
আজ সারা বাড়িতে আমি একা।
বাসার সবাই গিয়েছে রাঙ্গামাটি। আমার কোথায় যাওয়ার জায়গা নেই। সারাদিন বাইরে বাইরে ছিলাম। এখন বাসায়। খালি বাসায় নিজেকে কেমন জানি এতিম এতিম লাগছে। টিভিতে রাত ১১ টার খবর দেখলাম। হঠাত খুব ক্ষুধা পেয়েছে। আজ দুপুরেও কিছু খাওয়া হয় নাই। তবে সন্ধ্যায় হালিম দিয়ে নান রুটি খেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল রাতে আর খেতে হবে না। বিস্কুটের ডিব্বা, চানাচূরের বোতল খালি। ফ্রীজ খুলে দেখলাম কোনো খাবার নেই। দু'টা ডিম আছে। ডিম দু'টা সিদ্ধ করে খেয়ে নিলুম। ক্ষুধা দমন হলো কিছুটা। রাত সাড়ে ১২টায় সিগারেটের প্যাকেট নিয়ে ব্যালকনিতে বসলাম। এক কাপ চা খেতে পারলে ভালো লাগল। আমি চা বানাতে পারি না। একটার পর একটা সিগারেট শেষ করে- এলোমেলো অনেক বিষয় নিয়ে ভাবলাম। কখন রাত দুইটা বেজে গেলো বুঝতেই পারিনি। আধা গ্লাস পানি খেয়ে বিছানায় গেলাম।
লাইট অন করে আমি ঘুমাতে পারি না।
পাতলা একটা চাদর গায়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে আছি। চোখে একটুও ঘুম নেই। ঠিক এমন সময় আমার ঘরের দরজায় কে যেন টোকা দিচ্ছে। জন্মগত ভাবে আমি অনেক ভীতু। খুব অল্পতেই অনেক ভয় পাই। কিন্তু আজ এই মধ্যেরাত্রে নিজেকে বললাম- বাবু সোনা ভয় পেও না। সাহসী হও। যাও দরজা খোলো। যে আসছে তাকে স্বাগত জানাও। নিজের কাছ থেকেই পেয়ে গেলাম এক আকাশ সাহস। দরজা খুলে দেখি একটি মেয়ে দাঁড়িয়েছে। সাদা রঙ্গের শাড়ি পরা। শাড়িতে হাতের কাজ করা। হাসি খুশি মুখ। চোখে মোটা করে কাজল দেওয়া। হাত ভরতি লাল সবুজ কাঁচের চুড়ি। নিচের মেইন গেট লাগানো, মেয়েট কিভাবে আমার দরজার সামনে এসে দাড়ালো- কে জানো! ঠিক করেছি আজ আমি ভয় পাবো না। সব কিছুই সহজ ভাবে নিবো। আমি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললাম- আসো, ভেতরে আসো। আমাকে এক কাপ চা বানিয়ে দাও। আর তোমার ইচ্ছা হলে নিজের জন্যই এক কাপ বানাতে পারো। মেয়েটি খুব অল্প সময়েই এক মগ চা নিয়ে এলো আমার জন্য। আমি ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করলাম না।
চা শেষ করে আমি মেয়েটিকে বললাম- আমি ঘুমাই।
সকালে পরোটা আর ডিম বাজবে। নাস্তা রেডী করে আমাকে ডাক দিবে। গোছলের জন্য গরম পানি করতে ভুলে যেও না। গিজার নষ্ট। মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল- আমি কে তুমি জানো? আমি একটা ভূত। তুমি আমাকে ভয়ই পাচ্ছো না। আমি বললাম যাও- বেবি কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করবা না। ঘুম পাচ্ছে ঘুমাতে দাও। মেয়েটি বলল- আমি কোথায় ঘুমাবো? আমি জবাব দিলাম না। মেয়েটি গুটিসুটি মেরে আমার পাশে এসে শুয়ে পড়ল, একটা হাত রাখল আমার বুকের উপর। আমি চলকে গেলাম। ভুত মেয়েটির হাত ভয়াবহ ঠান্ডা। মেয়েটি বলল- আসো আজকের রাতটি গল্প করে কাটিয়ে দেই। আমি বললাম -কিসের গল্প? ভূতের গল্প? মেয়েটি বলল- না, ভালোবাসার গল্প। আমি বললাম বাহ, ভূতনী করবে ভালোবাসার গল্প! মেয়েটি একটু রাগ দেখিয়ে বলল- আমার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখো- আমাকে কি ভূতনীর মতন লাগছে? দেখো, তুমি যেমন পছন্দ করো, তোমার মনের করে সেজে এসেছি। আমি উঠে বসে ভূতনীর দিকে ভালো করে তাকালাম। আসলেই ভূতনীকে দারুন সুন্দর লাগছে।
হঠাৎ আমার মধ্যে এক ধরনের তীব্র আবেগ অথবা মোহ ভর করলো।
ভূতনীকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করলো। এক আকাশ আদর করতে ইচ্ছা করলো। ভূতনী সম্ভবত আমার মনের তীব্র ইচ্ছাটা বুঝতে পারলো। ভূতনী তার ঠোঁট আমার ঠোঁটে রাখল। সারাটা রাত আদর করে পার করে দিলাম। আমাদের বুকে আদরের দাগ। ভূতনীর চোখে মুখে খেয়াল করলাম এক আকাশ আনন্দে ঝলমল করছে। ভূতনী আমার বুকে মাথা রেখে বলল- আমাদের বাবুর নাম কি রাখবো? আমি বললাম- গেদু। ভূতনী বলল- এটা আবার কি রকম নাম হলো? আমি বললাম- নাম কোনো ব্যাপার না, মানুষের কর্মটাই হচ্ছে আসল। আমরা যাদের কে মনে রাখি- তাদের কর্মের জন্যই মনে রাখি। ভূতনী খুব আদুরে গলায় আবদার করলো- আমাকে নেপাল নিয়ে যাবে? আমি ভূতনীর কপালে একটা ছোট্র চুমু দিয়ে বললাম- হুম, নিয়ে যাবো। ভূতনী বলল- আমি লাল সবুজ একটা শাড়ি পড়বো। আমি বললাম আচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


