somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সুন্দরবনের গল্প

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সুন্দরবনে আমি অনেকবার গিয়েছি।
দুর্বলার চর, হিরন পয়েন্ট, কটকা ইত্যাদি এলাকায়। কিন্তু একবারও মনের মতো ছবি তুলতে পারি নি। আলোর স্বল্পতার কারনে। টানা তিনবার গিয়েছি পিকনিক করতে। ইয়া বড় জাহাজে করে। কমপক্ষে একশ' জন মিলে গিয়েছিলাম। খুব মজা হয়েছিলো। প্রত্যেকবারই শীতের সময় গিয়েছি। ওরে শীত! শীতে আঙুল বাঁকা হয়ে যায়- এমন শীত। বঙ্গোপসাগরের বাতাস এসে গায়ে তীরের মতো বিঁধে। বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যখন আমাদের জাহাজ যায়- অসাধারন লাগে তখন। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সেই অভিজ্ঞতা। চারপাশ দেখে মন ভরে যায়। তবে টানা তিন চার দিন পানির উপর থাকতে কিছুটা বিরক্ত লাগে।

সুন্দরবনের দুই পাড়ের দৃশ্য অতি মনোরম।
হরিন আর বানর খুব বেশি দেখা যায়। ভাগ্য ভালো হলে কুমির দেখা যায়। অবহেলায় কাঁদা মাটিতে শুয়ে থাকে। নানান রকম গাছপালায় ভরা। একটা ঘটনা বলি- তখন রাত প্রায় একটা। এমভি মাছরাঙ্গা তিনতলা লঞ্চ। বিশাল লঞ্চ। প্রচন্ড শীত। যে যার মতো কবিনে শুয়ে বসে আছে। আমার ঘুম আসছিলো না। ভাবলাম একটু হাটাহাটি করি। আমার ছোট চাচার বন্ধুর কেবিনে দেখি খুব হইচই হচ্ছে। ঘটনা কি জানার জন্য কেবিনে ঢুকলাম। গিয়ে দেখি তারা মদ খাচ্ছে আর তাস খেলছে। বিরাট উত্তেজনা তাদের চোখে মুখে। চাচার বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন- আসো, আসো। বসো।

চাচার অন্য এক বন্ধু বললেন-
ভাতিজা একটু লাল পানি খাও। শরীরটা গরম করো। আমি বললাম, আমি মদদত খাই না। আহ হা একটু খাও, ভালো লাগবে। যা শীত! আমি সত্যি সত্যি পুরো এক গ্লাস খেয়ে ফেললাম। আধা গ্লাস মদ আর বাকিটা কোক মিলিয়ে। খেয়ে লঞ্চের ছাদে গেলাম। ছাদে গিয়ে আমার মাথা নষ্ট। কুয়াশা কেটে গেছে। আকাশ পরিস্কার। জোছনা রাত। তীব্র চাঁদের আলো। চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। জোছনায় পানি গুলো ঝকমক করছে। এত সুন্দর! এত সুন্দর লাগছিলো যে, আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। ইচ্ছা করছিলো এই সুন্দরের মধ্যে ডুবে যাই। মরে যাই। ডুব দেওয়ার নিমিত্তে প্রস্তুতি নিচ্ছি। একদম রেলিঙ ধরে ধরে কোনায় এসে দাড়িয়েছি। লাভ দিবো, এমন সময় পেছন থেকে আমার আব্বা এসে আমাকে জাপটে ধরে ফেলে।

একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি-
কলেজে ভর্তি হবার পর সব বন্ধুরা মিলে একবার সুন্দরবন গিয়েছিলাম। আমার সাথে আমার পাঁচ বন্ধু ছিল। সেবার গিয়েছিলাম দুবলার চর। লঞ্চ থেকে নেমে আমরা হাঁটতে হাঁটতে বনের গভীরে চলে গিয়েছিলাম। আমাদের সাথে তখন কোনো গার্ডও ছিলো না। বনের এতই গভীরে চলে গিয়েছিলাম আমরা পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমরা হাঁটতে হাঁটতে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের সাথে কোনো খাবার নেই। এক বোতল পানি ছিলো। সেটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আমার বন্ধুরা বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। আমি মোটেও ভয় পাই নি। নরোত্তম নামে এক বন্ধু বিড়বিড় করে বারবার বলছিলো- বাবা ভোলানাথ পথ দেখাও। পথে দেখাও। আর আসবো না কোনোদিন এ পথে, বাবা ভোলানাথ।

আমিই সবার আগে হাঁটছিলাম।
হুটহাট আমার সাহস খুব বেড়ে যায়। এমনিতে আমি খুব শান্ত। কেউ ধাক্কা দিয়ে ড্রেনে ফেলে দিলেও আমি কিছু বলি না। যাই হোক, হঠাত আমার বন্ধুরা আমাকে রেখেই উল্টো দিকে দৌড়ে শুরু করলো। আর চিৎকার করে বলতে থাকল বাঘ! বাঘ! আমি ভালো করে চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম- কোথাও বাঘ দেখা যাচ্ছে না। বন্ধুরা কি আমাকে ভয় দেখাতে চাচ্ছে? আমার খুব রাগ লাগল, বন্ধুদের উপর। এতো রাগ লাগল যে, আমি অদৃশ্য বাঘের দিকে পাগলের মতো দৌড় লাগালাম। বাঘ হয়তো আমাকে দেখে, আমার চোখমুখ খিচিয়ে দৌড় দেওয়ার স্টাইল দেখে- ভয় পেয়ে উলটো দিকে দৌড় শুরু করলো। বাঘ ছুটছে, আমিও ছুটছি বাঘের দিকে। একটুর জন্য বাঘটাকে সেদিন ধরতে পারিনি। তারপর আমার বন্ধুরা আমার সাহস দেখে আমাকে 'টাইগার' উপাধি দেয়। হে হে।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২৮
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×