

মানুষের ঘুমের প্রয়োজন আছে।
আমি মানুষ আমার ঘুমের দরকার আছে। কমপক্ষে পাচ ঘন্টা ঘুম হলেও আমার চলবে। কিন্তু আমার ঘুম আসে না। একেবারেই আসে না। ফযরের আযান দিয়ে দেয় কিন্তু ঘুম আসে না। সকাল ৭/৮ টা বেজে যায় কিন্তু ঘুম আসে না। মুভি দেখে, বই পড়ে রাত তিনটায় বিছানায় যাই। তিনটা থেকে সকাল আট টা পর্যন্ত বিছানায় গড়াগড়ি করি। একফোটা ঘুম আসে না। উফ কি যে যন্ত্রনা! কি যে কষ্ট! অথচ আমার পাশেই সুরভি গভীর ঘুমে। তার কোনো ঘুমের সমস্যা নাই। মুহুর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত আমি সুরভির ঘুমের সমস্যা দেখলাম না। স্বামীর ঘুম আসে না, আর স্ত্রী আরাম করে ঘুমায়। এটা কোনো কথা হলো! স্ত্রী লোকেরা স্বামীর সেবা যত্ন করবে। স্বামী না ঘুমালে স্বামীর পাশে বসে থাকবে।
আমি স্বপ্ন দেখি।
আমি না ঘুমিয়ে চোখ বন্ধ করে স্বপ্ন দেখি। ইচ্ছা করে নিজের মতো করে স্বপ্ন গুলো দেখি। স্বপ্ন দেখতে দেখতে একসময় স্বপ্নে আর আমার নিয়ন্ত্রনে থাকে না। এ বড় অদ্ভুত মজার খেলা। প্রতিদিনই আমি এই মজার খেলা খেলছি। গতকালের স্বপ্নের কথাটা বলি। ফযরের আযানের সময় নিশ্চি্ত হলাম- আজও ঘুম হবে না। আসলে ঘুম হওয়ার কথাও না। পরিশ্রম না করলে কি ঘুম আসে না। সারাদিন শুয়ে বসে আছি। আচমকা ইচ্ছা করে স্বপ্ন বানাতে শুরু করলাম। কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বিরক্ত লাগবে না। নিজেকে নিজে বুঝাচ্ছি রাজীব তুমি গভীর ঘুমে। এই ঘুম সামান্য শব্দে ভাংবে না। জানালা দিয়ে কিছু জোছনা আমার গায়ে এসে পড়েছে। আমি সেটা দেখছি না। কারন আমি গভীর ঘুমে। ঘুমন্ত স্ত্রীর মুখের দিকেও তাকাই না। তাতে প্রেম বেড়ে যেতে পারে।
কেমন একটা অচেনা জায়গায় চলে গেছি।
চারিদিকে কুয়াশা। এত কুয়াশা যে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। আমার বেশ শীত শীত করতে লাগলো। একটা পাতলা চাদর গায়ে দিতে পারলে ভালো লাগতো। কুয়াশা কেটে যাবে আমি সেই অপেক্ষায় আছি। হঠাত দেখি আমার পাশে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। মেয়েটাও কি আমার মতো কুয়াশা কেটে যাবার অপেক্ষায় আছে? খুব সুন্দর একটা মেয়ে। সহজ সরল সুন্দর। মুখটা ভীষন মায়ামায়া। সুন্দর একটা শাড়ি পরেছে। মেদবিহীন ফর্সা পেট দেখা যাচ্ছে অনেকখানি। বেশির ভাগ মেয়েই সুন্দর করে শাড়ি পড়তে পারে না। তাদের পেট বের হয়ে থাকে। দুষ্টপুরুষ লোকেরা কুৎসিত ভাবে তাকিয়ে থাকবে এই টেনশনে। যে মেয়ের পেট দেখা নিয়ে টেনশন নেই, সেই মেয়ের শাড়ি পরাটাই সব সময় সূন্দর হয়। দুই হাত ভরতি কাচের চুড়ি। কোমর পর্যন্ত চুল। চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। কপালে ছোট্র একটা টিপ। মেয়েটাকে দেখে মনে হলো- একটা মানুষ এত সুন্দর হয় কি করে!
