
অনেক সময় মানুষ সত্য কথা বললেও বিশ্বাস করে না।
এই এখন আমি একটা সত্য ঘটনা বলব, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করবে না। না করুক। তারা ভুলে গেছে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর। যাই হোক, আমি আমার সত্য ঘটনা বলি- বাগেরহাট যাচ্ছিলাম। আমি যাবো আসলে মোল্লার হাট। মোল্লার হাটের আগে আছে টেকের হাট। টেকের হাট এসে আমাদের বাসের চাকা পাংচার হয়ে গেলো। রাত তখন এগারোটা। চারিদিকে গাঁঢ় অন্ধকার নয়। জ্যোছনা আছে। আমার স্পষ্ট মনে আছে তখন শরৎ কাল ছিলো। কারন কাশ ফুল দেখেছি। যাই হোক, বাসের চাকা ঠিক করা হলো। বাসে উঠে বসলাম। কিন্তু বাস চলছে না। বাস কিছুতেই স্টার্ট নিচ্ছে না। ড্রাইভার আমাদের অনুরোধ করলেন বাস ঠেলতে। বাসের বেশির ভাগ যাত্রী নেমে গেছেন বাগেরহাট শহরে। এখন যাত্রীর সংখ্যা আমাকে নিয়ে মাত্র পাঁচ জন।
অনেক ঠেলার পরও বাস আর স্টার্ট নেয়নি।
একজন সহযাত্রী আমাকে বললেন, এত রাতে আর বাস পাবেন না। 'মোল্লার হাট' হেঁটেই চলে যান এক ঘন্টার মতোন সময় লাগবে। আমি বিসমিল্লাহ বলে হাঁটা শুরু করলাম। রাত তখন বারটা। চমৎকার আবহাওয়া। আকাশে বিশাল এক চাঁদ। চারিদিক যেন ঝকমক করছে। চারিদিকে অসংখ্য গাছপালা। বাতাসে গাছের পাতার শন শন শব্দ। ঝি ঝি পোকা সমানে ডেকেই চলেছে। মাঝে মাঝে গাছের পাতার ফাক থেকে দুই একটা পেঁচা ডেকে উঠছে। শিয়ালের ডাকও যেন কয়েরবার শুনতে পেলাম। সাথে একজন থাকলে ভালো হতো। গল্প করতে করতে যাওয়া যেত। আমি শহরের ছেলে। ভয়ডর কম। প্রিয় পাঠকগন, আমি অনেক বছর আগের গল্প বলছি। তখনও হাতে হাতে মোবাইল ফোন আসে নাই। আমি সদ্য অনার্সে ভরতি হয়েছি। মাথার চুল লম্বা। মুখ দিয়ে শিস বাজাতে জানি। হে হে...।
সম্ভবত আমি পথ ভুল করেছি।
চার রাস্তার মাথায় এসে থামলাম। আমি মাঝখানে, চারদিকে চারটা পথ গেছে। আমি কোন পথে যাবো? কোন পথে মোল্লার হাট? কে আমাকে সঠিক পথ দেখাবে? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি একটা বাজে। এবং ঘড়ি থেমে আছে। সঠিক পথ কোনটা কে জানে! আশেপাশে কেউ নেই যে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবো। এমন কি আশেপাশে কোনো বাড়িঘরও দেখা যাচ্ছে। যতদূর চোখ যায় শুধু জমি আর জমি। রাস্তার ডান পাশে একটা ছোট্র দোকান চোখে পড়লো। দোকানের ঝাঁপ লাগানো। আমি দোকানের কাছে গেলাম। অনেক সময় দোকানিরা দোকানেই ঘুমায়। দোকানের সামনে গিয়ে দেখি দোকান তালা দেওয়া। তবু বেশ কয়েকবার ডাকলাম, ও ভাই। ও ভাই। কেউ আছেন? এক কাপ চা কি পাওয়া যবে? আচ্ছা, মোল্লার হটের রাস্তাটা কোন দিকে?
চার রাস্তার মাঝখানে মন খারাপ করে বসে আছি।
আমার চোখের সামনে বিশাল একটা তেঁতুল গাছ। ক্ষুধা পেয়েছে। আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না। তাছাড়া আমার চেংড়া বয়স। এই বয়সে ক্ষুধা বেশী লাগে। ব্যাগে একটা বার্গার আছে। কোক আছে। বার্গার খেয়ে নিলুম। ক্ষুধা পেলে সবই খেতে ভালো লাগে। তবে বার্গারটা গরম করে খেলে বেশী আরাম পেতাম। একটা সিগারেট থাকলে ভালো হতো। বাগেরহাট শহরে পেকেটের শেষ সিগারেটটা খেয়েছি। সিগারেট না থাক। এই মুহুর্তে এক কাপ আগুন গরম চা পেলেও চলতো। যখন যেটা থাকে না, তখন সেটা খাওয়ার জন্যই মনটা আকুপাকু করে। আমার সামনে থাকা তেঁতুল গাছটায় কেউ একজন আছে। হ্যা আমি স্পষ্ট দেখলাম। একটা মেয়ে তেঁতুল গাছের পেছন থেকে আসছে। কি আশ্চর্য মেয়েটা আমার দিকেই আসছে।
আমার গল্প শেষের দিকে। অথবা শুরু।
শুনেছি, তেঁতুল গাছে প্রেতনী থাকে। কিন্তু এই মেয়ে তো অত্যাধিক সুন্দরী। আমি কসম খেয়ে বলতে পারি এত সুন্দর মেয়ে আমি আগে কখনও দেখি নি। বেহেশতের হুর হয়তো এত সুন্দর হতে পারে। মেয়েটির রুপের বর্ননা কিভাবে দেই! মাথায় এক আকাশ চুল। মুখটা ভীষন মায়াময়। আসমানী রঙের শাড়ি পরা। চোখ গুলো এত সুন্দর যে অনায়াসে একটা জীবন এই চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায়। মেয়েটা কোনো রকম দ্বিধা সংশয় ছাড়াই আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। একটু কি হাসলো? আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। মেয়েটি চোখের ইশারায় আমাকে চুপ থাকতে বলল। মেয়েটি খুব সুন্দর করে বলল, শহর থেকে আসছেন। মোল্লার হাট যাবেন। রাস্তায় বাস নষ্ট হয়েছে। আপনি পথ হারিয়েছেন। এবং এই মুহুর্তে আপনার একটা সিগারেট এবং এক কাপ চা খেতে ইচ্ছা করছে।
(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল।)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


