহল হোটেলের পাশে আরেকটা হোটেল আছে- 'হোটেল রাজ্জাক'। সেখানে খুব বেশি ভিড়। তাজমহল রেস্টুরেন্ট একেবারেই ফাঁকা। পাশাপাশি দু'টা হোটেল একটায় প্রচন্ড ভীড়, আরেকটা খালি। আজিব ব্যাপার!
আমি কোনার দিকে একটা টেবিলে বসলাম।
রুই মাছ, লাল শাক আর ডালের অর্ডার দিয়ে চুপচাপ বসে আছি। যদিও মাছ আমি খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু আজ কেন জানি খুব মাছ খেতে ইচ্ছা করল। হঠাত দেখি হোটেলে একজন মেয়ে কাস্টমার ঢুকল। ঠিক তখন বাইতে তুমুল বর্ষন শুরু হলো। মেয়েটা খুব সুন্দর। মুখটা ভীষন মায়া-মায়া। এত ফাঁকা জায়গা থাকতে মেয়েটি আমার কাছে এসে বলল, আপনার টেবিলে বসতে পারি? আমি না বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না। হোটেলটা আমার না। কাস্টামার এসেছে, নগদ পয়সা দিয়ে খাবে। তার যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসবে। আমার কি? তবে আমার মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল, অপরিচিত কারো সামনে খাওয়া-দাওয়া করতে আমার ভালো লাগে না।
মেয়েটি বলল, আশা করি আমি আপনাকে বিরক্ত করছি না।
জ্বি না।
আপনার মোবাইলটা একটু দিতে পারবেন?
আমি মোবাইল বের করে মেয়েটির হাতে দিলাম। আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। বোঝাই যাচ্ছে এই মেয়ে প্রচুর কথা বলবে। বকবক করে মাথা ব্যাথা বানিয়ে দিবে। আমি ইচ্ছা করলে মোবাইলটা না দিলেও পারতাম কিন্তু তাতে মেয়েটা আমাকে অভদ্র ভাবতে পারে। তাছাড়া এত সুন্দর একটা মেয়েকে মুখের উপর মানা করে দিবো, আমি এতটা নিষ্ঠুর নই।
মেয়েটার অন্য কোনো মতলব নেই তো?
ধান্দাবাজ না তো? বাংলাদেশে ধান্দাবাজ লোকের অভাব নেই। আজকাল মেয়েরা অনেক রকমের ধান্ধাবাজি করে। কয়েকদিন আগেই এই রকম একটা মেয়ে, চোখে আবার কালো ফ্রেমের চশমা, মুখ ভরতি হাসি। হাসিটা খুব সুন্দর ছিল। আমি একটা হোটেলে খেতে বসেছি, মেয়েটা আমার সামনে বসে খুব বিনীত ভাবে বলল, কিছু মনে করবেন না। পান্থপথ মোড়ে আমার ব্যাগটা চুরি হয়ে গেছে। ক্ষুধায় মরে যাচ্ছি। আমায় চারটি ভাত খাওয়ান। প্লীজ। মেয়েটা এত সুন্দর করে প্লীজ বলল যে, 'প্লীজ শব্দটা যেন আমার বুকে এসে লাগলো।
এই রকম সম্ভ্রান্ত চেহারারর একজন মেয়েকে মুখের উপর 'না' বলা মুশকিল। যাই হোক, মেয়েটা ভাত খেল। ভাত খাওয়ার পর দই মিষ্টি খেল। সবশেষে মিষ্টি পান এবং একটা বেনসন সিগারেট। এর আগে এত সুন্দর করে আমি কোনো মেয়েকে সিগারেট খেতে দেখিনি।
আমি চুপ করে আছি। মেয়েটার মধ্যে কোনো দ্বিধা নেই, সংকোচ নেই। সে নিজেই হাসি মুখে খাবারের অর্ডার দিলো। খাওয়া শেষে কি সুন্দর করে বলছে- এমন চমৎকার খাওয়ার পর একটা সিগারেট না খেলে ভালো লাগে না।
(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




