
কোনো কোনো দিন সকাল থেকেই সারাটা দিন খারাপ যায়।
আজকের দিনটি আমার সকাল থেকেই খারাপ যাচ্ছে। অথচ আজকের দিনটি আনন্দে কাটার কথা। আজ পরী অস্ট্রেলিয়া থেকে আসবে। দীর্ঘ একমাস পর মেয়ে আসবে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১২-১টা বেজে যাবে। মেয়ে ফোন করে সুরভিকে বলেছে, শুঁটকি মাছ রান্না করতে। পরী শুঁটকি মাছ খুব পছন্দ করে। বিশেষ করে লইট্টা শুটকি। আজিব ব্যাপার। সুরভি আর আমি তো শুঁটকি মাছ খাই না। গরু মূরগী রান্না করতে মানা করেছে। গত একমাস প্রতিদিন পরী এত গুলো করে ছবি পাঠিয়েছে। ভিডিও কলে লম্বা সময় কথা বলেছে। আমি পরীকে বললাম, অস্ট্রেলিয়াতে তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে? মেয়ে বলল সমস্যা একটাই, অস্ট্রেলিয়াতে ওয়াশরুমে পুশ শাওয়ার নেই। আমি বললাম, আমি কি একটা বদনা পাঠিয়ে দিবো? মেয়ে রাগ করে ফোন রেখে দিলো। একমাস পর মেয়েকে দেখবো। কোলে নিব। বুকে জড়িয়ে ধরবো! আহ কি আনন্দ! কি শান্তি!

এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলাম।
কি ভুল হয়েছে কে জানে। কার্ডটা এটিএম এর ভিরতেই রয়ে গেল। তারপর ব্যাংকে গেলাম। তারা বলল, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে নতুন কার্ড করতে হবে। দিলাম নতুন কার্ড করতে। যে জন্য ২৩০ টাকা চার্জ। ব্যাংকে খুব ভিড়। আধা ঘন্টা বসে থাকতে হলো। সকালে বাসা থেকে বের হয়েছি। এখন বিকেল। সারাদিনে সুরভির সাথে মোবাইলে কথা হয়নি। ভুলে মোবাইল বাসায় রেখে এসেছি। অবশ্যই দোকান থেকে ফোন করে সুরভির সাথে কথা বলা যায়। সুরভি থাকুক গাল ফুলিয়ে। সুরভির সাথে দেখা হবে সন্ধ্যায়। আমি সন্ধ্যায় বাসায় যাবো। গত একমাস পরীর আরবী ক্লাশ, শিশু একাডেমি এবং স্কুলে যাওয়া হলো না। আগামী মাসে আমি আর সুরভি পরীকে বাসায় রেখে কোলকাতা যাবো। হে হে। আজ দুপুরে আমার খাওয়া হয়নি। এখন হোটেলে খাবো কিনা ভাবছি। দুপুরে বাসায় খাওয়ার কথা ছিল। সুরভি আমার জন্য গলদা চিংড়ি, ডিম ভর্তা, লাল শাক আর ডাল রান্না করে রেখেছে। ডালে দিয়েছে জলপাই। সমস্যা নেই, দুপুর খাবার রাতে খাবো।

আজ খুব হাঁটতে হয়েছে।
রাস্তায় জ্যাম। পারত পক্ষে রিকশায় আমি উঠি না। আমার পোষায় না। রিকশা ভাড়া খুব বেশি। সবচেয়ে বড় কথা রিকশাওয়ালারা বেয়াদপ হয়। বাংলা মটর থেকে ধানমন্ডি হেঁটে হেঁটে গিয়েছি। আজ রোদটা বেশ কড়া ছিল। সকালে বাসায় নাস্তা করিনি সুরভি'র উপরে রাগ করে। নাস্তা খেতে বসে দেখি ভাত-তরকারী। তাও আবার গতকালের বাসি তরকারি।
আমি বললাম, রুটি বানাও নাই?
সুরভি বলল- না। বানাই নাই।
আমি বললাম কেন?
সুরভি বলল- গতকাল রাতে খাও নাই। খাবার বেঁচে গেছে। এখন থেকে রাতে না খেলে ওই খাবার সকালে খেতে হবে।
আমি বললাম, তুমি জানো না, আমি সকালে ভাত খাই না?
সুরভি বলল, এখন থেকে খাবে। খাবার নষ্ট করা ঠিক না।
আমি বললাম, খাবার নষ্ট হবে কেন? বুয়াকে দিয়ে দিবে।
সুরভি বলল- বুয়া ছুটিতে আছে।
সুরভির উপর আমার খুব রাগ লাগছে। ভদ্রলোকের ছেলে বলে আমি চিল্লাচিল্লি করলাম না। চুপ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম।

