
আজ ফুল বিক্রেতাদের দিন ভালো গিয়েছে।
আপনারা কি জানেন আমি বিটিভির সংবাদ শুনি। নিয়মিত শুনি। বিটিভির সংবাদ আমাকে আনন্দ দেয়। আমাকে অনেক কিছু শেখায়। আমাকে রাগায়, আমাকে হাসায়। সবচেয়ে বড় কথা বিটিভির সংবাদ শুনলে মনে হয়- দেশ আসলেই উন্নয়নের মহাসড়কে। এবং আওয়ামী লীগ দেশের জন্য যা করেছে, এজন্য সারা জীবন আওয়ামী লীগের প্রতি দেশবাসীর কৃতজ্ঞ থাকতেই হবে। অবশ্য আমার এক বন্ধু আছে, সে বলে বিটিভির সংবাদ শুনলে আমার মুখ দিয়ে গালি বের হয়ে আসে। যাই হোক, আজ দুপুরে প্রতিদিনের মতোন বিটিভির সংবাদ শুনলাম। আজকের সংবাদের মুল শিরোনাম ছিলো- 'জেল হত্যা দিবসের ৪৬তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি, আওয়ামী লীগের।
আজ জাতীয় চার নেতার 'জেলহত্যা দিবস'।
বিটিভির খবর দেখে জানতে পারলাম- আওয়ামী লীগের সমস্ত নেতা কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরে প্রথমে শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এবং পরে চার নেতাকে, আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা সবাই মিলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক কথায় সমস্ত লীগ আজ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন করোনাকে উপেক্ষা করে। তাতী লীগ, মহিলা লীগ, কৃষক লোগ, শ্রমিক লীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগ থেকে শুরু করে প্রতিটা লীগের সংগঠন। কাদের সাহেব বলেছেন, চার নেতা হত্যা এখনও রহস্য জনক। কাদের সাহেবের মুখে মাস্ক ছিলো। হাতে গ্লাভস ছিলো। তার পেছনে হাজার হাজার নেতাকর্মী। এদিকে ড. হাছান মাহমুদ স্যার বলেছেন, চার নেতার হত্যায় জিয়া জড়িত। এবং অনেকে পলাতক। তাদের ধরে এনে বিচার করা হবে। ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড আর চারনেতার হত্যা কান্ড একই সুতায় গাঁথা।
শফিক ভাই বললেন, মারাত্মক একটা ভূতের মুভি আছে।
অবশ্য তিনি এখনও ভূতের মুভিটা দেখেন নি। কারন মুভিটা খুব বেশি ভয়ের। একদম কলিজা উড়ে যাবে, এতটাই ভয়ঙ্কর। এই মুভি দেখলে নাকি কমপক্ষে পনের দিন রাতে একা একা ঘুমানো যাবে না। এমন কি রাতের বেলা প্রচন্ড মুতে ধরলেও, ভয়ে টয়লেতে যেতে সাহস হবে না। বিছানাতেই হিসু করে দিতে হবে। মারাত্মক ভয়ের মুভি। কপাল দিয়ে টপ টপ করে ঘাম বেয়ে পড়বে। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে। এমন কি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভবনাও আছে। তিনি সাহস সঞ্চয় করতে পারছেন না বলে, এখনও মুভিটা দেখেন নি। তবে খুব শ্রীঘই দেখবেন। তিনি চান মুভিটা যেন আমি আগে দেখি। তারপর উনি দেখবেন। শফিক ভাইয়ের ফালতু কথা শুনে আমার মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়েছে। জীবনটা তো মুভি দেখেই কাটিয়ে দিলাম। কোন মুভির কোন পর্যন্ত দৌড় তা আমি ভালো করেই জানি।
আমার সমস্যা আছে।
ভূতের মুভি দেখলে ভয় লাগে না। কমেডি মুভি দেখলে হাসি আসে না। এই তো সেদিন দেখলাম, 'Ju-On : The grudge' মুভিটা। মারাত্মক ভয়ের মুভি। অথচ আমার ভয় লাগে নি। 'Hansel and Gretel' দেখলাম, তাও ভয় লাগে নি। 'The shining' দেখলাম। ভয় লাগেনি। বরং বিরক্ত লেগেছে। 'insidious' দেখলাম একটূও ভয় লাগে নি। 'গেট আউট' দেখলাম, 'শাটার' দেখলাম। 'সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস' দেখলাম- একটু ভয় লাগে নি। বরং মুভি গুলোতে পরিচালক কি কি ভুল করেছেন, সেসব খুঁজে বের করলাম। যাই হোক, শফিক ভাইয়ের দেওয়া 'Key Lime Voodoo' মুভিটা দেখলাম। আমার জীবনে আমি এরকম ফালতু মুভি আর দেখি নাই। মনে মনে শফিক ভাইকে তিনটা কুৎসিত গালি দিলাম। আমার সময়টা অপচয় হলো।
'Key Lime Voodoo' মুভির কাহিনী এই রকমঃ
আসলে এই মুভির কাহিনীর কোনো আগা মাথা নেই। ১ ঘন্টা ১৮ মিনিটের মুভি। মুভিটা এতই ফালতু যে আমার ঘুম এসে পড়েছিলো। মুভিতে ভূতের কিছুই নাই। এক মেয়ে তার কোনো বাড়ি ঘর নেই। তার আছে শুধু একটা গাড়ি। এই গাড়ি নিয়ে সে নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। মেয়েটার গুন বলতে সে গিটার বাজাতে পারে। গানও গাইতে পারে। রাস্তায় জটলা দেখলেই মেয়েটা গান শুরু করে। বেশির ভাগ সময়ও মেয়েটা একটা গান গায়- যা বাংলা করলে দাঁড়ায়, 'বাতাস আসে, চিকন বাতাস, আমাকে কিছু মনে করিয়ে দিয়ে যায়। হায় বাতাস!' গান শুনে মেয়েটাকে কেউ কেউ টাকা দিতে চায়। মেয়েটা টাকা নেয় না। বলে, একটা বার্গার আর কোক খাওয়াতে পারো। এদিকে এই মেয়েটাকে একটা লোক পাগলের মতো খুজতে থাকে। কেন খুঁজে কে জানে! মেয়েটা সমুদ্রের চারপাশে গাড়ি চালিয়ে ঘুরে বেড়ায়। একবার মেয়েটা একটা শহরে যায়। সেখানে সে একটা বাড়িতে যায়। বাড়িওয়ালি বলে, আমি জানতাম তুমি আসবে। তোমার জন্য আমি একটা ঘর সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছি। এদিকে একলোক মেয়েটার গিটার ভেঙ্গে ফেলে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২০ রাত ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



