somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বাতেন থেকে বাইডেন

০৬ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাইডেন বাংলাদেশের মানুষ।
তার জন্ম আমাদের বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলে। বর্তমানে ট্রাম্পকে হারিয়ে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক বাইডেন। এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। আশা করি এবার বাংলাদেশের প্রতি বাইডেনের সুনজর পড়বে। বহু বাঙ্গালী আমেরিকা যাওয়ার সুবর্ন সুযোগ পাবে। এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকা যে বাংলাদেশকে সাপোর্ট না দিয়ে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেছে, জাহাজ ভরতি গোলাবারুদ পাঠিয়েছে তার তার জন্য ক্ষমা চাইবেন। বাইডেনের ছোটবেলা কেটেছে গ্রামে। সে খুব ভালো সাঁতার পারতো এবং যে কোনো গাছে মুহুর্তের মধ্যে উঠে পরতে পারতো। গ্রামের মানুষ বাইডেনকে খুব পছন্দ করতো। সবচেয়ে বড় কথা বাইডেন লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিলো। তার স্কুলের শিক্ষকরা তাকে নিয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন। অবশ্য তখন তার নাম ছিলো বাতেন। আমেরিকার মানুষ 'ত' উচ্চারন করতে পারে না। আমেরিকা গিয়ে আমাদের বাতেন হয়ে গেলো বাইডেন। তেইশ বছর বয়সে বাতেন আমেরিকা আসেন। এর মধ্যে একবারও দেশে ফিরেন নি তিনি।

বাইডেন মেট্রিক পাশ করেন গ্রামের স্কুল থেকেই।
মেট্রিকে তিনি বরিশাল বিভাগ থেকে মেধাতালিকাত প্রথম স্থান দখল করেন। বরিশাল থেকে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকা আসে বাতেন মকসুদ। প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র কৃষকের পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় বাতেন মকসুদের ঢাকায় থাকা খাওয়া ও লেখাপড়ার খরচ দিতে হিমশিম খেতে থাকে তার পরিবার। তার পিতা বারবার বলেছেন, তোমার লেখাপড়া করতে হবে না। তুমি গ্রামে ফিরে আসো। লেখাপড়া গরীব মানুষদের জন্য না। তুমি গ্রামে ফিরে আমার সাথে চাষবাস করবে। কিন্তু বাতেন গ্রামে ফিরে যান নি। কলেজ ভরতি হয়েই শুরু করলেন রাজনীতি। বড় বড় নেতারা তাকে খুব পছন্দ করে ফেললেন। শহরে খেয়ে না খেয়ে তার দিন যাচ্ছিলো। বহু দিন সে তিনবেলা পেট পুরে খেতে পায় নি। অথচ কারো কাছে অর্থ সাহায্য চায় নি। মনের তীব্র জিদ আর সাহস তাকে আজ তাকে এই অবস্থানে এনেছে। তার বিশ্বাস পরিশ্রম করলে সাফল্য পাওয়া যায়।

বাতেন জানে লেখাপড়া ছাড়া উপায় নাই।
রাজনীতি আপাতত তাকে ভাত দিবে না। যে করেই হোক তাকে লেখাপড়া করতেই হবে। বারবার পিতার কাছে টাকা চেয়ে পত্র লিখে পিতাকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকলে এক সময় বাতেন মকসুদের পিতা অতিষ্ঠ হয়ে পোস্টাল আইপি ব্লক করে ত্যাজ্যপূত্র করে দেয় তাকে। পিতার এমন ব্যবহারে প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান বাতেন। আজ সে একা। দুনিয়াতে তার আপনজন বলে কেউ রইলো না। সেদিন সারারাত সে কান্না করলো। কান্নায় বালিশ ভিজে গেলো। কলেজ জীবনে বাতেনের কোনো প্রেমিকা ছিলো না। নিজের দুঃখ কষ্টের কথা বলার মতোও কাউকেই পায়নি যাপিত সেই দুঃসময়ে। চারটা টিউশনি যোগাড় করে ফেলল বুদ্ধিমান আর মেধাবী বাতেন। বাতেন বিশ্বাস করে তার ভালোত্ব আর মেধা প্রভু দিয়েছেন মানুষের কল্যানের জন্য। এভাবেই মানসিক যন্ত্রণার সাথে এগিয়ে চলতে থাকে বাতেন মকসুদের জীবন।

