somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জালাল উদ্দিন রুমিকে নিয়ে একটি ঘটনা

০১ লা নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(জালাল উদ্দীন রুমি প্রথম জীবনে ছিলেন এক জাদরেল মওলানা। কোরান হাদীস ফিকাশাস্ত্র বয়ানে তার জুড়ি ছিল না। তিনি ছিলেন দেশের আলেমকুল শিরোমণি। এ নিয়ে তার কিছুটা অহমিকা ছিল। শ্রেষ্ঠ আলেম হবার অহংকারে তিনি মগ্ন ছিলেন। ভাবলেন তিনি দুনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত কেতাব লিখবেন যেখানে ধর্মের সবকিছু লেখা থাকবে। দীর্ঘ বাইশ বছর পরিশ্রম করে তিনি বইটির পান্ডুলিপি তৈরি করলেন। গর্বে তিনি আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন। এমন বই তো সমসাময়িক কেউ লিখতে পারেনি।)

একদিন ওযু খানার পাশে বসে রুমি সে বইয়ের পান্ডুলিপি উল্টে পাল্টে দেখছিলেন। এমন সময় জীর্ণ বস্ত্রে এক পাগল এসে হাজির হলো তার সামনে।
মওলানা জিজ্ঞেস করলেন, কি চাও?
পাগল পাল্টা প্রশ্ন করল, তোমার হাতে ওটা কি?
মওলানা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে জবাব দিলেন, তুমি বুঝবে না, এটা হলো কাল (জ্ঞান)।

অসতর্ক মুহূর্তে মওলানার হাত থেকে বইটি তুলে নিয়ে পাগল সেটি ফেলে দিল ওজুর পানি ভর্তি চৌবাচ্চার মধ্যে! মওলানা ভীষণ ক্ষেপে গেলেন। রাগতস্বরে বললেন, একি করলে তুমি, জ্ঞানের শ্রেষ্ঠ বইটি তুমি নষ্ট করে ফেললে! পাগল পানির মধ্যে হাত ডুবিয়ে বইটি তুলে এনে রুমির হাতে দিলেন। আশ্চর্য কান্ড! বইটি এতটুকু ভিজেনি! মওলানা অবাক বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? পাগল বলল, এটা আমার হাল (অবস্থা), বলেই দৌড়ে প্রস্থান করলো। রুমি হতচকিত হয়ে পেছন পেছন দৌড়াতে লাগলেন। কিছু দূর গিয়ে ধরে ফেললেন পাগলকে। বললেন, আপনার গভীর জ্ঞানের কাছে আমার সঞ্চিত জ্ঞান অতি তুচ্ছ। আমি আপনার কাছে দীক্ষা নিতে চাই ওস্তাদ।

শিক্ষার যেখানে শেষ, দীক্ষার সেখানে শুরু। এতক্ষণ বুঝে গেছেন নিশ্চয়ই, ওই পাগল ছিলেন সাধক শামস তাবরেজি!

তাবরেজি প্রত্যাখ্যান করলেন রুমির প্রস্তাব।
বললেন, তুমি বড় মওলানা- তোমাকে কি শেখাব?
রুমি নাছোড়বান্দা- মাফ চাইতে লাগলেন আর অনুনয় বিনয় করতে লাগলেন।

সুফির মন গলল। সুফি শর্ত দিলেন, ঠিক আছে, তুমি যদি বাজারের মধ্য দিয়ে দু'হাতে দু'বোতল মদ উঁচু করে দেখাতে দেখাতে নিয়ে আসতে পারো- তাহলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
মওলানার অন্তচক্ষু খুলছে- তিনি অগত্যা রাজি হলেন। বাজারের মধ্য দিয়ে দু'হাতে দু'বোতল মদ নিয়ে আসলেন। দুপাশের লোকজন ছি ছি করতে লাগলো। এত বড় মওলানা কি শেষতক মদাসক্ত হলো!

রুমি কর্ণপাত করলেন না। তিনি মদ স্পর্শও করেন নি। কিন্তু এ ঘটনায় তার দর্পচূর্ণ হলো। তিনি বিনয়ী হলেন। তাবরিজ তাকে দীক্ষা দিলেন। শুরু হলো রুমির নতুন জীবন। ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন মরমী সাধক। রচনা করলেন 'মসনবী'। আপনারা জানেন, এ কিতাবটিকে ফারসি ভাষার কোরান বলা হয়ে থাকে। কিন্তু তাবরিজ কর্তৃক ফেলে দেয়া পুস্তকের জন্য রুমি পরিচিত নন- সারা দুনিয়ায় তার পরিচিতি 'মসনবী'র রচয়িতা হিসাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৫৪
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×