somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নাস্তিকের গল্প

২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(ধার্মিকেরা দয়া করে এই গল্প পড়বেন না।)

আমি মরে যাওয়ার অনেক পরে বুঝতে পারলাম যে আমি মরে গেছি।
আমার এইটুকু মনে আছে, মরার আগে আমার মেজাজ অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত ছিল। কারন জীবন, সমাজ, ঘর সংসার আর সমাজের জটিলতা- কুটিলতা নিয়ে আমি দিশেহারা ছিলাম। যাই হোক, মনে হয় সম্ভবত আমাকে কবর দেওয়া হয়েছে। অন্ধকার একটা জাগায় শুয়ে আছি, আশে পাশে কেউ নেই। জায়গাটা অন্ধকার হলেও সব কিছু দেখতে পাচ্ছি। কিভাবে দেখতে পারছি জানি না।

হঠাৎ দুইটা অদ্ভুত লোক আসলো আমার সামনে।
কেন জানি লোক দুইটাকে দেখে মেজাজ গেলে আরও খারাপ হয়ে। অদ্ভুত লোক দুইটা আমার কাছে এসে বলল- দুইতিনটা প্রশ্ন করবো- তাড়াতাড়ি উত্তর দিবেন। আমাদের সময় কম।
বেয়াদপ দুইটার কথা শুনে- আমার মেজাজ হয়ে গেল খারাপ।
আমি বললাম, আচ্ছা, প্রশ্ন করেন কিন্তু তার আগে আপনাদের পরিচয়টা দেন। আমার কথা শুনেই লোক দুইজন অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে তাকালো। যেন আমি তাদের অপমান করেছি। দুইজনের মধ্যে যে লোকটা একটু বেশী লম্বা সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল- মশকরা করো? আমাদের চিনতে পারো নি!
আমি বললাম- দেখেন আমার মেজাজ অত্যধিক খারাপ, এখন আমি মশকরা করার মত অবস্থায় নাই।
দুইজনের মধ্যে যে লোকটার দাঁত উঁচু সেই লোকটা বলল- তুমি মরে গেছো। এটা কবর আর আমরা আল্লাহর ফেরেশতা, আমার নাম মুনকার আর উনার নাম নকীর।

আমি এখন পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে আমি মরে গেছি।
নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই এক ধরনের আনন্দ পেতে শুরু করলাম।
মুনকার আমাকে প্রশ্ন করলেন- বল, তোর রব কে? আমি মাথা চুলকে বললাম- ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই কথা বলতেই- তারা দুইজন এক আকাশ সমান অবাক হয়ে গেলেন!
নকীর আমার দিকে কিটমিটিয়ে তাকিয়ে বললেন- মুনকারের চেয়ে আমার রাগ অনেক বেশী- সজাসুজি উত্তর দে। তারপর তরে মজা দেখাচ্ছি ।

হঠাৎ আমার খুব রাগ লাগল।
হাতের কাছে পেলাম একটা লাঠি। সেই লাঠি দিয়ে দুইটাকে খুব মারলাম। মেরে রক্ত বের করে দিয়েছি। তারপর তারা কোথায় যেনো পালিয়ে গেল। হঠাৎ করে খুব অবস্বাদ লাগছে। আমি চিন্তা করতে লাগলাম আমার প্রিয় মানূষদের কথা। তারা কে কোথায় আছে? কেমন আছে? নীলা নামের একটা মেয়ের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই মেয়েটাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। কথা ছিল সেই মেয়েটার বু্কে মাথা রেখে একদিন খুব কাঁদবো। সেই মেয়েটার প্রতি আমার কত ভালোবাসা ছিল- তা কোনোদিন মেয়েটাকে আর বলা হবে না। মেয়েটা আমাকে এক আকশ ভালোবাসা নিয়ে গান শোনাতো- "মাঝে মাঝে তব দেখা পাই , চিরদিন কেন পাই না…

আমার চিন্তায় ছেদ পড়ল।
ওই দুইটা আবার আসছে। একটার হাতে বেন্ডেজ আর একটার কপালে বেন্ডেজ এবং দুজনেরই ঠোঁট ফুলে আছে। আমি তাদের বললাম, আবার কেন? তারা বলল- আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে আপনার মত 'পিস' একটাও পাইনি। আপনি তো রীতি মত মৃত্যুর পরের জগতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন।
আমি বললম- পাকনামো বাদ দেন, কাজের কথায় আসেন। তারা বলল- আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এখন আপনি যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারবেন। আপনাকে কেউ বাঁধা দিবে না। নতুন আইন লেখা হবে তারপর আপনাকে ধরা হবে, বিচার হবে, শাস্তি হবে। ততদিন আপনি মুক্ত।

এই হচ্ছে আমার ভূত হওয়ার কাহিনী। কেউ আমাকে দেখে না কিন্তু আমি সবাইকে দেখি। খুব মেজাজ খারাপ হলে দুই একটাকে চড় থাপ্পড় দেই। জীবিত থাকা অবস্থায় যে রকম জেনেছিলাম- ভূত সম্পর্কে- সব ভুল জেনেছিলাম। ভূত কারো রক্ত খায় না। আসলে ভূতের কোনো ক্ষুধাবোধ নেই। ভূত কারো ভালো বা মন্দ করতে পারে না। শুধু শুধু মানুষ পৃথিবীতে বাজে কথা বলে ভূতদের নিয়ে। এটা আমার মোটেও পছন্দ না। এখন আমি খুব সুখে আছি। ইচ্ছা করলেই যেখানে খুশি যেতে পারি। আমি দূরে কোথাও যাই না। সারাক্ষণ মানুষদের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করি। কি যে আনন্দ পাই! এত আনন্দের কারনে মাঝে মাঝে চোখ ভিজে ওঠে। ভূতদের সবচেয়ে কষ্ট হলো তারা খুব একা। অনেক লেখকরা বলেন- ভূতরা গাছে থাকে। হা হা হা...। লেখকগুলো কতো বোকা হয়। ভূতরা দূর থেকেই সব স্পষ্ট দেখতে পায়। খেলা শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটা ভূত জানে আজ কে জিতবে। যে কোনো মানূষের দিকে তাকালের বলে দিতে পারে- তার মনের কথা গুলো কি কি!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:২৯
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×