somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একজন মারিনা আবরামোবিক

২৪ শে জুন, ২০২০ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষের মস্তিষ্ক কি আসলে?
আমাদের চিন্তা ভাবনা আমাদের জীবন যাপন, জীবন ধারণ সব কিছু চালিত হচ্ছে মস্তিস্ক থেকে হৃদয় বা হৃৎপিন্ড আমাদের বাঁচিয়ে রাখার একটি অঙ্গ মাত্র এর বেশি কিছু নয়। মানুষের চেয়ে মানুষ দুনিয়াতে দ্বিতীয়টি নেই। সময় সুযোগ অতি ভালো মানুষকেও অমানুষ বানিয়ে দেয়। হৃদয়হীন আর অমানবিক করে দেয়। প্রতিটা মানুষের মধ্যে কুৎসিত একটা রুপ আছে। আসলে প্রতিটা মানুষের একটা মূখোশ আছে। যা বিভিন্ন সময় বের হয়ে আসে। আজ আমি একটি মেয়ের গল্প বলব।

মেয়েটির নাম- মারিনা আবরামোবিক।
মারিনার বয়স ২৮ বছর। ১৯৭৪ সালে ইতালির একটা বড় হল রুমে ছয় ঘন্টাটা দাড়িয়ে ছিল। হল ভরতি অনেক নারী পুরুষ। মারিনা হলের ভিতর লিখিত একটা কাগজ হাতে নিয়ে দাড়িয়েছিল। কাগজে লেখা ছিল 'মনে করো আমি একটা বস্তু, আমি তোমাদের ৬ ঘন্টা সময় দিচ্ছি এর মধ্যে তোমরা আমার সাথে যা খুশি করতে পারো এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের। এর জন্য তোমাদের কোনো শাস্তি পেতে হবে না।' সময়টা ছিল রাত আট টা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত।

মারিনা টেবিলের উপর রেখেছিল মোট ২৭ রকমের নানান জিনি্সপত্র। ব্লেড, গোলাপ, আঙ্গুর, মধু, পাউডার, পিস্তল, কনডম, পাখির পালক, বাঁশি, লাঠি ইত্যাদি। এগুলো দিয়ে মারিনাকে টর্চার করা যাবে। যেমন খুশি ব্যবহার করা যাবে। মারিনা কাউকে কিছু বলবে না। সে শুধু চুপ করে দাড়িয়ে থাকবে।
একটা মেয়ে যখন ৬ ঘন্টার পারমিশন দিচ্ছে আসো আমার সাথে যা খুশি করো, ঠিক সেই সময় তার সাথে কেমন ব্যবহার করা হয়েছিল সেটা শুনলে শরীরের লোম শিহরিত হয়ে ওঠে। হিউম্যান ব্রেইন হয়তো ধরেই নিয়েছিলো সে মুহূর্তে একজন নারী যখন ৬ ঘন্টার পারমিশন দিচ্ছে আমরা তার সাথে যা খুশি করতে পারি। ঐ ছয় ঘন্টা মানুষের আসল রুপ ফুটে উঠেছিলো।



কেউ কেউ স্পর্শ করছিল কেউ বুকে-পেটে-নিতম্বে। কেউ ধাক্কা দিচ্ছিল এবং ভাবছিল এর সাথে এখন কি কি করা যায়। একজন তাকে তুলে দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারলো। কেউ কেউ বুকে কামর বসিয়ে দিলো। কেউ কেউ থাপ্পড় দিলো। কেউ ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কেটে রক্ত বের করে দিলো। শুধু তাই নয়। কেউ কেউ তার শরীরের পোশাক খুলে তার সঙ্গে যৌন সঙ্গমও করেছিল। এত কিছুর পরও তাদের মন ভরছিল না, তারা কেউ কেউ মারিনার শরীরে কাঁটা বিদ্ধ করছিল। যার যা মন চায় তাই করলো। মারিনা চুপ করে শুধু সহ্য করে গেল। ব্যথায় মারিনা ছটফট করছিলো। মারিনা যত ছটফট করছিলো- হল ভরা লোক গুলো তত আনন্দ পাচ্ছিলো।

এই ছয় ঘন্টার মধ্যে যা যা করার তার সবই করেছিল।
তার পরেও তাদের খায়েশ কিছুতেই মিটছিল না। একটা পর্যায়ে মারিনার দেয়া ৬ ঘন্টা সময় শেষ হলো। মারিনা হাঁটতে শুরু করল। আর হলে থাকা যত মানুষ ছিল, যারা তার সাথে এমন আচরণ করেছে, শারীরিক নির্যাতন করেছে, গায়ে কাঁটা ঢুকিয়ে দিয়েছে, কাপড় খুলে দিয়েছে, মারিনা এক এক করে তাদের সামনে গিয়ে দাড়ালো এবং তাদের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে ছিলো।

এতক্ষন যারা তার সঙ্গে অসভ্য আচরন করল, তার গায়ের কাপড় খুলে নিল, সেই মানুষ গুলো তার চোখের দিকেও তাঁকাতে পারছিল না। মারিনা এই পারফরমেন্সে মানুষদের মাঝে লুকিয়ে থাকা একটা রাক্ষস দেখিয়েছে। খারাপ মনোভাব গুলো বের করে এনেছেন। মানুষ মনের মাঝে কতটা রাক্ষস লালন করে সেটা দেখানোই মারিনার উদ্দেশ্য ছিল।

মানুষ যখন আপনাকে অসহায় বা সহনশীল পাবে তখন আপনাকে যন্ত্রণা দেয়ার একটা উপায়ও বাদ রাখবে না। অসহায় ও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা না থাকলে সবাই আপনাকে বস্তু মনে করবে। ওরা তখন টর্চার করে মজা পাবে। ওরাও কিন্ত মানুষ। মানুষ রাক্ষস! যারা মারিনার সাথে অমন করেছিল। সমাজে সব পুরুষই আসলে এই রকম। সময় আর সুযোগের অভাবে তারা ভালো সেজে আছে। আসলে তারা ভয়ানক রাক্ষস।

কে এই মারিনা? কি পরিচয় তার?
পেশায় মারিনা একজন সাইবেরিয়ান আর্টিস্ট, ফিলেনথ্রপিস্ট এবং একজন ফিল্ম মেকার। তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সে হয়তো অনেক মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছিলো আমাদের মানুষ সত্তার ভেতরে বাস করা এক পশু বেরিয়ে আসার নমুনা। পরিশেষে বলা যায় যে, আপনারা বনে জঙ্গলে কোথাও রাক্ষস পাবেন না, এই মানুষের মাঝেই রাক্ষস, মানুষরূপী জন্তু-জানোয়ার গুলো লুকিয়ে থাকে। আমাদের উচিত এদের থেকে সাবধান থাকা।



(তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×