
গল্প এক
সনি সিনেমা হলের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
সুন্দর অতি মনোরম বিকেল। আমি সুরভির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সুরভি ফোন দিয়ে বলল, তার আসতে আরো ঘন্টা দেরী হবে। বাসায় হঠাত গেস্ট এসেছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখছি। এমন সময়- একটা রিকশা আমার সামনে এসে থামলো।
রিকশাওয়ালা নালিশের ভঙ্গিতে আমাকে বলছে, এই মাইয়া তিন ঘন্টা ধরে আমার রিকশায় করে ঘুরছে। কোথায় যাবে ঠিক করে কিছুই বলছে না। আমি বুড়া রিকশাওয়ালাকে বললাম, শান্ত হোন। আর একটা কথা বলবেন না। আমি দেখছি ব্যাপারটা।
মেয়েটিকে দেখেই আমি বুঝতে পারছি, মেয়েটির কাছে টাকা নেই। আমি রিকশাওয়ালাকে বললাম, আপনার কত টাকা? রিকশাওয়ালা বলল, টাকা তো অনেক, আপনে পাঁচ শ' টাকা দিলেই হবে। আমি ম্যানিব্যাগ খুলে একটা পাঁচ শ' টাকার নোট দিয়ে দিলাম। রিকশাওয়ালা চলে গেল।
মেয়েটি আমার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে আর একটু পরপর শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছছে। কোনো মানুষের চোখের পানি আমি সহ্য করতে পারি না। আমি মেয়েটিকে বললাম, কাঁদবেন না। মনে হয় আপনি সকাল থেকে না খেয়ে আছেন। চলুন আপনাকে আগে কিছু খাইয়ে নিই। আমারও অনেক ক্ষুধা পেয়েছে।
গল্প দুই
ঢাকা শহরটা বড় অদ্ভুত।
ভর দুপুরবেলা আমি মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। হাতে কোনো কাজ নেই। কি করবো, কোথায় যাবো- কিছুই পূর্বনির্ধারিত নয়। গলা শুকিয়ে কাঠ। মাথার উপরে গনগনে সূর্য। চলছে আষাঢ় মাস। অথচ সূর্যের তাপ দেখে মনে হচ্ছে গ্রীষ্ম কাল। একলোক ফুটপাতের সামনে দাঁড়িয়ে গেন্ডারির রস বিক্রি করছে। খাবো কিনা বুঝতে পারছি না। ঠিক এই সময় দেখতে পেলাম এক মেয়ে রিকশায় করে আমার দিকেই আসছে। মেয়েটির চোখে মুখে দিশেহারা ভাব। রিকশাওয়ালা আমার সামনে রিকশা থামিয়ে মেয়েটিকে ধমকের সুরে বলল, নামেন রিকশা থিক্কা। যত্তসব! আমি মেয়েটির মুখের দিকে তাকালাম। মায়াময় একটি মুখ। কি সুন্দর করেই না চোখে কাজল দিয়েছে! হালকা নীলের মধ্যে সাদা সাদা ফুল আঁকা শাড়ি খুব সুন্দর করে পড়েছে। শাড়ির কুচি গুলোর ভাঁজ সমান। কোনো হৃদয়বান মানুষের পক্ষে একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করা সম্ভব না। শুধু মাত্র রিকশাওয়ালাদের পক্ষেই সম্ভব।
তারপরের ঘটনা প্রথম গল্পটির মতোন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



