somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই সমাজ- ৭

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকের বিকেলটা অতি মনোরম!
শাহেদ জামাল উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের পাঁচ নম্বর রোডে দাঁড়িয়ে আছে। সে অনেকক্ষন হেঁটে হেঁটে এখন বেশ ক্লান্ত। কিন্তু সে এখন বাসায় ফিরবে না। খালি বাসায় ফিরতে ইছা করে না। তার বাসায় কেউ নেই। বউ বাচ্চা গিয়েছে ছোট মামার বিয়েতে দিনাজপুর। চারদিন পর ফিরবে। নীলার এই ছোট মামাকে শাহেদ জামাল একেবারেই পছন্দ করেন না। এই লোক কিভাবে যেন অল্প সময়ে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে। এখন সে সব সময় খুব অহংকার করে। শাহেদ জামালকে সুযোগ পেলেই কটাক্ষ করে কথা বলে। রাস্তার পাশেই একটা চায়ের দোকান। শাহেদ এক কাপ চা অর্ডার দিয়ে একটা সিগারেট ধরালো। শাহেদ চা আর সিগারেট একসাথে খায় না। তাতে খুব দ্রুত দাঁতে কালো দাগ বসে যায়। আগে সিগারেট তারপর চা। অথবা আগে চা তারপর সিগারেট।

এই শহরে বখাটেদের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
ঢাকা শহরের প্রতিটা অলিতে গলিতে বখাটে থাকবেই। এই বখাটেরা গলির মাস্তান। তাদের মধ্যে বেশ কিছু গ্রুপ আছে। এই গ্রুপওয়ালাদের আবার বড় ভাই আছে। বখাটেরা বড় ভাইদের খুব মানে। এরা রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেয়, সিগারেটের ধোঁয়া দিয়ে পুরো রাস্তা অন্ধকার করে ফেলে। কোনো মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে এদের একজন কুৎসিত মন্তব্য করে। তারপর সব্বাই মিলে কুৎসিত ভাবে হাসতে থাকে। এগুলো প্রতিদিনের চিত্র। এদের কেউ কিছু বলে না। এমন কি এরা যে বখাটে- এদের অধিকাংশ দরিদ্র বাপ মা'ই জানে। বাপ মা সংসারের ঘানি টানতেই ব্যস্ত। ছেলে মেয়ের দিকে মন দেবার সময় নেই। তাদের চুলের কাটিং, জামা কাপড় এবং তাদের কথাবার্তার মধ্যে কোনো সৌর্ন্দয নেই। আছে হিংস্রতা। আছে অমানবিকতা।

শাহেদ জামাল এর চা সিগারেট খাওয়া শেষ।
তিনি আরাম করে চা সিগারেট খেতে পারলেন না। তার সামনে আট দশ জনের একটা বখাটেদের দল। চিৎকার চেচামেচি করেই যাচ্ছে। সবার হাতে স্মার্ট ফোন। এরা এত দামী মোবাইল কেনার টাকা পায় কই? তাদের মুখের অশালীন ভাষা শুনে শাহেদ জামাল অবাক। এদের বয়সে শাহেদ জামাল এরকম বাজে শব্দ জানতেন'ই না। সবার মুখে বাজে শব্দ। বস্তির লোকদের ভাষাও এর চেয়ে ভালো। এদের একজন বলল, অনেকদিন মাল খাই না। মালের ব্যবস্থা কর মামা। এই রকি, তোর বাসা তো খালি। রকি বলল, টাকা নাই। তারপর সব্বাই মিলে টাকার ব্যবস্থা কিভাবে হবে সেই আলাপ করতে লাগলো। শাহেদ জামাল তাদের কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে গেলেন। এতটুকু বাচ্চা পোলাপান কি ভয়ঙ্কর! তারপর যা ঘটলো, বেশ ভয়াবহ!

উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের মসজিদের সামনে।
বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজে। রিকশায় করে এক মেয়ে যাচ্ছে। তার কানে হেড ফোন। সে কারো সাথে খুব হেসে হেসে কথা বলছে। হঠাত চলতি রিকশাটা একটা গর্তে পড়ে কাত হয়ে বাম দিকে পড়ে যায়। মেয়েটা ছিটকে পড়ে মাটিতে। অন্যদিকে ছিটকে পড়ে রিকশাওয়ালা। ঠিক এমন সময় একটা বাইক এ পথ দিয়েই যাচ্ছিল। বাইকওয়ালা খুব কায়দা করে পাশ দিয়ে চলে যায়। যদি বাইকওয়ালা সময় মতো বাইকটা না ঘুরাতে পারতো, তাহলে বাইকটা মেয়েটার উপর দিয়েই চলে যেত। বাইকটা কিছু দূর গিয়ে ফিরে আসে মেয়েটার কাছে। মেয়েটাকে সহযোগিতা করার জন্য। এই ঘটনা পুরোটা দেখলো- শাহেদ জামাল এবং শাহেদ জামালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বখাটেদের দল। বখাটেরা হই হই করে উঠলো। যেন তারা শিকার পেয়েছে!

