
গাম্বিয়া পশ্চিম আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র। এটি আফ্রিকা মহাদেশের মূল ভূখন্ডের ক্ষুদ্রতম দেশ। গাম্বিয়া নদী থেকেই মূলত দেশটির নামকরণ। গাম্বিয়া নদী দেশটির মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে। গাম্বিয়া একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। চীনাবাদাম এখানকার প্রধান উৎপাদিত শস্য এবং প্রধান রপ্তানি দ্রব্য। পর্যটন শিল্প থেকেও আয় হয়। ১৯৬৫ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে মাত্র দুজন প্রেসিডেন্টকে দেখা গেছে। নবম ও দশম শতাব্দীতে গাম্বিয়া অঞ্চলে আরব ব্যবসায়ীদের আগমণ ঘটে। এই দেশে প্রচুর পাখি রয়েছে। তাই পর্যটকরা পাখি দেখতেও ভীড় করেন এই দেশে। মুসলিমপ্রধান একটি দেশ গাম্বিয়া। তাদের দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারেরও কম।

বন্দর শহর বাঞ্জুল দেশটির রাজধানী। সেরেকুন্দা দেশের বৃহত্তম শহর। এখানে রয়েছে জাতীয় জাদুঘর ও ঔপনিবেশিক স্থাপত্য। কেনাকাটার জন্য রয়েছে নামকরা অ্যালবার্ট মার্কেট। শিক্ষার ক্ষেত্রে গাম্বিয়া খুব এগিয়ে না থাকলে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে(আইসিজে) গেল নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে গাম্বিয়া। মূলত এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারো দেশটির প্রসঙ্গ চলে আসে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল গাম্বিয়াকে এ মামলা চালিয়ে যেতে ওআইসিসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশ সহায়তা করছে। কূটনৈতিকভাবে তাদের পাশে আছে বাংলাদেশও। গাম্বিয়া মানবিকতার দিক থেকে এখন শীর্ষেই থাকবে।

মানবাধিকার, সম-অধিকারের বিষয়ে এত দিন পশ্চিমাদেরই চ্যাম্পিয়ন বলে মনে করা হতো। কিন্তু গাম্বিয়া সেই ধারণা পাল্টে দিল খানিকটা। দরিদ্র, ক্ষুদ্র দেশও যে মানবাধিকার, জন-অধিকারের পক্ষে কথা বলতে পারে, গাম্বিয়া তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জনসংখ্যা মাত্র ২০ লাখ। তিন দিকে সেনেগাল দিয়ে ঘেরা। গাম্বিয়ার আয়তন ১০ হাজার ৬৮৯ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের মোট আয়তনের চৌদ্দ ভাগের এক ভাগ। আফ্রিকার অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো গাম্বিয়াও দাস প্রথার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী। গাম্বিয়ার আরও একটি মজা হল, এখানে সমুদ্র সৈকতে প্রকাশ্যে যৌনতায় লিপ্ত হওয়া যায়। কেউ কোনও কিছুই মনে করে না। বাংলাদেশ থেকে ভিসা ছাড়া বিশ্বের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করা যায়। এমন একটি দেশ গাম্বিয়া। গাম্বিয়ার প্রধান সমুদ্রসৈকত কোতু।

ষোল শতকের শেষের দিকে গাম্বিয়ায় পর্তুগিজ বণিকদের আগমন শুরু হয়। এরপর আসে ব্রিটিশরা। তারপর ফরাসিরা। সতেরো এবং আঠারো শতকে গাম্বিয়ার দখল নিয়ে ফরাসি এবং ব্রিটিশদের মধ্যে একাধিকবার যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশরা জয়ী হয় এবং উনিশ শতকে এটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়। তখন এটি ব্রিটিশ গাম্বিয়া নামে পরিচিত ছিল। কথায় বলে বেদনাহত মানুষই বেদনার ভাষা বোঝে। তাইতো গাম্বিয়ার জরাজীর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তাম্বাদু রোহিঙ্গাদের হৃদয়ের আর্তি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি শুনেছেন। আমি মনে করি, আবু বকরকে আমাদের দেশে এনে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হোক।

(তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

