
মানুষের জীবনে কিছু কিছু অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে যায়।
যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। কেউ ব্যাখ্যা দিলেও ব্যাখ্যাটা মনের মতোন হয় না। এই আধুনিক যুগে অলৌকিক কিছু ঘটলেও তা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। আমার সাথে একটা অদ্ভুত ব্যাপার মাঝে মাঝে ঘটে। আমি নূপুরের শব্দ শুনি। রাতে নূপুরের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। এই নূপুরের শব্দ আমি বছরে দুই তিনবার শুনি। যেমন গতকাল রাতে নূপুরের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। মনে হচ্ছে ছাদে কেউ পায়ে নূপুর পড়ে নাচছে।
আমি নিজেকে বুঝাই রাজীব তুমি ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখছো।
কিন্তু না, স্বপ্ন না। আমার পাশে সুরভি গভীর ঘুমে। আমি নূপুরের শব্দ শুনছি। মোবাইলে সময় দেখলাম- রাত তখন সাড়ে তিনটা। আমি যে দরজা খুলে ছাদে যাবো সেই সাহস আমার হয় না। অথবা সুরভিকে ডেকে বলল, তুমি কি নূপুরের শব্দ শুনতে পাচ্ছো? তা আর বলা হয় না। সে হয়তো ভয় পাবে, অথবা মন খারাপ করবে। স্ত্রীরা তাদের স্বামীকে হিরো ভাবতে পছন্দ করে। ভীতু নয়। এবং সন্তানরা তার বাবাকে সুপারম্যান ভাবতে ভালোবাসে।
সেদিন বাসায় আমি একা।
অনেক রাতে বিছানায় গিয়েছি। আমি ঘর অন্ধকার করে ঘুমাই। সামান্য আলো থাকলেও আমার ঘুমের সমস্যা হয়। ঘরের লাইট বন্ধ করে বিছানায় যাওয়ার পর মনে হলো ঘরে কেউ আছে। আমি যেন স্পষ্ট টের পাচ্ছি। অথচ আমি চোখ খুলতে সাহস পাচ্ছি না। একবার সে আমার মাথার কাছে বসলো। আমি প্রচন্ড ভয় পাচ্ছি। অথচ ভয় পাওয়ার কোনো কারন নেই। আমি একজন আধুনিক মানুষ। কোনো প্রকার কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। ভুত প্রেতের উপর আমার কোনো কালেই বিশ্বাস ছিল না। তবু ভয় পাচ্ছি।
দোলন চাপা ফুলের তীব্র গন্ধ পাচ্ছি।
মানে আমি স্বপ্ন দেখছি না। স্বপ্নে মানুষ গন্ধ পায় না। আমার চোখ বন্ধ কিন্তু কান খোলা। চোখ ইচ্ছা করে বন্ধ রাখা যায় কিন্তু কান বন্ধ রাখা যায় না। রান্না ঘরে খুটখাট শব্দ হচ্ছে। উঠে যে দেখবো- রান্না ঘরে কে, সাহস সঞ্চয় করতে পারছি না। আমি নিজে নিজেকে সাহস দিচ্ছি, রাজীব ভয় পেও না। রান্না ঘরে ইঁদুর হতে পারে। অবশ্য আমার বাসায় কোনো ইঁদুর নেই। ফুলের গন্ধটা আসছে পাশের বাসা থেকে। পাশের বাসার মালা ভাবীরা অনেক ফুল গাছ লাগিয়েছেন।
আমি মোটকা মেরে আছি।
এখন সে আবার আমার মাথার কাছে বসেছে। তার হাতে কাচের চুড়ি। শ্রুতিমধুর একটা শব্দ পাচ্ছি। এবং কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েটি নীল রঙের একটা শাড়ি পরা। এক আকাশ ভয়ে আমি কাঁপছি এবং মনে মনে আল্লাহকে ডাকছি। মেয়েটি আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার কপালে হাত রেখে বলল- ভয় নেই, তুমি আরাম করে ঘুমাও। মেয়েটির হাত খুব ঠান্ডা। মেয়েটির শরীর থেকে মিষ্টি একটা গন্ধ আসছে। আমি একটু একটু করে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছি। আহ কি শান্তি আর আনন্দময় ঘুম!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