কলেজ জীবনে বাতেন বেশ কিছু ভালো বন্ধু পেয়ে যায়।
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গড়ে উঠে বাতেন মকসুদের নতুন ফ্রেন্ড সার্কেল। উন্মুক্ত হতে থাকে তার নতুন জগৎ। কষ্ট ভুলে থাকতে নিজেকে আরো আপডেট করে নেয় সে। প্রচুর বই পড়ে সে। সবই জ্ঞান বিজ্ঞানের বই। বেশির ভাগ সময় তার পার হয় পাবলিক লাইব্রেরীতে। নতুন বন্ধুদের সাথে ঘন ঘন আলোচনায় বসে মহাকাশ, বিজ্ঞান, ধর্ম, রাজনীতি এবং আইন নিয়ে। তুমুল তর্ক হয় বন্ধুদের সাথে। তার যুক্তির কাছে বন্ধুরা অসহায় হয়ে পড়ে। বাড়তে থাকে বাতেন মকসুদের জ্ঞানের পরিধি। এক সময় বন্ধুদের মধ্যেই একজন বাতেন মকসুদের জ্ঞানের পরিধি দেখে বাতেনকে বিদেশে চলে যেতে বলে। বাতেনও বুঝতে পারে মহাকাশ, বিজ্ঞান, পদার্থ, রাজনীতি ও আইনের উপর এত জ্ঞান থাকলেও তার সঠিক মূল্যায়ন হবে না এই দেশে। তীব্র ইচ্ছার কারনেই একদিন সত্যি
সত্যি আমাদের বাতেন আমেরিকা চলে গেলো।

যেই ভাবা সেই কাজ।
এবার সোনার হরিণ ধরতে ঢাকা থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমায় বাতেন মকসুদ। তার আমেরিকা যাওয়ার ঘটনা তার বাপ, মা ভাইবোন বা গ্রামের কেউই জানলো না। আমেরিকায় এসে প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ নিলেও নিজের অগাত পরিশ্রম এবং জ্ঞান আহরণের পিপাসা তাকে অনেকের মধ্যে অন্যতম করে তুলে। ধীরে ধীরে রেস্টুরেন্টের থালা বাসন মাজার কাজের পাশাপাশি জড়িয়ে যান রাজনীতির সাথে। এবং সেই সাথে একটা নামকরা কলেজে ভরতি হয়ে যান। কর্ম, রাজনীতি এবং লেখাপড়া সমান তালে চলতে থাকলো। ঢাকার রাজপথ কাঁপানো সংগ্রামী সৈনিক বাতেন মকসুদ এক সময় কাঁপাতে থাকে আমেরিকার রাজপথ। আমেরিকার জনগন তাকে ভালোবাসতে শুরু করলো। এদিকে সে তার মা,বাবা, ভাইবোন এবং নিজ দেশের কথা সম্পূর্ন ভুলে গেলো। বাংলাদেশ নামে যে একটা দেশ আছে এখন সে সেটাই মনে হয় ভুলে গেছে।

আমেরিকাতে রাজনীতিবিদ হিসেবে সাফল্যের সাথে বাড়তে থাকে পরিচিতি। ব্যক্তিগত সেক্রেটারি এবং বন্ধু স্টেলানো মালেনার উপদেশে নাম পরিবর্তন করে রাতারাতি গ্রামের বাতেন মকসুদ হয়ে যান আমেরিকার বাইডেন। তলে তলে ছাত্র সংগঠন গড়ে তুলে অংশগ্রহণ করেন আমেরিকার নির্বাচনে। আর কয়েকদিন পর আমাদের বাতেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন। থাকবেন হওয়াই হাউজে। বাতেন বা বাইডেনের জন্য অনেক শুভ কামনা। তার মাধ্যমে আমেরিকার উন্নতি হোক। সারা বিশ্বের উন্নতি হোক। বাতেনের জন্য আন্তরিক শুভ কামনা। তবে আমি চাই, সে তার জন্মভূমিতে একবার এসে ঘুরে যাক।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:১০
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×