somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কলকাতা শহর

২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কলকাতা ভারতের বুকে এক টুকরো বাংলা। বৈচিত্র্যময় একটি শহর। এক আজব শহর। কলকাতাবাসী কলকাতাকে শহরের রানী বলে। একসময় বর্তমান ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ, এই তিনের রাজধানী ছিল কলকাতা। তাই এর গুরুত্ব সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। এই শহর যদি ভ্রমণ না করা হয়, বাঙ্গালি হিসেবে আপনার জীবন কিছুটা না, অনেকটাই অপূর্ণ থেকে যাবে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর বাঙ্গালী কলকাতা ভ্রমনে যায়। গত পাঁচ বছরে এই ভ্রমনের মাত্রা পাঁচ গুন বেড়েছে। বিয়ের কেনাকাটা, চিকিৎসা আর ভ্রমনের জন্য এখন প্রথম পছন্দ কলকাতা।

৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো শহর। কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। শহরটি হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত। উত্তর কলকাতা হল কলকাতার প্রাচীনতম অংশ। মধ্য কলকাতা হল শহরের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি কলকাতাতেই অবস্থিত। জনসংখ্যার বিচারে কলকাতা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। বাঙালিরা কলকাতার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বেতার সম্প্রচার সংস্থাটি হল আকাশবাণী। কলকাতা শহরকে রেল পরিষেবা দেয় ভারতীয় রেলের চারটি টার্মিনাল স্টেশন হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন, শালিমার স্টেশন ও কলকাতা স্টেশন। হাওড়া একটি আলাদা শহর। কিন্তু কলকাতা মহানগরীয় অঞ্চলেরই অংশ। হাওড়া রেল স্টেশনটি কলকাতার অন্যতম প্রবেশদ্বার।

ইংরেজরা বাংলা দখল করে ১৭৫৭ সালে। ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ১৭৬০ সালে। ১৭৭২ থেকে ১৯১১ - এই দীর্ঘসময় ধরে কলকাতা ছিল বিশাল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। ইংরেজরা ১৭০০ সালের দিকে দুর্গ নির্মাণ করেন এবং তখন থেকে নগরায়ন শুরু হয়। ব্রিটিশ আমলে কলকাতা ছিল আধুনিক ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা, বিজ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র। ১৭শ শতাব্দীর শেষভাগে সুতানুটি, ডিহি কলিকাতা ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা শহরটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে ডিহি কলিকাতা নামটি থেকে কলকাতা নামটির উৎপত্তি। বহু কিছুর সাক্ষী এই কলকাতা শহর।

কলকাতার ভারতীয় সংগ্রহালয় হল এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো জাদুঘর। ১৮১৪ সালে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতার উৎসবগুলি প্রকৃতিগতভাবে দুই প্রকার। যথা: ধর্মীয় উৎসব ও ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব। প্রতিটা উৎসব খুব ঝাঁকঝমক ভাবে পালন করে কলকাতাবাসী। কলকাতার জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় হিন্দু উৎসবগুলি এই শহরে সর্বাধিক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকে। ইংরেজগণই কলকাতায় ফুটবল খেলার প্রবর্তন করেন। ১৮৫৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম আনুষ্ঠানিক ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতা ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭২ সালে। বর্তমান কলকাতার অবস্থা ভয়াবহ। রাস্তা ঘাটে প্রচুর মানুষ, বায়ু দুষন, শব্দ দুষন, চোর, ছিনতাইকারী, ডাকাতি হর হামেশাই ঘটছে। তবে, আমাদের ঢাকা শহরের চেয়ে কলকাতা উন্নত। লেখাপড়া ও চিকিৎসার মান ভালো।

দেশভাগের আগে আমাদের এলিট শ্রেনীরা যে কোনো কাজের জন্য কলকাতা যেতেন। তাদের ছেলে মেয়েকে কলকাতায় লেখাপড়া করতে পাঠাতেন। আমার দাদা কলকাতা ব্যবসা করতেন। তিনি তার জামা কাপড় আর পান খাওয়ার জর্দা আনতেন কলকাতা থেকে। দেশভাগের সময় আমাদের দেশ থেকে বহু লোক কলকাতা গিয়ে আবাস গড়েছে। লক্ষ লক্ষ রিফুজি কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের দেশের বহুলোক কলকাতায় মারামারি কাটাকাটি করেছে। জোর করে কলকাতার অনেক বাড়ি ঘর দখল করেছে। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা আমাদের যে সহযোগিতা করেছে তা কোনো দিন ভুলে যাবার নয়। তারা বর্ডার খুলে দিয়েছে। এমন কি লক্ষ লক্ষ লোকের খাওয়া দাওয়া আর থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে কলকাতা সরকার। এমন কি সেই সময় কোলকাতার সমস্ত সরকারি কর্মচারীরা তাদের একদিনের বেতন আশ্রয় নেওয়া বাঙ্গালীদের দিয়ে দিয়েছে।

এই শহর যদি ভ্রমণ না করা হয়, বাঙ্গালি হিসেবে আপনার জীবন কিছুটা না, অনেকটাই অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই সময় সুযোগ করে ঘুরে আসুন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:৩২
১২টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×