
ব্রুনাই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
দেশের সম্পূর্ণ নাম হল Negara Brunei Darussalam। এ নামের অর্থ হল সতর্ক এবং শান্তি। এটি একটি রাজতান্ত্রিক ইসলামী দেশ। উত্তরে দক্ষিণ চীন সাগর, এবং বাকী সব দিকে মালয়শিয়া। ব্রুনাই তেল সম্পদে সমৃদ্ধ একটি ধনী রাষ্ট্র। ব্রিটেন থেকে ১৯৮৪ সালে দেশটি স্বাধীন হয়। বন্দর সেরি বেগাওয়ান ব্রুনাইয়ের রাজধানী। দেশটি মাত্র ৫,৭৬৫ বর্গকিলোমিটার। শুধু মাত্র চীনের শাংহাই শহরের সমান। ব্রুনাইয়ের সুলতান হলেন একাধারে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান। মালয় ভাষা ও ইংরেজি ভাষা ব্রুনাইয়ের সরকারি ভাষা। ইসলাম ব্রুনাইয়ের সরকারী ধর্ম । জনসংখ্যা ৫ লাখের কিছু বেশী।
ব্রুনাইয়ের শ্রমবাজারে প্রচুর বাংলাদেশী কর্মীর চাহিদা রয়েছে। পর্যটন আকর্ষনীয় একটি দেশ। অধিকাংশ মানুষের বাড়ি সাধারণত দু'তলার। পাবলিক যানবাহন ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত, পাবলিক যানবাহনে চলাচল রীতিমত একটি ঝামেলা আর দূর্ভগের কারণ হয়ে ওঠে। তাই লোকজন বাধ্য হয়ে গাড়ি কিনে নিজেই চালায়১০০ শতাংশ মুসলমান। একটি বৃহতাকারের আধুনিক এবং ব্যায়বহুল শপিং মল আছে, যার নাম ইয়াইয়াসান। ব্রুনাই জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং আসিয়ানের সদস্য। কৃষিদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ধান, কলা ও অন্যান্য ফলমূল। গবাদিপশু সম্পদের মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, শূকর এবং হাঁস-মুরগি। কুটির শিল্পের মধ্যে রয়েছে নৌকা তৈরি, বস্ত্র বুনন, তামা ও ইস্পাতের বাসনপত্র ইত্যাদি।
যারাই ব্রুনাই ভ্রমণ করবে তারাই দেশটির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হবে। ব্রুনাই হচ্ছে একমাত্র দেশ যার নাগরিকরা ভিসা ছাড়া চীন, রাশিয়া, সেনজেন এলাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারে। ধনী, গরীব, উচু, নিচু এই সব বিভেদ বিভাজনকে সাথে নিয়েই ব্রুনাই তার নামের মতোই সত্যিই একটি শান্ত আর শান্তিপ্রিয় দেশ। ঢাকা বারিধারা লেক পার্ক থেকে ১০০ গজ পূর্বে ব্রুনাই দারুস সালাম হাই কমিশন এর অবস্থান। ব্রুনাইতে বিভিন্ন কোম্পানির ভিসা পাওয়া যায়। এই গুলার বেতন ও ভিন্ন ভিন্ন কোন কোন কোম্পানি ১৮ডলার প্রতিদিন দেয় আবার ২৩ডলার ও দেয় এটা আপনার কাজের উপর ভিত্তি করে বেতন কিছুটা কম বেশি হতে পারে। আর ওভার টাইম নির্ভর করে ওই কোম্পানির কাজের বিজির উপরে যদি কাজ বেশি থাকে আর কম দিনে শেষ করতে হয় তখন ওভার টাইম হবে আর না থাকলে হবে না।
১৯৫৯ সালের সংবিধান অনুযায়ী পাদুকা সেরি বাগিন্দা সুলতান হাজী হাসানাল বোলকিয়াহ মুইযাদ্দিন ওয়াদ্দাউল্লাহ হলেন দেশের প্রধান। ১৯৬০-এর দশকে একটি বিপ্লবের পর থেকে ব্রুনাইয়ে মার্শাল ল' জারি হয়ে আছে। ব্রুনাইয়ের মুদ্রার নাম ব্রুনাই ডলার। মাথাপিছু আয় ৫০,৪৪০ দশমিক শূন্য তিন মার্কিন ডলার। ব্রুনাইয়ের মানুষের মন-মেজাজ সহজ-সরল। ধন ঐশ্বর্যের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও খুব বেশি ডাঁটবাট বা হামবড়া ভাব তাদের নেই। গোটা দেশই সবুজে ঢাকা এবং বনবনানীতে আচ্ছাদিত। দেশের জনগণের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ খুব বেশি। আর এ একই কারণে সমস্যা ও জটিলতাও খুব কম। ব্রুনাইয়ে ৩৫ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে, যা এখানে ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। কোরআন তেলাওয়াতকে ব্রুনাইয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।
নাই ধনী দেশ হিসেবে পরিচিত হলে দরিদ্র জনসাধারণের সংখ্যাও অনেক। ব্রুনাইয়ে সব বাহারি অট্টালিকার পাশেই দেখা যায় হতদরিদ্র সেসব মানুষকে, যাদের থাকার জন্য সামান্য কুটিরগুলো দেখতে বিবর্ণ আর মলিন। অনেক নাগরিকের বাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। তার জন্য তারা নদীগ্রাম বানিয়ে নদীতে বসবাস করে। অন্যদিকে ধনী পুরুষেরা একাধিক বিয়ে করে। বাংলাদেশের প্রায় এক লক্ষ লোক ব্রুনাই থাকে। তারা সেখানে নানান পেশায় জরিত।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




