somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একজন নাস্তিকের গল্প

২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি মরে যাওয়ার অনেক পরে বুঝতে পারলাম যে, আমি মরে গেছি।
আমার এটুকু মনে আছে, মরার আগে আমার মেজাজ অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত ছিল। যাই হোক, অন্ধকার একটা জাগায় শুয়ে আছি, আশে পাশে কেউ নেই। জায়গাটা অন্ধকার হলেও সব কিছু দেখতে পাচ্ছি।কিভাবে যে সব দেখতে পাচ্ছি এটা এক বিরাট রহস্য। হঠাৎ দুইটা অদ্ভুত লোক আসলো আমার সামনে। কেন জানি লোক দুইটাকে দেখে মেজাজ গেলে আরও খারাপ হয়ে।(তখনও আমি বুঝতে পারি নি, যে আমি মরে গেছি) অদ্ভুত লোক দুইটা আমার কাছে এসে বলল- দুই-তিনটা প্রশ্ন করবো- তাড়াতাড়ি উত্তর দিবেন। আমাদের সময় কম। বেয়াদপ দুইটার কথা শুনে- আমার মেজাজ হয়ে গেল আরো খারাপ। আমি বললাম, আচ্ছা প্রশ্ন করেন কিন্তু তার আগে আপনাদের পরিচয়টা দেন। আমার কথা শুনেই লোক দুইজন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকালো। যেন আমি তাদের অপমান করেছি। দুইজনের মধ্যে যে লোকটা একটু বেশী লম্বা সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল- মশকরা করো- আমাদের চিনতে পারো নি! আমি বললাম- দেখেন আমার মেজাজ অত্যধিক খারাপ, এখন আমি মশকরা করার মত অবস্থায় নাই। দুইজনের মধ্যে যে লোকটার দাঁত উঁচু সেই লোকটা বলল- তুমি মরে গেছো। এটা কবর আর আমরা আল্লাহর ফেরেশতা, আমার নাম মুনকার আর উনার নাম নকীর।

এখন আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে, আমি মরে গেছি।
নিশ্চিত হবার পর থেকেই এক ধরনের আনন্দ পেতে শুরু করলাম। মুনকার আমাকে প্রশ্ন করলেন- বল, তোর রব কে? আমি মাথা চুলকে বললাম- আইনস্টাইন। এই কথা বলতেই- তারা দুইজন এক আকাশ সমান অবাক হয়ে গেলেন! নকীর আমার দিকে কিটমিটিয়ে তাকিয়ে বললেন- মুনকারের চেয়ে আমার রাগ বেশী- সুজাসুজি উত্তর দে। তারপর তরে মজা দেখাচ্ছি। হঠাৎ আমার খুব রাগ লাগল। হাতের কাছে পেলাম একটা লাঠি- সেই লাঠি দিয়ে দুইটাকে খুব মারলাম। তারপর তারা কোথায় যেনো পালিয়ে গেল। হঠাৎ করে খুব অবস্বাদ লাগছে। আমি চিন্তা করতে লাগলাম আমার প্রিয় মানূষদের কথা। তারা কে কোথায় আছে? কেমন আছে? আমার সাথে একটা মেয়ের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল- সেই মেয়েটাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। কথা ছিল সেই মেয়েটার বু্কে মাথা রেখে একদিন খুব কাঁদবো। সেই মেয়েটার প্রতি আমার কত ভালোবাসা ছিল- তা কোনোদিন মেয়েটাকে আর বলা হবে না। মেয়েটা আমাকে এক আকশ ভালোবাসা নিয়ে গান শোনাতো- "মাঝে মাঝে তব দেখা পাই , চিরদিন কেন পাই না...’’

আমার চিন্তায় ছেদ পড়ল। ওই দুইটা আবার আসছে। একটার হাতে বেন্ডেজ আর একটার কপালে বেন্ডেজ এবং চোখ মুখ ফুলে আছে। আমি তাদের বললাম, আবার কেন? তারা বলল- আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে আপনার মত 'পিস' একটাও পাইনি। আপনি তো রীতিমত মৃত্যুর পরের জগতে হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছেন। আমি বললম- পাকনামো বাদ দে, কাজের কথা বল। তারা বলল- আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এখন আপনি যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারবেন। আপনাকে কেউ বাঁধা দিবে না। নতুন আইন লেখা হবে তারপর আপনাকে ধরা হবে, বিচার হবে, শাস্তি হবে। ততদিন পর্যন্ত আপনি মুক্ত। এই হচ্ছে আমার ভূত হওয়ার কাহিনী। কেউ আমাকে দেখে না কিন্তু আমি সবাইকে দেখি। খুব মেজাজ খারাপ হলে দুই একটাকে চড় থাপ্পড় দেই।

জীবিত থাকা অবস্থায় যে রকম জেনেছিলাম- ভূত সমন্ধে- সব ভুল জেনেছিলাম। ভূত কারো রক্ত খায় না। আসলে ভূতের কোনো ক্ষুধাবোধ নেই। ভূত কারো ভালো বা মন্দ করতে পারে না। শুধু শুধু মানূষ পৃথিবীতে বাজে কথা বলে ভূতদের নিয়ে। এটা আমার মোটেও পছন্দ না। এখন আমি খুব সুখে আছি। ইচ্ছা করলেই যেখানে খুশি যেতে পারি। আমি দূরে কোথাও যাই না। সারাক্ষণ আমার প্রিয় সব মানূষদের আশে পাশের ঘোরাঘুরি করি। কি যে আনন্দ পাই! এত আনন্দের কারনে মাঝে মাঝে চোখ ভিজে ওঠে। ভূতদের সবচেয়ে কষ্ট হলো তারা খুব একা। অনেক লেখকরা বলেন- ভূতরা গাছে থাকে। হা হা হা...। লেখকগুলো কতো বোকা হয়। ভূতরা দূর থেকেই সব স্পষ্ট দেখতে পায়। খেলা শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটা ভূত জানে আজ কে জিতবে। যে কোনো মানূষের দিকে তাকালের বলে দিতে পারে- তার মনের কথা গুলো কি কি!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:০৫
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×