somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার স্বপ্ন গুলো

০৫ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি অনেক রাতে ঘুমাই।
অনেক রাতে ঘুমানোর কারন হলো ঘুম আসে না। যেহেতু ঘুম আসে না তাই চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে থাকার কোনো মানে হয় না। বই পড়ি, মুভি দেখি, বারান্দায় গিয়ে বসে থাকি। তিনটার পরে বিছানায় যাই। এক ঘন্টা এপাশ ওপাশ করি। চার টায় ঘুম আসে। কখনও কখনও ফযরের আযানের পর ঘুম আসে। ঘুম এলেই নানান রকম স্বপ্ন দেখি। অথবা দুঃস্বপ্ন। ঘুমের মধ্যে এই স্বপ্ন দেখাটা আমি খুব এনজয় করি। অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখে কখনও কখনও মনটা খুশিতে ভরে যায়, আবার কখনও খুব ভয় পাই। রাতে আমি খালি গায় ঘুমাই। জামা পড়ে ঘুমাতে পারি না। শীতকালেও গালি গায় ঘুমাই। এই অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই। এই পোষ্টে কয়েকটা স্বপ্নের কথা বলেছি। স্বপ্ন গুলো সম্প্রতি দেখেছি। অতি সাধারণ এবং তুচ্ছ সব স্বপ্ন। তাই ফ্রয়েড সাহেবের ব্যখ্যায় যাই নি। তবে ঘুম কম হওয়ার কারনে চোখের নিচে কালি পড়েছে।

১। গ্রামে যাওয়ার রাস্তা।
রাস্তায় দুই পাশে সারিবদ্ধ নানান রকমের বড় বড় গাছ। পথের দুই ধারের গাছ উপরের উঠে একসাথে মিশে গেছে। আকাশ দেখা যায় না। আকাশ ভরা মেঘ। যে কোনো সময় ঝুম ঝুম বৃষ্টি নামবে। আমি দ্রুত বাইক চালিয়ে যাচ্ছি। বৃষ্টি নামার আগে আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে। একটা মেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি বাইক থামালাম। মেয়েটা আমার বাইকে উঠে বসলো। মেয়েটার গায়ে ভীষন মিষ্টি গন্ধ! বাতাসে তার চুল উড়ে এসে আমার মুখে লাগছে। মেয়েটা আমার কাঁধে একহাত দিয়ে ধরে রেখেছে। আমি বললাম, চা খাবেন? মেয়েটা বলল, বৃষ্টি নামবে। আমার দ্রুত বাসায় যেতে হবে। এখন চা খাওয়ার দরকার নাই। আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। আমি বাইকের স্প্রীড বাড়িয়ে দিলাম। আচমকা একটা পিকআপ ভ্যান ধাক্কা দিলো। আমি এবং মেয়েটি সাথে সাথে মরে গেলাম। আমার মাথা থেতলে গেছে। গল গল করে রক্ত পড়ছে।

২। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে।
ঘর পুরো অন্ধকার। আমাকে কিছু খেতেও দেয়া হয় নাই। অনেক ক্ষুধা লেগেছে আমার। আমি অনেক চিৎকার করে ক্লান্ত। বিধ্বস্ত। সম্ভবত আমার আওয়াজ বাইরে যায় না। একসময় ঘরের দরজা খুলল। কে বা কারা ঘরে প্রবেশ করলো। এবং তাদের সাথে অনেক গুলো বস্তা। বস্তা ভরতি সাপ। বিষাক্ত সাপ। তারা বস্তার মুখ খুলে দিয়ে চলে গেলো। আমার জীবনে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই সাপ। হাজার হাজার সাপ আমার দিকে আসছে। আমি সমানে চিৎকার দিচ্ছি। অসংখ্য সাপ আমার শরীরের উপর কিলবিল করছে। আমি একটুও নড়তে চড়তে পারছি না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। বিষাক্ত সাপের ছোবলে আমি একটু একটু করে মরে যাচ্ছি। আমার শরীরে তীব্র ব্যথা করছে। খুব যন্ত্রনা হচ্ছে। এক গ্লাস পানি খেতে ইচ্ছা করছে।

৩। গ্রামের পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।
অন্ধকার রাস্তা। তবে রাস্তা আমার পরিচিত। খুব বেশি রাত হয়নি। অনেক শীত পড়েছে। আমার গলায় একটা লাল রঙের মাফলার। গুন গুন করে গান গাইছি। 'ও মনা ডাল রান্ধো, পাঁচ ফোড়ন দিয়া'। হঠাত সামনে দেখলাম কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকার আর কুয়াশায় খুব ভালো দেখা যাচ্ছে না। আমি কাছে গেলাম। দেখি একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাদা শাড়ি পরা। অনেক বড় ঘোমটা দিয়ে আছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না। আমি বললাম, কে তুমি? কোথায় থাকো? এখানে কি করছো? মেয়েটা বলল, পথ হারিয়ে ফেলেছি। আমি বললাম, আসো আমার সাথে, আমি তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিবো। মেয়েটা আমার সাথে হাঁটা শুরু করলো। কিছু দূর যাওয়ার পর মেয়েটা বলল- আমার বাসা এসে গেছি। এবার আপনি চলে যান। আমি বললাম, বাসা কই? এটা তো কবরস্থান। মেয়েটা বলল, তুমি আমার সাথে থেকে যাও। একা একা আমার ভালো লাগে না।

৪। মৎস ভবনের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।
কয়েকটা বখাটে একটা মেয়েকে বিরক্ত করছে। খুব বিরক্ত করছে। এমনকি ওড়না ধরেও টান দিয়েছে। আমি বললাম, এই এসব কি হচ্ছে। বখাটেরা বলল, নায়কগিরি দেখাতে হবে না। যান ফুটেন। আমার খুব রাগ লাগলো। আমি এক বখাটেকে ধরে ধাম করে একটা দিলাম। বখাটে বাবাগো বলে ছিটকে তিন হাত দূরে গিয়ে পড়লো। এই দেখে তিন বখাটে আমার দিকে এগিয়ে এলো। আমি সম্পূর্ন শূণ্যে উড়ে গিয়ে তিনটাকে তিনটা কিক মারলাম। কারো ঘাড়ে, কারো কোমরে, কারো বুকে। চার বখাটে আমার কিক খেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর ব্যথায় গোঙাচ্ছে। আমি মেয়েটাকে বললাম, বোন বাসায় যাও। কোনো ভয় নেই। মেয়েটা ধন্যবাদ দিলো এবং রিকশায় উঠে চলে গেলো। ঠিক তখন এক বখাটে পেছন থেকে এসে আমার কিডনীর কাছাকাছি ছুড়ি ঢুকিয়ে দিলো। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। রক্তে চারিদিক ভেসে যাচ্ছে। তখন দেখি, ফুটপাতে আমার মৃত বন্ধু আছে। বন্ধু বলল, দোস্ত তোমাকে নিতে এসেছি। একা একা ভালো লাগে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৪২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×