
১। বেশ কিছু দিন ধরে মনটা খারাপ হয়ে আছে।
মন খারাপ হওয়ার কারন হচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে না। অথচ আমার হিসাব মতে বৃষ্টি হওয়ার কথা। প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকি ঝুম বৃষ্টি হবে। অথচ সারাদিন থাকে কড়া রোদ। রোদে চামড়া যেন পুড়ে যায়। এদিকে আবহাওয়া রোজ বলছে বৃষ্টি হবে। কিন্তু কই বৃষ্টি? উলটা করা রোদ। টানা ১০/১২ দিন হয়ে গেলো বৃষ্টি নেই। আজিব ব্যাপার! বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষ দরিদ্র। সবার ঘরে এসি থাকে না। তার মধ্যে আবার কারেন্ট চলে যায়। দোজক নেমে আসে তখন। সীমাহীন কষ্ট। সারাদিন মানুষ বাইরে কষ্ট করে এসে ঘরেও কষ্ট।
২। আলেকজান্ডার বেলায়েভের একটি উপন্যাসের নাম 'উভচর মানুষ'। আমি যে কয়টি ভালো উপন্যাস পড়েছি এটা তার একটা। বইটা কিছু দিন আগেও আমার কাছে ছিল। এখন হারিয়ে গেছে।
বইটির নায়ক 'উভচর মানুষ'। সে স্থলে থাকতে পারে আবার পানিতেও থাকতে পারে। প্রথমবার বইটি পড়ে বইয়ের নায়কের দুঃখে খুব কেঁদেছিলাম। আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম যেন আল্লাহ আমাকে উভচর মানুষ বানিয়ে দেন।
৩। লেখালেখি হচ্ছে নিঃসঙ্গ ও একাকি একটি জীবিকা যাতে টাকা আয়ের সম্ভাবনা খুবই সামান্য। হাজার হাজার লেখকের মধ্যে হয়তো মাত্র ১/২ জন সাফল্যের মুখ দেখে এবং তারা ভাগ্যবান। বাংলাদেশে প্রচুর লোক লেখালেখি করে। এদের বেশির ভাগ'ই নিজের টাকা দিয়ে বই ছাপাতে হয়। আর সত্য কথা হলো এদের লেখার মানও অতি নিম্মমানের। তারপরও আমি বলব, তারা লেখালেখি চালিয়ে যাক। তবে সামুতে ব্লগিং করে বহু লোক জাতে উঠেছে। কেউ কেউ বিদেশ চলে গেছে। তারপর ব্লগ ছেড়ে দিয়েছে।
৪। অদ্ভুর একটা স্বপ্ন দেখলাম-
লন্ডন থেকে ফেরার পথে প্লেনে আমার পাশে বসেছিলেন অমিতাব বচ্চন। প্রথমে তো আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি! লোকটা সামনা-সামনি আরও বেশী স্মার্ট আরও বেশী ব্যাক্তিত্ববান। আমি বললাম স্যার- আমার মা আপনার সব গুলো মুভি অনেকবার করে দেখেছেন। আপনার দারুন ভক্ত। বচ্চন সাহেব একটা সাদা কাগজে দুই লাইন কবিতা লিখে অটোগ্রাফ দিলেন আমার মায়ের জন্য। কবিতাটি ছিল এই রকম- "The ghost of Roger Casement/ Is beating on the door.'' দুবাই এয়ার পোর্টে বচ্চন সাহেব নেমে গেলেন। সাথে ক্যামেরা থাকতেও তার সাথে ছবি তোলার কথা একদম ভুলে গেলাম।
৫। গোপনে আমাকে বহুবার কাঁদতে হয়।
শ্রীলঙ্কার ঘটনা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। এর আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ঘটনায় মানসিকভাবে অনেক আঘাত পেয়েছি। নুসরাতের ঘটনা আমাকে সারারাত ঘুমাতে দেয় নি। এই যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও একসিডেন্ট হচ্ছে, ধর্ষন হচ্ছে। এই সমস্ত ঘটনা আমাকে অস্থির করে তোলে। আমার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এফআর টাওয়ারে আগুনে পুড়ে মানুষ মরলো। বড় মর্মান্তিক।
এরা কেউ'ই আমার আত্মীয় স্বজন না, বন্ধু না, এমনকি পরিচিতজনও না। তবু তাদের জন্য আমার কষ্ট হয়। চোখে জল আসে। আমি কাঁদি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি আর যেন এরকম ঘটনা না ঘটে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




