somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ইমাম আহমাদ (রহ.)

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পৃথিবীতে এমন কিছু মহাপুরুষ জন্ম নিয়েছিলেন, যারা মানুষকে আলোর পথে নিয়ে গেছেন। যেমন ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহি.), ইমাম আবু হানিফা (রাহি.), ইমাম মালিক (রাহি.), ইমাম শাফি (রাহি.)সহ অগণিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ।

ইমাম আহমদ এর পিতা তাকে নিয়ে মুরউ থেকে যখন বাগদাদ চলে যান, তখন তিনি তার মায়ের গর্ভে ছিলেন। তারপর ১৬৪ হিজরী (৭৮০ খ্রীষ্টাব্দ) সালের রবিউল আউয়াল মাসে তার মা তাকে বাগদাদে প্রসব করেণ। আহমদ বিন হাম্বল বাগদাদে আবু হানিফার ছাত্র আবু ইউসুফ ও মালিক বিন আনাসের ছাত্র ইমাম শাফির কাছে পড়াশুনা করেন। তার বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখন তার পিতা মারা যান। তিনি প্রখর মেধাশক্তি সম্পন্ন ছিলেন। অতি সহজেই অনেক কিছু মুখস্ত করে ফেলতেন।

মহান আল্লাহ তাকে দান করেছিলেন অসাধারণ ধীশক্তি। একবার যা শুনতেন তা আর কখনো ভুলতেন না। তার গোটা জীবন আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি তিনটি কাজে অতিবাহিত হয়েছে। ১। হাদিস শিক্ষা গ্রহন ও হাদিস শিক্ষাদানের জন্য। ২। হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনেন কাজের জন্য। এবং ৩। বাতিলের মুকাবিলা করার জন্য। ১৮৬ হিঃ সনে তিনি হাদীস শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণ শুরু করেন। প্রথমে বসরা গমন করেন,তারপর হিজায উপস্থিত হন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ইয়েমেন ও কূফা শহরেও গমন করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, পবিত্র মক্কায় গিয়ে তিনি হজ্জ করবেন এবং কয়েকদিন হেজাজে অবস্থান করবেন।

তিনি পাঁচবার হাজ্জব্রত পালন করেন তন্মধ্যে তিনবার পায়ে হেঁটে হাজ্জ পালন করেন। ২৪১ হিজরীতে রবীউল আউয়াল মাসের জুম‘আর দিনে এই মহান মুজতাহিদ, সুন্নাতের ধারক ও হাদীছের রক্ষক আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে জগতবাসীকে কাঁদিয়ে পরপারের যাত্রী হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তাঁর মৃত্যুতে মানুষের এত ভিড় হয়েছিল যে, রাজপথ সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আট লক্ষ পুরুষ ও ৬০,০০০ মহিলা ইমাম সাহেব (রহ:)-এর জানাযায় শরীক হন। যেদিন তিনি বেসালপ্রাপ্ত হন, সেই দিন ২০,০০০ ইহুদী, খৃষ্টান ও প্রাচীন পারসিক পুরোহিত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইমাম আহমাদ রহ.এর বাবা মোহাম্মদ ইবনে হাম্বল রহ. মৃত্যুর পূর্বে শুধুমাত্র একটি বাড়িই সম্পদ হিসেবে রেখে যান। এ ঘরটিরই একাংশে তিনি ও তাঁর মাতা বাস করতেন। এবং ঘরটির অন্যাংশ ভাড়া দেওয়া হতো। আর ভাড়া থেকে যৎসামান্ন সতের দিরহাম আসতো তা দিয়ে পরিবারের খরচ পূর্ণ হতো না। ফলে, ইমাম সাহেবকে জীবিকার তাগিদে, কখনো কাঁধে রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহে আবার কখনো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাউকে কিছু লিখে দিতে বাইরে বেড় হতে হতো। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তিনি কোনদিন কারো জমিতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতেন না।

ইমাম আহমাদ ছিলেন একজন সুবক্তা। হাদীস শাস্ত্রের সাথে সাথে তিনি আইনের জটিল বিষয়ের ওপর নিয়মিত নানা প্রশ্নের জবাব দিতেন। তিনি ছিলেন চলমান জ্ঞানসাগর। তিনি সবসময় রাসূলের মাহন সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি বাক্য— ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা, আর কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ’— আওড়াতেন। উমাইয়া আমলে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর দাদা হাম্বল ইবনে হিলাল ছিলেন গভর্নর এবং তাঁর দপ্তর ছিল মার্ভে। বাবা মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল খোরাসানের সরকারি বাহিনীতে চাকরি করতেন।

তথ্যসুত্রঃ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী। বইটি লিখেছেন শাইখ শহীদুল্লাহ খান মাদানী।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৫৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×