somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সত্য গল্প

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেক সময় মানুষ সত্য কথা বললেও বিশ্বাস করে না।
এই এখন আমি একটা সত্য ঘটনা বলব, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করবে না। না করুক। তারা ভুলে গেছে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর। যাই হোক, আমি আমার সত্য ঘটনা বলি- বাগেরহাট যাচ্ছিলাম। আমি যাবো আসলে মোল্লার হাট। মোল্লার হাটের আগে আছে টেকের হাট। টেকের হাট এসে আমাদের বাসের চাকা পাংচার হয়ে গেলো। রাত তখন এগারোটা। চারিদিকে গাঁঢ় অন্ধকার নয়। জ্যোছনা আছে। আমার স্পষ্ট মনে আছে তখন শরৎ কাল ছিলো। কারন কাশ ফুল দেখেছি। যাই হোক, বাসের চাকা ঠিক করা হলো। বাসে উঠে বসলাম। কিন্তু বাস চলছে না। বাস কিছুতেই স্টার্ট নিচ্ছে না। ড্রাইভার আমাদের অনুরোধ করলেন বাস ঠেলতে। বাসের বেশির ভাগ যাত্রী নেমে গেছেন বাগেরহাট শহরে। এখন যাত্রীর সংখ্যা আমাকে নিয়ে মাত্র পাঁচ জন।

অনেক ঠেলার পরও বাস আর স্টার্ট নেয়নি।
একজন সহযাত্রী আমাকে বললেন, এত রাতে আর বাস পাবেন না। 'মোল্লার হাট' হেঁটেই চলে যান এক ঘন্টার মতোন সময় লাগবে। আমি বিসমিল্লাহ বলে হাঁটা শুরু করলাম। রাত তখন বারটা। চমৎকার আবহাওয়া। আকাশে বিশাল এক চাঁদ। চারিদিক যেন ঝকমক করছে। চারিদিকে অসংখ্য গাছপালা। বাতাসে গাছের পাতার শন শন শব্দ। ঝি ঝি পোকা সমানে ডেকেই চলেছে। মাঝে মাঝে গাছের পাতার ফাক থেকে দুই একটা পেঁচা ডেকে উঠছে। শিয়ালের ডাকও যেন কয়েরবার শুনতে পেলাম। সাথে একজন থাকলে ভালো হতো। গল্প করতে করতে যাওয়া যেত। আমি শহরের ছেলে। ভয়ডর কম। প্রিয় পাঠকগন, আমি অনেক বছর আগের গল্প বলছি। তখনও হাতে হাতে মোবাইল ফোন আসে নাই। আমি সদ্য অনার্সে ভরতি হয়েছি। মাথার চুল লম্বা। মুখ দিয়ে শিস বাজাতে জানি। হে হে...।

সম্ভবত আমি পথ ভুল করেছি।
চার রাস্তার মাথায় এসে থামলাম। আমি মাঝখানে, চারদিকে চারটা পথ গেছে। আমি কোন পথে যাবো? কোন পথে মোল্লার হাট? কে আমাকে সঠিক পথ দেখাবে? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি একটা বাজে। এবং ঘড়ি থেমে আছে। সঠিক পথ কোনটা কে জানে! আশেপাশে কেউ নেই যে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবো। এমন কি আশেপাশে কোনো বাড়িঘরও দেখা যাচ্ছে। যতদূর চোখ যায় শুধু জমি আর জমি। রাস্তার ডান পাশে একটা ছোট্র দোকান চোখে পড়লো। দোকানের ঝাঁপ লাগানো। আমি দোকানের কাছে গেলাম। অনেক সময় দোকানিরা দোকানেই ঘুমায়। দোকানের সামনে গিয়ে দেখি দোকান তালা দেওয়া। তবু বেশ কয়েকবার ডাকলাম, ও ভাই। ও ভাই। কেউ আছেন? এক কাপ চা কি পাওয়া যবে? আচ্ছা, মোল্লার হটের রাস্তাটা কোন দিকে?

চার রাস্তার মাঝখানে মন খারাপ করে বসে আছি।
আমার চোখের সামনে বিশাল একটা তেঁতুল গাছ। ক্ষুধা পেয়েছে। আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না। তাছাড়া আমার চেংড়া বয়স। এই বয়সে ক্ষুধা বেশী লাগে। ব্যাগে একটা বার্গার আছে। কোক আছে। বার্গার খেয়ে নিলুম। ক্ষুধা পেলে সবই খেতে ভালো লাগে। তবে বার্গারটা গরম করে খেলে বেশী আরাম পেতাম। একটা সিগারেট থাকলে ভালো হতো। বাগেরহাট শহরে পেকেটের শেষ সিগারেটটা খেয়েছি। সিগারেট না থাক। এই মুহুর্তে এক কাপ আগুন গরম চা পেলেও চলতো। যখন যেটা থাকে না, তখন সেটা খাওয়ার জন্যই মনটা আকুপাকু করে। আমার সামনে থাকা তেঁতুল গাছটায় কেউ একজন আছে। হ্যা আমি স্পষ্ট দেখলাম। একটা মেয়ে তেঁতুল গাছের পেছন থেকে আসছে। কি আশ্চর্য মেয়েটা আমার দিকেই আসছে।

আমার গল্প শেষের দিকে। অথবা শুরু।
শুনেছি, তেঁতুল গাছে প্রেতনী থাকে। কিন্তু এই মেয়ে তো অত্যাধিক সুন্দরী। আমি কসম খেয়ে বলতে পারি এত সুন্দর মেয়ে আমি আগে কখনও দেখি নি। বেহেশতের হুর হয়তো এত সুন্দর হতে পারে। মেয়েটির রুপের বর্ননা কিভাবে দেই! মাথায় এক আকাশ চুল। মুখটা ভীষন মায়াময়। আসমানী রঙের শাড়ি পরা। চোখ গুলো এত সুন্দর যে অনায়াসে একটা জীবন এই চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায়। মেয়েটা কোনো রকম দ্বিধা সংশয় ছাড়াই আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। একটু কি হাসলো? আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। মেয়েটি চোখের ইশারায় আমাকে চুপ থাকতে বলল। মেয়েটি খুব সুন্দর করে বলল, শহর থেকে আসছেন। মোল্লার হাট যাবেন। রাস্তায় বাস নষ্ট হয়েছে। আপনি পথ হারিয়েছেন। এবং এই মুহুর্তে আপনার একটা সিগারেট এবং এক কাপ চা খেতে ইচ্ছা করছে।

(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল।)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, পরিকল্পনা কোথায়?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯



শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিচ্ছেন, সময় পার হয়ে গেলে আবার নতুন ডেট দিচ্ছেন। তিনি কি আসলেই ফিরবেন? নাকি নিজের দলকেই কনফিউজ করে রাখছেন? অথবা শুধু জাশির ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

×