বখাটের দল বাইকওয়ালাকে ঘিরে ধরলো।
বাইকওয়ালা বলছে, আমি রিকশা ধাক্কা দেইনি। বরং আমি সময় মতো ব্রেক করাতে মেয়েটা বেঁচে যায়। বখাটেরা কিছুতেই মানবে না। বখাটেরা বলে, তুমি মেয়েটার রিকশার পেছনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছো। আমরা সব্বাই দেখেছি। বখাটেদের একজন চোখের ইশারা করলো। ইশারায় বলল, বাইকটা খেয়ে দাও। ধূমধাম খুব লেগে গেলো। বখাটেদের মধ্যে দুইজন বাইকওয়ালার কলার চেপে ধরেছে। কেউ কেউ মারতে শুরু করেছে। রিকশা থেকে পড়ে যাওয়া মেয়েটা বলল, উনি আমার রিকশাকে ধাক্কা দেন নি। আপনারা উনাকে ছেড়ে দেন। প্লীজ। বখাটেরা মেয়েটাকে একটা বাজে গালি দিল। এবং একজন বলল, সুন্দরির মোবাইলটা নে। এর মধ্যে বাইকটা উধাও হয়ে গেল। বাইকওয়ালাকে মারতে মারতে গলির ভেতরে নিয়ে গেল।

সব মিলিয়ে দেড় মিনিটের ঘটনা।
শাহেদ জামাল দৌড়ে গেলেন, ছেলেটাকে বাঁচাতে। এদের দিয়ে বিশ্বাস নেই। এরা ছেলেটাকে মেরেও ফেলতে পারে। তার চোখের সামনে এরকম অন্যায় হতে পারে না। মেয়েটা মোবাইল হারিয়ে চোখের পানিতে ফেলতে ফেলতে চলে গেল। শাহেদ জামাল গলির কাছে যেয়ে দেখেন, ছেলেটাকে খুব মারছে। ছেলেটা নিজেকে বাঁচাতে খুব চেষ্টা করছে। এই শহরে চোর ছিনতাইকারী ধরা পড়লো চারপাশের লোকজন যেভাবে মারে। ঠিক সে ভাবে ছেলেটাকে মারছে। কারো কারো হাতে লাঠি, কারো হাতে লোহার রড। এই অল্প সময়ের মধ্যে তারা লাঠি-রোড কোথায় পেলো? শাহেদ জামাল চিৎকার করে বলছে। ছাড়ো। ছেলেটার কোনো দোষ নেই। বখাটেদের মধ্যে দুইজন এসে শাহেদ জামালকে কুৎসিত গালি দিলো। এবং এমন জোরে ধাক্কা দিলো যে শাহেদ জামাল রাস্তার পাশের ড্রেনে পড়ে গেল।

সমস্ত ঘটনা চেয়ে চেয়ে দেখলো অনেক মানুষ।
চায়ের দোকান, ঝালমুড়ি বিক্রেতা, পান দোকানদার, ভ্যান গাড়িতে করে ডাব বিক্রেতা এবং ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া সকলেই এই দৃশ্য দেখলো। কিন্তু কেউ এগিয়ে এলো না। কেন কেউ এগিয়ে এলো না? বখাটেরা বাইক বিক্রি করে হয়তো আজ রাতে মদ খাবে। মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করবে। ছেলেটা বাঁচবে কিনা জানি না। বাঁচলেও তার সেরে উঠতে অনেক সময় লাগবে। মেয়েটা এই সৃতি নিয়ে ভয়ে ভয়ে এই শহরে চলবে। এই শহরে কেউ কেউ অপরাধ না করেও শাস্তি পায়। শাহেদ জামাল মন খারাপ করে বাসায় ফিরে আসে। তার হাত ও পায়ের কাছে অনেকখানি কেটে গেছে। তার সারা শরীর ব্যথা করছে। মনে হয় তার জ্বর আসবে। শাহেদ জামাল এতটাই অসহায়- সে ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলো না। খালি বাসায় তার খুব কান্না পাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×