মেয়েটা চোখে মুখে এক আকাশ বিস্ময় নিয়ে বলল-
আপনার নৌকা ছেড়ে দিচ্ছে। ভালো করে তাকিয়ে দেখুন। আমি তাকিয়ে দেখলাম। বেশ বড় একটা নৌকা। নৌকায় বেশ কয়েকজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে। সবার চোখে মুখে কেমন একটা আনন্দ আনন্দ ভাব! যেন সবাই পিকনিক করতে যাচ্ছে। আমি মেয়েটাকে বললাম, নীলা তুমিও আমাদের সাথে চলো। নীলা কিছুক্ষন কি যেন ভাবলো। তারপর বলল, আচ্ছা, ঠিক আছে চলুন। নৌকা বেশ দুলছিলো। আমি নীলার হাত ধরে নৌকায় তুললাম। আহ কি সুন্দর নরম কোমল হাত! নৌকা দুলতে দুলতে চলছে। আমি নীলাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছি। নীলা আমার কাধে মাথা রেখেছে। নীলার গা থেকে মিষ্টি একটা সৌরভ আসছে। নীলা গুনগুন করে গান গাচ্ছে। চমতকার গলা। ''ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান/ তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান/ আমার আপনহারা প্রাণ, আমার বাঁধন-ছেড়া প্রাণ''।
স্বপ্ন আর আমার নিয়ন্ত্রনে নেই।
স্বপ্ন বদলাতে শুরু করেছে। মা চিৎকার করে বললেন, রান্না শেষ খেয়ে নে। মা খাবার বেড়ে দিলেন। আয়োজন বেশ ভালো। গরম গরম ইলিশ মাছ ভাজা। খিচুড়ি, বেগুন ভাজা। দুই রকমের আচার। মা বললেন, এই তোর পাশে মেয়েটাকে কে রে? আমি বললাম, এটা আমার বউ। মা রেগে গিয়ে বললেন, তুই আরেকটা বিয়ে করেসিছ। আমি বললাম, মা বকবক করো না তো খাবার দাও। নীলার খুব খিদে পেয়ছে। নীলা বলল, বাবু তুমি আমাকে খাইয়ে দাও। এক এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে আমি নীলাকে খাইয়ে দিলাম। এমন সময় কোথা থেকে একটা বাচ্চা মেয়ে এসে বলল, বাবা আমাকেও খাইয়ে দাও। আমি বলল, প্লীজ পরী বিরক্ত করো না। তোমার মাকে খাইয়ে দিতে বলো। পরী বলল, মা তোমাকে খাইয়ে দিতে বলেছে। নিজের মা আর কন্যা উপর বেশ বিরক্ত লাগলো। এরা কি চায় না আমি একটু আনন্দে থাকি।
নীলা আর পরীকে আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
এমন সময় সুরভি এসে উপস্থিত। তার চোখ মুখ লাল। সুরভি চোখ মুখ খিচিয়ে বলল, এই মেয়ে কে? আমি খুব সহজ ভাবে বললাম, এটা আমার বউ। সূরভি বলল- তুমি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, যাও তো সামনে থেকে। এখন বিরক্ত করো না। নীলার মনে হয় জ্বর এসেছে। পরী বেশ খুশি। সে নাচছে আর বলছে আমার দু'টা মা। আমার দু'টা মা। আমি বললাম, দেখো, সুরভি পরী কত খুশি। তুমিও খুশি হও। সুরভি একটা বটি নিয়ে এসেছে। সে আমাকে বটি দিয়ে কাটবে। তখন নীলা সুরভিকে বলল, আপনি এমন করছেন ক্যান? আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি। মিলে মিশে থাকতে পারলেই জীবনটা আনন্দময় হয়। সুরভি বলল, আজকে তোদের খবর আছে। বটির কোপ খাওয়ার আগেই আমি আর নীলা নদীতে ঝাঁপ দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




