somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী - ৫০

০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ বাইরে গিয়েছিলাম।
অদরকারে না। দরকারেই বাইরে গিয়েছিলাম। যদিও সারাদিন বাসায় শুয়ে বসে থাকা আমার জন্য মোটেও আনন্দময় কিছু না। ঘরে বাজার সদাই কিছুই নেই। অল্প কিছু বাজার করলাম। বাজারের অর্ধেকের বেশি দোকান খোলা। বাজারে জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক কম। ডিম কিনলাম ৯০ টাকা ডজন। পেয়ারা কিনলাম দুই কেজি ১৪০ টাকা দিয়ে। নানান রকম বিস্কুট কিনলাম ৫০০ টাকার। আলু কিনলাম ৫ কেজি। ২২ টাকা করে কেজি। টমেটো কিনলাম দুই কেজি ৪০ টাকা দিয়ে। একটা বড় লাউ কিনলাম ত্রিশ টাকা দিয়ে। দুই পেকেট বেনসন সুইস কিনলাম ৫১০ টাকা দিয়ে। শশা কিনলাম দুই কেজি ৬০ টাকা। অনেককেই দেখলাম দুই তিন পেকেট করে সিগারেট কিনছে। আমার কাছে টাকা থাকলে আরো কয়েক পেকেট কিনে রাখতাম।

রাস্তার পরিবেশ বেশ ভালো।
অল্প কিছু লোক বাইরে। এই কিছু লোক বাইরে থাকবেই। এই শ্রেনীর লোকজন কোনো নিয়ম কানুন মানে না। এরা গর্ধব শ্রেনীর। প্রতিটা নাগরিকের রাষ্ট্রের নিয়ম নীতি মেনে চলাই উচিত। শুনেছি ৭১ সালে যুদ্ধের মধ্যেও নাকি কিছু লোক বাইরে বের হতো। দুই একটা সিনেমা হলও নাকি খোলা ছিলো। কেউ কেউ সিনেমা দেখতেও যেত। আজ বেশ কয়েকটা চায়ের দোকান খোলা দেখলাম। এক দোকানে দেখলাম- পুরী পিয়াজু আর আলুর চপ বিক্রি হচ্ছে। বাজারে লোকজন বেশ ভালোই আছে। রাস্তায় পুলিশের চেকপোষ্ট দেখলাম। তিন চারজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কোনো কাজ নেই। তারা মোবাইল টিপাটিপিতে ভীষন ব্যস্ত। ট্রাফিক পুলিশ অযথাই রিকশাওলাদের উপর ক্ষমতা দেখাচ্ছে। কারো কারো রিকশা রাস্তায় পাশে উলটা করে ফেলে রেখেছে। গলির ভেতর সবজির দোকান গুলো খোলা। মসজিদে কিছু লোকজন নামাজ পড়ছে।

এক দোকানে দেখলাম লুডু সাজিয়ে রেখেছে।
লোকজন বেশ আগ্রহ নিয়ে লুডু কিনছেন। আমার বাসার লোকজনও খুব আগ্রহ নিয়ে লুডু খেলছে। সুরভি সন্ধ্যায় নিচে নামে। লুডু খেলে রাত ১১ টায় উপরে আসে। এসেই আমাকে বলে আজ আমি জিতেছি। হে হে। আমি থাকি ছয় তলায়। সারাদিন কড়া রোদ। পুরো ঘর গরম হয়ে থাকে। আমার ঘরে নাই এসি। অথচ গরম আমি সহ্য করতে পারি না। সারারাত ঘুম আসে না। বই পড়ি। মুভি দেখি। ঘুমাতে যাই শেষ রাতে। উঠি বারো টায়। গোছল টোছল করে ফ্রেশ হতে হতে দেড়টা বেজে যায়। সকালের নাস্তা আর খাই না। একেবারে দুপুরের ভাত খাই। আমি একাই ভাত খাই। সুরভি রোজা। আজকে রান্না হয়েছে পুঁই শাক দিয়ে চিংড়ি মাছ, আলু ভরতা, ডাল, বরবটি ভরতা, আর কাইকা মাছ বেগুন দিয়ে ভাজা ভাজা। আমি ভাত খাই, কম ভলিউমে গান চলে রবীন্দ্রনাথের। গান শুনতে শুনতে ভাবি- রবীন্দ্রনাথের গান গুলো হতে পারে পৃথিবীর সঙ্গীত। প্রতিটা গান আমাকে ভাবায়। আমাকে আনন্দ দেয়।

