
লেখাটি আমার নয়, পরীর। পরী বলেছে, আমি লিখেছি। পরী বাংলা টাইপ পারে না, তাই আমি লিখে দিয়েছি। পরী যা বলেছে, যেভাবে বলেছে আমি তা-ই লিখেছি।
আমাদের এয়ারপোর্টে এত ভিড়!
জুতো মুজো খুলতে হয়েছে। জামা কাপড় সব চেক করেছে। তারপর প্লেনে উঠলাম। জানালার পাশে সিট পাইনি। মাঝখানে বসেছি। মালোশিয়া গিয়ে প্লেন থামলো। সেখানে চার ঘন্টা বিশ্রাম। ট্রানজিট। তারপর আবার প্লেনে উঠলাম। রাতে সাড়ে আটটায় অস্ট্রেলিয়া, সিডনী নামলাম। ইমেগ্রেশন পার হতেই এক কুকুর এলো কাছে। হা হা হা। আমাদের নিতে এসেছেন দুই আংকেল। আংকেলরা আমাদের জন্য বিশাল একটা ফুলের তোড়া নিয়ে এসেছেন। তাদের বাসা সিডনী এপিং। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম। এক ঘুমে সকাল।

এই পিচ্চির নাম যারা। পরীর ভক্ত।

রাস্তায় কোনো জ্যাম নেই।
গাড়ি করে সিডনী হারবার গেলাম। কুজি বিচ গেলাম। সেখানে পিকনিক করেছি। বিশাল বিশাল ঢেউ। আমাকে সৈকতে গোছল করতে দেওয়া হয়নি। ম্যাক ডোনাল্ডসে খেয়েছি। ওরা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইকে চিপস বলে। হা হা হা। ক্যানবেরা গিয়েছি। রাতের বেলা চারপাশ খুব আলোকিত। খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। জিনিসপত্রের দাম খুব বেশি। আমার মতো ছোট ছোট বাচ্চাদের সবাই খুব আদর। তবে এখানে বাচ্চারা আলাদা ঘুমায়। বাবা মার সাথে ঘুমায় না। কেউ জোরে কথা বলে না, কেউ ঝগড়া করে না। সবার মুখে হাসি।

পরী সেলুনে গিয়েছিলো চুল কাটাতে।

ওদের ওয়াশরুমে পুশ শাওয়ার নেই বাবা!
গাড়ি গুলো লাইন করে চলে। রাস্তায় কেউ হর্ন বাজায় না। দুষ্টলোক নেই। তাই কোনো বাসায় জানালায় লক নেই। গাড়ি, বাস ট্রেনে কোনো ভিড় নেই। বিল্ডিং গুলো খুব সুন্দর। অপেরা হাউস, হারবার ব্রিজ, ডারলিং হারবার, সিডনি অ্যাকোয়ারিয়াম, অস্ট্রেলিয়ান ম্যারিটাইম মিউজিয়াম, টোরঙ্গা চিড়িয়াখানা, ম্যানলি বীচ সব কিছুই সুন্দর। সাজানো গুছানো। এক আন্টিকে দেখলাম কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছেন। কুকুরটা খুব কিউট। একটুও দুষ্ট না।


মেরিম্বুলা শহরটাও ভালো লেগেছে।
লেকে নৌকায় করে ঘুরেছি। লেকের পারের রাস্তাটা কাঠ দিয়ে বানানো। ক্যাঙ্গারু দেখেছি। একদম আমার হাতের কাছে এসেছে। ক্যাঙ্গারু চিপস খেতে চেয়েছিল। আমি চিপস দেইনি। ওদের কিছু খাওয়ানো নিষেধ, তাই। Great Ocean Road গিয়েছি। সিডনি থেকে অনেক দূরে। অস্ট্রেলিয়াতে অনেক রোদ। বাইরে বেশ গরম। আমি কালো হয়ে গেছি এই একমাসে। তবে সমুদ্রের পাড়ে অনেক বাতাস। ওদের ইন্টারনেটে স্প্রীড কম। দিদার সাথে আরাম করে কথা বলতে পারিনি।


বাচ্চাদের খেলার জায়গা আছে অনেক।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চায়না মার্কেট, বাংলাদেশের নিউ মার্কেটের মতো মার্কেট দেখেছি। অনেক রাস্তায় ছোট ছোট আলমারিতে বই দেখেছি। ইচ্ছা করলে যে কেউ এই বই পড়তে পারে। এজন্য টাকাও লাগে না। রাস্তা, শপিংমল থেকে শুরু করে সব কিছু দিনের বেলা এক রকম লাগে আবার রাতের বেলা অন্য রকম লাগে। সিডনিতে আমাদের দেশী খাবার পেয়েছি। সব কিছু মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া খুব ভালো লেগেছে। খুব আনন্দ হয়েছে।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




