
আক্রমণ করতে এসে আলেকজান্ডার বুঝতে পারেন, আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর মাটির তলায় আছে তেল। যা পরে কবজা করতে চেয়েছিলেন হিটলার। সেই শহর আজও জুগিয়ে যাচ্ছে আমার আপনার ঘরের জ্বালানি। আজারবাইজান আগে ছিল সোভিয়েত রাশিয়ার অন্তর্গত। ‘এ ল্যান্ড অব ম্যাজিক কালার্স' মানে, যাদুকরি অনেক রঙয়ের দেশ। আজারবাইজানের পর্যটন বিভাগের স্লোগান এটি। আজারবাইজানে কেউ যদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাহলে তাঁর সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করে সরকার। তেলসমৃদ্ধ এই দেশটিতে দুর্নীতি এমনভাবে ছেয়ে গেছে যে, মুষ্টিমেয় কিছু লোক ধনী হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাকিদের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। পশ্চিমা বিশ্বের নজর কাড়তে বাকুতে বড় বড় দালানকোঠা গড়ে তোলা হলেও রাজধানীর বাইরে গেলেই চরম দরিদ্র লোকের দেখা মেলে।

এশিয়া মহাদেশের একটি রাষ্ট্র আজারবাইজান।
জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি। ৯৫ ভাগ লোক'ই মুসলিম। কাস্পিয়ান সাগরতীরে অবস্থিত বন্দর শহর 'বাকু' আজারবাইজানের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। আজারবাইজান নামটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ 'অগ্নিভূমি'। ১৯৯১ সালের ৩০শে আগস্ট আজারবাইজান সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৩ শতাব্দীতে পর্যটক মার্কোপলো এখানে এসেছিলেন। ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে যে সীমান্ত রয়েছে, সেখানে আজো কোনো সংঘর্ষ বা সীমান্ত বিরোধ দেখা যায়নি। আজারবাইজান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। দেশটির আয়তন ৮৬ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার। মাথাপিছু আয়: ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। রাষ্ট্রিয় ধর্ম ইসলাম। আজারবাইজানীদের ব্যাবহারে মুসলমান মনে হয় না। নামাজ, খাবার দাবার অনেক আলাদা। হারাম যে কোন খাবার তারা অতি সহজে গ্রহন করে। এর চাইতে উজবেকি লোক অনেক ভাল।

আজারবাইজানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তেলের ভাণ্ডার।
তেল সম্পদের কারণেই দেশটি বেশ সমৃদ্ধ। অষ্টম শতাব্দীতে আজারবাইজানের লোকেরা তেল থেকে এক ধরনের ওষুধ তৈরি করতেন। মার্কো পোলোর লেখাতেও বাকুর উল্লেখ আছে। ইন্দোনেশিয়া এর রাজধানী জাকার্তাতে আজারবাইজানের দূতাবাস রয়েছে, অন্যদিকে আজারবাইজান এর রাজধানী বাকুতে ইন্দোনেশিয়ার একটি দূতাবাস রয়েছে। এই দুই দেশের সম্পর্ক অতি মধুর। বিশ্বের মধ্যে কম ধর্মপালনকারী দেশের মধ্যে আজারবাইজানের অবস্থান ওপরের দিকে। যদিও দেশটির ৯৬ শতাংশ মুসলমান। তাদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে গোঁড়ামি নেই। রাজধানী বাকুতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, জুনিয়র কলেজ এবং ভোকেশনাল স্কুল রয়েছে। ১৯৯৫ সালে আজারবাইজানে প্রথম আইনসভা নির্বাচন অণুষ্ঠিত হয় এবং ঐ বছরই সোভিয়েত-পরবর্তী নতুন সংবিধান পাস করা হয়।

আজারবাইজানে সম্পূর্ণ সরকারি স্কলারশিপে লেখাপড়ার সুযোগ আছে। যদিও তেমন ধনী দেশ নয় তারপরও আমাদের দেশের বা পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে তারা। মনে রাখতে হবে যে আজারবাইজান রাশিয়ান স্টেট ছিল তাই পড়াশোনার দিক থেকেও এগিয়ে আছে রাশানদের মতোই। সব মিলিয়ে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে আজারবাইজানের মুসলিমরা।
সদ্য সমাপ্ত আজারবাইজান সফর সম্পর্কে আজ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



