
আমার ওজন ছিলো ৬০ কেজি।
গত ছয় সাত মাসে আমার ওজন বেড়েছে। এখন আমি ৭২ কেজি। সুরভির ওজন মাপার মেশিন দিয়ে এখন আমি প্রতিদিন ওজন মাপি। আমি সব সময় ৬০ কেজির মধ্যে থাকতে চেয়েছি। সবচেয়ে দুঃখের কথা পেট অনেকখানি বেড়ে গেছে। একটা প্যান্টও এখন ফিটিং হয় না। নিঃশ্বাস আটকে রেখে পেট ভেতর দিকে টেনে ধরে রেখেও প্যান্টের হুক হাজার চেষ্টা করেও লাগাতে পারি না। খুব বেশি টাইট। শার্ট গুলোতে টাইট হয়ে গেছে। জোর করে পরতে গেলে হাঁসফাঁস লাগে। সব গুলো শার্ট প্যান্ট শেষ। এখন নতুন করে বানাতে হবে। ওজন কেন বাড়লো? কারন দীর্ঘদিন ধরে বেকার বসে আছি। কোনো কামকাজ নাই। সারাদিন বাসায় শুয়ে বসে থাকি। কোনো খাটাখাটনি নাই। তেল জমে গেছে শরীরে। বারোটা একটা পর্যন্ত ঘুমাই।
বাসার সবাই আমার সাথে ফাজলামো শুরু করেছে।
গত শুক্রবার ভাবী বাসায় নেহারি রান্না করেছেন। এত মজা হয়েছে যে আমি তিন বাটি খেয়ে ফেলেছি। ভাবী পুরো নেহারির পাতিল আমার সামনে দিয়েছে। বলেছেন, নিয়ে নিয়ে খাও। ইচ্ছা মতো নিয়ে নিয়ে খেলাম। হোটেল থেকে তন্দুর রুটি এনেছেন। চার টা রুটি খেয়ে নিয়েছি। দুপুরে আর ভাত খাই নি। রাতে খেতে গিয়ে দেখি সুরভি চিকেন ফ্রাই করেছে। আর পোলাউ রান্না করেছে। আমি বললাম, গতকাল না চিকেন ফ্রাই খেলাম। বড় ভাই ফোন করে কেএফসি থেকে একগাধা চিকেন ফ্রাই এনেছে। সুরভি বলল, তার জন্যই তো আজ বানালাম। সেদিন তুমি খেয়ে বললা, চিকেন ফ্রাই ভালো লেগেছে। তাই আমি আজ কেএফসি'র মতোন করে বানিয়েছে। খাও খাও। গরম গরম খাও। ভালো লাগবে।
আরিশের মা গিয়েছিলো তার মায়ের বাড়ি।
সে ফিরেছে। মায়ের বাড়ি থেকে নানান রকম খাবার এনেছে। আমাকে দিয়েছে। পোলাউ, মাংস, কলিজা আর নানান রকমের পিঠা। আমি যত খাবার থেকে দূরে থাকতে চাই, আমাকে তত বেশি খাবার খেতে হয়। আমার ওজন কমাতে হবে। এখন সামনে এত এত খাবার থাকলে আমি কিভাবে ওজন কমাবো? আর খেতে বসলে তো কম খাওয়া যায় না। এদিকে ছোট ভাই বার্গার, পিজা আর কোক এনেছে। বার্গার আমার ভীষন প্রিয়। খেলাম বার্গার। একটা খেয়ে দেখি ভালো লাগলো। তাই আরেকটা নিলাম। রাতে আর ভাত খাই নি। এইভাবে এলোমেলো খেলে হবে? বাইরের খাবার কি ভালো? উপজাতি আর আদীবাসীদের এত সুঠাম দেহ কেন? কারন তারা হাবিজাবি খায় না।
গতকাল বড় ভাই বাসার সবার জন্য-
পুরান ঢাকা থেকে আস্তো মুরগীর মোরগ পোলাউ এনেছে। রাতে খেলাম। পরিমানে এত ছিলো যে একা খেয়ে শেষ করতে পারি নাই। খাবার নষ্ট করেছি। খাবার নষ্ট করা আমার মোটেও পছন্দ না। আমি জানি আমাদের দেশটা দরিদ্র। কত লোক খেতে পায় না। আজ দুপুরে ভাবী খুদের চালের বউয়া রান্না করেছেন। সাথে ২২ রকমের ভর্তা। অবশ্য ভর্তা ভাবী করেন নি। উনি উনার মার বাসা থেকে ভর্তা করিয়ে এনেছেন। আমরা বাসায় মোট সদস্য সংখ্যা এগারো জন। অথচ খাবার কমপক্ষে ত্রিশ জনের। বিপুল অপচয়। এটা ঠিক না। আমি অতি সামান্য খেয়েছি। কারন ভর্তা গুলো খুব বেশী ঝাল ছিলো। তবে পুটি মাছ ভাজা গুলো খেতে ভালো লেগেছে। পুঁটি মাছ ভাজি। আমাদের বাঙ্গালীদের একটা প্রিয় খাবার। গরম গরম মুড়মুড়ে পুটি মাছ ভাজা, আহ!
আগামীকাল নাকি ছাদে রান্না হবে।
তাও আবার মাটির চুলায়। কাচ্চি বিরানী। কাচি বিরানী আমার পছন্দ না। এখন আমার ভালো লাগে ঝরঝরে সাদা ভাত। সুরভিকে বলে দিয়েছি আমাকে আর পোলাউ দিবে না। আমি আর পোলাউ খাবো না। আর ভাতও খাবো অতি সামান্য। বেশী খেলে মানুষ তাড়াতাড়ি মরে। অল্প খেলে বেশি দিন বাঁচে। এটা আমার নানীর কথা। আমাকে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হবে। এদিকে আমি অনেক রাত পর্যন্ত জাগি। রাত জাগলে ক্ষুধা লাগে। রাতে মুভি দেখার সময় হাতের কাছে নানান রকম চকলেট বিস্কুট রাখি। এক বাটি চানাচূর নিয়ে বসি। অথবা পাউরুটি খাই বাটার দিয়ে। আসলে যতক্ষন সিনেমা দেখি ততক্ষন কিছু না কিছু আমাকে চিবাতেই হয়। তা না হলে মুভি দেখে আরাম পাই না।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


