
মুভির নামঃ পিকু।
পিকু হল এক সাধারণ বাঙালি মেয়ের গল্প। এবং তাঁর বাবা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাস্কর বাবু যিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে কোষ্ঠ কাঠিন্যের সমস্যায় ভূগছেন। এই সমস্যাই তার কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা। মেয়ের বিয়ে নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। সে তার মেয়েকে বিয়ে দিতে চায়ও না। বাবা মেয়ের অতি চমৎকার কাহিনী। চমৎকার অভিনয়। চমৎকার সিনেমা। ঝামেলা বিহীন সুন্দর সিনেমা। আমি মুভিটা পাঁচ বার দেখেছি। একটি ক্যাব সংস্থার মালিক রানা চৌধুরি। রানার সঙ্গে মিষ্টি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে পিকু। যারা সিনেমাটি দেখেন নি এখনো, তারা দেখুন পিকু মুভিটা। অবশ্যই ভালো লাগবে। অভিনয়ে সেরা ৩ কোহিনূর হিরা একসাথে আছেন মুভিতে। দীপিকা, অমিতাভ আর ইরফান। সবমিলিয়ে মন ছুয়ে যাওয়া সিনেমা। এই সিনেমা আপনার পেটের ভিতর দিয়ে ঢুকে হৃদয় ছোঁবে অবধারিত ভাবে। ২০১৫ সালের মুভি। পরিচালক- সুজিত সরকার।
২।

মুভির নামঃ কারওয়া।
চমৎকার একটা মুভি। জন্ম, চাকরি, বিয়ে, বাচ্চা মানুষ করার মতো ফর্মুলা জীবন বেছে নেন নি যাঁরা, বা বেছে নিতে চান না যাঁরা, তাঁদের এই ছবির সঙ্গে দোস্তি হয়ে যাবে। মুভির কাহিনী আর অভিনয় মিলে এই সিনেমাটি এক কথায় অপূর্ব। যে ক'বারই মুভিটা দেখেছি- মুগ্ধ হয়েছি। আমি তেরো বার দেখেছি। মুভির নায়ক দুলকার একটি আইটি অফিসে কাজ করেন, যেখানে তাঁর দমবন্ধ হয়ে যায়। কারণ তার ফোটোগ্রাফার হওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু বাবার মত ছিল না। সিনেমার কাহিনী শুরু হয় এভাবে- অফিস থেকে বাড়ি ফিরে নায়ক জানতে পারে বাবা তীর্থস্থানে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। এই সিনেমাটির মূল গল্প তিনজন অদ্ভুত ব্যক্তির, যাদের জীবনের অভিজ্ঞতা অন্য, তাদের কে একসঙ্গে এক উদ্ভট যাত্রায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেক চরিত্র সেই যাত্রার জন্য রাজি হয় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন খুঁজে পাওয়ার জন্য। সুন্দর গল্প। খুব সুন্দর ভাবে কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে। কিছুটা কমেডি আছে। পরিচালক তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
৩।

মুভির নামঃ করিব করিব সিঙ্গল।
খুব সুন্দর সিনেমা। চমৎকার গল্প। চমৎকার অভিনয়। আর যাই হোক, এই মুভি দেখলে মনে হবে না সময়টা অপচয় হয়েছে। ছবিটা অবশ্যই প্রেমের ছবি। কিন্তু প্রেমের এক নতুন বর্ণে, গন্ধে, ছন্দে, গীতিতে হৃদয়কে দোলা দেয়। মুভিতে নায়িকা জয়া শশীধরণ। যার বয়স অনেক আগেই ত্রিশ পেরিয়ে গেছে। অবশ্য আগে একবার বিয়ে হয়েছিলো। এখন স্বামী নেই। সে চাকরি করছে একটা ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে। একইসঙ্গে একা থাকার স্বাধীনতা উপভোগ করছেন আবার একইসঙ্গে একাকীত্বের যন্ত্রণা ভোগ করছেন। ছবিটা শেষ হওয়ার পরেও মনে একটা সুন্দর রেশ থেকে যায়। ঝামেলা বিহীন সুন্দর সিনেমা। মারামারি, কাটাকাটি নেই। যৌনতা নেই। কিন্তু সহজ সরল সুন্দর সিনেমা। যা আপনাকে মুগ্ধ করবে। আমি সাত বার দেখেছি মুভিটা।
উপরের তিনটা সিনেমা দেখেই আপনি বলতে বাধ্য হবেন- লাইফ ইজ বিউটিফুল।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