আব্বা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ।
আব্বাকে দেখতে যাবো। সে বেশ কয়েকবার ফোন করেছে। কিরে আমাকে ভুলে গেলি? আমি বলেছি, আব্বা ব্যস্ত আছি। আগামী সপ্তাহে তোমাকে দেখতে আসবো। অথচ তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। আগামীকাল অবশ্যই আব্বাকে দেখতে যাবো। আমার এক বন্ধুর মাকে দেখতে যেতে হবে নারায়ণগঞ্জ। বন্ধু মারা গেছে এক বছর আগে। কিন্তু বন্ধুর মাকে মাসে একবার দেখতে না গেলে উনি ভীষন রাগ করেন। আমার এই মৃত বন্ধুর এক বোন আছেন। থাকেন মানিকনগর। তার কাছেও যেতে হবে। ফোনে কথায় কথায় বলেছিলাম, আপা অনেকদিন আপনার রান্না খাই না। এখন উনি দুই তিন দিন পরপর ফোন করেন। আজ আয়। খেয়ে যা। যাই যাই করেও যাওয়া হচ্ছে না। যাওয়া উচিত। এরপর টঙ্গী যেতে হবে। এক বন্ধুর ছেলে হয়েছে। যাবো যাবো করে যাওয়া হচ্ছে না। বন্ধু গাল ফুলিয়ে বসে আছে। মনুষ্য সমাজে থাকলে এই এক সমস্যা, সামাজিকতা রক্ষা করতে হয়। ইচ্ছা না করলেও সামাজিকতা রক্ষা করতে হয়। অথচ আমি ভয়াবহ রকমের অসামাজিক।

আজ দরকারী কাজে দুই অফিসে গিয়েছি।
অফিসে গিয়ে গিয়ে দেখি তারা নেই। অথচ তাদের সাথে আমার আগেই মিটিং ফিক্স করা ছিল। তারা থাকবেন না এটা আমাকে আগে জানানো উচিত ছিল না? কিছু মানূষের হিতাহিত জ্ঞান খুব কম। যাই হোক, শার্টের পকেটে একটা কাগজ। সুরভি বড় বড় করে লিখে দিয়েছে। রাতে বাসায় ফেরার পথে ময়দা, পেঁয়াজ এবং কাঁচা মরিচ নিয়ে যেতে হবে। লন্ড্রীর দোকানে কাপড় আছে, সেটাও নিতে হবে। তা না হলে আজ আমার খবর আছে। ভুলে যাই, সব ভুলে যাই। ইদানিং আমার ভুলে যাওয়া রোগ হয়েছে। মা'র সাথে আমি কঠিন রাগ করেছি। গত একমাস ধরে মার সাথে কথা বলি না। সুরভি কাগজে লিখে দিয়েছি, বাসায় ঢুকেই উপরে আসার আগে নিচ তলায় মার সাথে দেখা করে কথা বলতে হবে। মার সাথে ঝগড়া বাধলো অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে। মা তার নিজের জন্য একটা শাড়ি কিনেছে।
আমি বলাম, জলপাই কালার কিনছো ক্যান?
মা বলল, এটা মেরুন কালার।
আমি বলাম, এটা মোটেও মেরুন না। এটা জলপাই কালার।
এই নিয়ে বিশাল ঝগড়া। মুখ দেখাদেখি বন্ধ। কথা বন্ধ।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




