
দুর্গম গিরি, কান্তার মরূ, দুস্তর পারাবার
লংঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে যাত্রীরা হুশিয়ার
আজ ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ছে।
তখন আমরা বিশেষ দিন গুলোতে খুব আনন্দ করতাম। যেমন ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জন্য একটা বিশেষ দিন ছিল। আমাদের এলাকার সমস্ত ছেলেরা এই দিনইটি খুব উপভোগ করতাম। তারা আজ কোথায় হারিয়ে গেছে কে জানে! ১৬ ডিসেম্বর আসার আগেই আমরা বেশ কয়েকবার মিটিং করতাম- দিনটা কিভাবে সফল ভাবে পালন করা যায়। একেকজন একেক রকম বুদ্ধি পরামর্শ দিত। মিটিং শেষে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতাম। এলাকার সব বাড়ি-বাড়ি থেকে টাকা সংগ্রহ করতাম। কেউ টাকা না দিলে তার কাছ থেকে নিতাম চাল, ডাল বা আলু, তেল। এলাকার সবাই দিনটি সফল করতে এগিয়ে আসতো।

তিন চার দিনে অনেক টাকা জমে যেত।
সেই টাকা দিয়ে পতাকা কিনতাম। কাগজের ছোট পতাকা। চিকন রসি কিনতাম। আটা কিনে আঠা বানাতাম। সারারাত জেগে আমাদের পুরো এলাকায় পতাকা টাঙ্গাতাম। কাজ শেষ হতে হতে ভোর হয়ে যেত। আমি জানি না শ্রদ্ধেয় ব্লগার চাঁদগাজী এমনটা কখনও করেছেন কিনা! আমার মনে আছে সেই রসি দিয়ে টানানো পতাকা অনেকদিন পর্যন্ত থাকতো। একসময় রোদে, বৃষ্টিতে পতাকা গুলো নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু রসিটা আরো বেশি দিন পর্যন্ত থাকতো। কেউ যেন আমাদের টানানো পতাকা ছিড়ে ফেলতে না পারে সেদিকেও আমাদের খেয়াল ছিল। সেই দিন গুলো আমি খুব মিস করি।

পতাকা, রসি ইত্যাদি কেনার পরও অনেক টাকা বেঁচে যেত।
সেই টাকা দিয়ে পরের দিন (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে খিচুরী রান্না করা হতো। পুরো এলাকার মানুষ আগ্রহ নিয়ে সেই খিচুরী খেত। যারা আসতো পারতো না তাদের বাসায় গিয়ে খিচুরী দিয়ে আসতাম। খিচুরী খুব মজা হতো। বেশ একটা পিকনিক হয়ে যেত। বড় আনন্দের দিন ছিল। এযুগে ছেলেদের এরকম করতে দেখি না। এখন কেউ মহল্লায় পতাকা টানায় না। খিচুরী রান্না করে না। এখনকার ছেলেরা মেয়েরা এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত। শুধু ১৬ ডিসেম্বর না, আমরা ২১ শে ফেব্রুয়ারীতে খিচুরীর আয়োজন করতাম। মাটি দিয়ে শহীদ মিনার বানাতাম। সেই বানানো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতাম।

আজ ১৬ ডিসেম্বর।
আমি সকাল থেকেই বাংলাদেশের পতাকাওয়ালা একটা গেঞ্জি পড়ে বসে আছি। সকালে বাইরে গিয়ে দেখি কোনো ছেলেরা আমাদের সময়কার মতো করে পতাকা টাঙ্গায় নাই। আমি মনে মনে আশা করি সমস্ত কিশোর ছেলেরা মিলে আমার কাছে আসুক। এসে বলুক পতাকা টাঙ্গাবো, খিচুরী রান্না করা হবে- সবাই মিলে খাবো। আমি তাদের সাথে সাথে কিছু টাকা দিবো। তাদের উৎসাহ দিবো। প্রয়োজনে তাদের সাথে থাকবো। কিন্তু কেউ আসে না। অথচ এই সমস্ত ছেলেদের দেখি গলির মোড়ে আড্ডা দেয়। কেমন বিছছিরি করে চুল কাটে, চিপা প্যান্ট পড়ে আর সারাক্ষণ মোবাইল টিপাটিপিতে ব্যস্ত।

লাল সবুজের দেশ যেন থাকে বেশ, সারা বছর লেগে থাকুক বিজয়ের রেশ।
মহান বিজয় দিবসে সমস্ত ব্লগারকে জানাচ্ছি বিজয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ত্রিশ লক্ষ মানুষকে যদি একের উপর এক শোয়ানো হয় তবে তার উচ্চতা হবে ৭২০ কিলোমিটার, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতার ৮০ গুণ! ত্রিশ লক্ষ মানুষ যদি হাতে হাত ধরে দাঁড়ায় তবে তার দৈর্ঘ্য হবে ১১০০ কিলোমিটার, যা টেকনাফ হতে তেঁতুলিয়ার দূরত্বের চেয়েও বেশি! ত্রিশ লক্ষ মানুষের শরীরে মোট রক্তের পরিমাণ ১.৫ কোটিলিটার, যা শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীতে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত পানির সমান!
আজ আমরা স্বাধীনতার ৪৯ বছরে পদার্পণ করলাম। স্বাধীনতার সত্যিকার সুখ যেন অনুবভ করতে পারে সর্বস্তরের সকল জনগণ। ৩০ লক্ষ শহীদরা যেন মর্মহত না হয় আমাদের কোনো কারণে।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

