
মুসলমানদের ইতিহাস চর্চা খুবই কম।
কারন ইতিহাস ঘাটলে মুসলমানদের ভালো কিছু পাওয়া যায় না। তারা শুধু যুদ্ধ করেছে। মানুষ হত্যা করেছে। কুট করেছে। নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে দেখেছে। যাই হোক, সেই আলোচনায় যাবো না, সুদূর আফ্রিকা থেকে ইবনে বতুতা এসেছিলেন বাংলাদেশে। হাজার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে তিনি অবাক! একোন দেশ! যেখানে সেখানে নদী, নদী ভরা নৌকা। নৌকা গুলির মাঝি মানুষ নিয়ে পারাপারের সময় অদ্ভুত সুন্দর গান গায়। গানের মতন সুরেলা ভাষায় কথা বলে এদেশের মানুষ। কী গাঢ সবুজ এখানকার গাছপালা, বেলি ফুলের গন্ধভরা এখানকার বাতাস। এরকম দেশ পৃথিবীতে আর আছে?
বতুতা নিজেই লিখেছেন লিখেছেন- ''তখন মোট তিনজনের পুরো এক বছরের খাবার খরচ লাগত সব মিলিয়ে সাত টাকা। এখানে এক মণ ঘিয়ের দাম এক টাকা সাত আনা, এক মণ চালের দাম সাত পয়সা। একটি দুগ্ধবতী গাভীর দাম তিন টাকা, একটি নারীর নাম দশ টাকা''। ইবনে বতুতা নিজের জন্য দশ টাকা দিয়ে 'আসুরা' নামের একটি পরমা সুন্দরী মেয়েকে কিনলেন, ওর সঙ্গী কিনলেন লুলু নামের একটি ক্রীতদাসী কুঁড়ি টাকায়। দীর্ঘ ভ্রমনে বতুতা সব সময় কয়েকজন করে নারী সঙ্গে রাখতেন।
নানান দেশ ঘুরে ঘুরে ইবনে বতুতা জীবন সার্থক।
ভাবতে অবাক লাগে সেই আফ্রিকা থেকে একজন পর্যটক এসেছিলেন এত দূরের বাংলাদেশে। তাও আবার অধিকাংশ পথ পায়ে হেঁটে।ইবনে বতুতা একবার ভারত ভ্রমনের সময় শূন্যে ভেসে থাকা যাদু দেখে ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন। বতুতা সারা জীবন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শুধু ঘুরে বেড়িয়েছেন। পৃথিবী ভ্রমণের জন্যই তিনি মূলত বিখ্যাত হয়ে আছেন। একুশ বছর বয়স থেকে শুরু করে জীবনের পরবর্তী ৩০ বছর তিনি উঠের পিঠে এবং হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেরিয়েছেন।
মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা।
তিনি ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন। নিজের ভ্রমন কাহিনী নিজেই লিখেছেন। ভ্রমণকাহিনী ১৩৫৫ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ হয়। বতুতা ৪০ টির মতো দেশ ভ্রমণ করেছেন। সিলেট এসে হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করে ফেরার পথে ইবনে বতুতা একটি ছাগলের পশমের কোট উপহার পান। বতুতা নিজে ছিলেন সুফী ঘরানার মানুষ, তাই সুফী দরবেশদের প্রতি বাংলার শাসক শ্রেণী এবং স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের লোকের উপর সুফি-দরবেশদের প্রভাব ও মর্যাদা তাকে মুগ্ধ করে।
মালদ্বীপ হয়ে বতুতা বাংলায় আসেন।
ইবনে বতুতা ভারত ছেড়ে মালদ্বীপে এসে প্রায় নয় মাস অবস্থান করেন। এই নয় মাসে তিনি চারটি বিয়ে করেন। চারজন স্ত্রী’র মধ্যে আবার একজন রাজপরিবারের সদস্য ছিল। বতুতা ৮০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় গিয়ে মহানবী (সাঃ) এর রউজা মুবারক দেখতে যান। তিনিই একমাত্র পরিব্রাজক যিনি তার সময়কার সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন এবং তৎকালীন সুলতানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই মহান পরিব্রাজক অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে, তিনবার হজ করে তার জন্মভূমিতে ফিরেছিলেন ৩০ বছর পর।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