নিজের মনে প্রশ্ন জাগে-
কিছুদিন আগেও তো স্লোগান ছিল আমাদের খাদ্যের অভাব নেই, বস্ত্রের অভাব নেই। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। কিন্তু হঠাৎ করে যেভাবে ত্রাণ বিতরণের নমুনা দেখতে পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে দেশে এখন দুর্ভিক্ষ চলছে। আসলেই কি তাই? করোনার দিনে গ্রাম গুলোতে মানুষজন কেমন আছেন? বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ? আজ আমাদের বুয়া সুরভিকে ফোন দিয়ে বলল- কোয়ারেন্টাই ঘরেন্টাইন,
গরিব মানুষ মরেন্টাইন। বুয়াকে বিকাশ করে এক হাজার টাকা পাঠালাম। আমার এই বুয়া কিন্তু দরিদ্র না। তার ঘরে টিভি ফ্রিজ সবই আছে। মাসে বুয়া দশ হাজার টাকা ঘর ভাড়া দেয়। বুয়ার জামাই বেইলী রোডে ফুচকা বিক্রি করে। যাই হোক, আজ লেখা এখানেই শেষ করছি। এমন আকালের দিনে টাঙ্গাইলের চমচম খেতে ইচ্ছা করছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:২৭
১৮টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাদীস সংগ্রাহক

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৬



হাদীস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মুসলমানদের জন্য।
যদিও দুষ্টলোকজন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন। তাতে সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হয় মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুড ওল্ড নাইন্টিজ

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৭ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:৪২



আমরা গল্প করছিলাম সাত্তার মিয়ার চায়ের দোকানে বসে। সাত্তার মিয়া জঘন্য চা বানায়। আমার বন্ধু সোবহানের মতে এই চা ঘোড়ার মুতের সমতূল্য। সাত্তার মিয়ার সামনেই এসব আলোচনা করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাহায্যও নাকি আবার বেআইনী হয়? দুনিয়ার ম্যাঁওপ্যাঁও

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



আমি কুইন্স বরোর সীমানার সাথে লাগানো, লংআইল্যান্ডের একটা এলাকায় বেশ কিছু সময় চাকুরী করেছিলাম; এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে এক সাদা রমনীকে সাহায্য করে, ধন্যবাদের বদলে হুশিয়ারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি নিয়ে আসলে রাজনীতি করেছে কারা, ছবির জন্য নামাজ পড়িয়েছে কারা

লিখেছেন গুরুভাঈ, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৮:২৪



ছবি দেখুন। আমাদের যে ছবিটা দেখানোর জন্য এই নামাজের আয়োজন করা হয়েছে আমরা শুধু সেই ছবিটাই দেখেছি এবং অনেকে দ্বিদ্ধানিত আছি এই ভেবে যে হয়ত আসলেই শুকনা জায়গা ছিলোনা বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন কাটালাম এবারের ঈদ!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১৩

(পোস্টটা গতকালের লেখা)

গতকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর গত হয়ে গেল! মনের মাঝে আনন্দ বিষাদের বিচিত্র সব অনুভূতি খেলা করে চলছিল সেই সকাল থেকেই। এবারের রোযার মাসটা আল্লাহতা’লার অশেষ রহমতে খুব ভাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×