somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অনন্ত প্রেম

১২ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সময়টা ১৯৮০ সাল। জানুয়ারী মাস।
শীতকাল। রফিক আজ কাজে যায় নি। সে আজ বিনুকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যাবে। সিনেমার নাম 'অনন্ত প্রেম'। নায়ক রাজ্জাক। নায়িকা ববিতা। বিনুর মা বাবা এখনই তাদের কাজে বের হবে। তারপর রফিক বিনুকে সরাসরি বলবে, বিনু আজ আমার অফিস নেই। ছুটি নিয়েছি। তুমি কি আমার সাথে সিনেমা দেখতে যাবে? আমার একটা ভেসপা আছে। আরামে যেতে পারবে। যদি বিনু সিনেমা দেখতে যেতে রাজী হয়, তাহলে ফেরার পথে রফিক স্পষ্ট বলবে, আমি তোমাকে ভালোবাসি বিনু। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। আমি এতটুকু তোমাকে বলতে পারি- আমি তোমাকে কখনও দুঃখ কষ্ট দিবো না।

রফিক ঘর থেকে উঠানে এলো।
উঠানে বিনু ভেজা কাপড় মেলে দিচ্ছে। সে মাত্র গোছল করেছে। চুল গড়িয়ে পানি পড়ছে। পিঠ ভিজে আছে তাঁর। কি সুন্দর না লাগছে বিনুকে। কি সুন্দর, শান্ত, স্নিগ্ধ । বিনু মুখটা বড় পবিত্র। সহজ সরল। মুখ দেখেই বুঝা যায়- পৃথিবীর কোনো পাপ আজ পর্যন্ত তাকে স্পর্শ করে নি। রফিক কোনো ভনিতা না করেই বলল, বিনু আজ আমার সাথে সিনেমা দেখতে যাবে? আমি জানি, তুমি সিনেমা দেখতে পছন্দ করো। প্রচুর সিনেমা দেখো তুমি। চলো না যাই। প্লীজ।

বিনু সহজ সরল মেয়ে।
তাঁর বয়স আঠারো বছর। দুনিয়ার জটিলতা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারনা নেই। সে বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। বড় আদরের মেয়ে। আর রফিক হচ্ছে তাদের ভাড়াটিয়া। অবশ্য বাবা মা দুজনই রফিককে খুব পছন্দ করে। প্রায়ই রফিককে ডেকে তাদের সাথে খেতে বলেন। রফিক ভদ্র ছেলে। শিক্ষিত। মোটামোটি ভদ্রগোছের চাকরি করছে। রফিক বলল, বিনু কিছু বলছো না যে? যাবে না? বিনু বলল, হ্যা যাবো। আপনি অপেক্ষা করুন আমি রেডি হয়ে আসছি। এত সহজেই বিনু রাজী হয়ে গেলো! খুশিতে রফিকের নাচতে ইচ্ছা করছে। সমস্যা হলো রফিক নাচতে জানে না।

বিনুর রেডি হতে অনেক সময় লাগলো।
কারন সে অনেক সুন্দর করে সেজেছে। অবশ্য সাজার কিছু নেই। বিনু এমনিতেই সুন্দর। নায়িকা ববিতার চেয়েও সুন্দর। বিনু একটা পাতলা গোলাপী রঙ্গের জর্জেটের শাড়ি পড়েছে। দুই হাত ভরতি কাঁচের চুড়ি। কপালে একটা টিপ। চোখে কাজল। অপূর্ব লাগছে বিনুকে। রফিকের ইচ্ছা করছে টানা এক ঘন্টা বিনুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে। রফিক মনে মনে ভাবছে- একটা মানুষ এত সুন্দর হয় কি করে? সাক্ষাৎ একটা পরী। বেহেশতের হুর। এই মেয়েকে সারা জীবনের জন্য পেলে জীবন ধন্য হয়ে যাবে তাঁর।

তারা বলাকা সিনেমা হলে গেলো।
রাস্তায় কোনো জ্যাম নেই। আজকের দিনটাই খুব সুন্দর। চারিদিকে স্বছ রোদ। অথচ রোদের কোনো তাপ নেই। বরং মিষ্টি বাতাস। ভেসপায় উঠে বিনু একটা হাত রফিকের কাঁধে রেখেছে খুবই সহজ ভাবে। কোনো জড়োতা নেই। যেন এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। নিউ মার্কেটের কাছে এই সিনেমা হলটাই ঢাকা শহরের সবচেয়ে সুন্দর। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রফিক কোক, চিপস কিনে নিয়েছে দুইজনের জন্য। সিনেমা শুরু হয়ে গেছে। তারা দুজনেই মুগ্ধ হয়ে দেখছে।

সিনেমার কাহিনী এই রকম- রাজ্জাক, এটিএম শামসুজ্জামান, আনোয়ার, খলিল চার বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ববিতা। খলিল পছন্দ করে ববিতাকে কিন্তু সে প্রেমের প্রস্তাব সাড়া দেয় না। বন্ধুদের এ কথা জানালে তারা একটা উপায় খুঁজে বের করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ববিতাকে একটি নির্জন স্থানে আক্রমণ করে ও তাকে বাঁচাতে আসে খলিল। সাজানো মারপিটে বন্ধুদের হারিয়ে ববিতাকে উদ্ধার করে এবং বাড়ি পৌঁছে দেবার নাম করে নির্জন স্থানে তাকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে ববিতা চিৎকার করে। চিৎকার শুনে বন্ধুরা চলে আসে এবং সত্যিকারের মারপিটে রাজ্জাকের হাতে খলিল খুন হয়। খলিলের লাশ গাড়িতে করে নিয়ে ববিতাকে বাড়ি পৌঁছে দেয় কিন্তু ফেরার পথে তারা তিনজন পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যায় রাজ্জাক। অন্যদিকে ববিতাও সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। দুজনের ট্রেনে আবার দেখা হয় এবং পালিয়ে যান এক পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে একে অপরের প্রেমে পড়ে যান। অপরদিকে জেল থেকে পালানোর পথে এটিএম শামসুজ্জামান ও ব্ল্যাক আনোয়ার পুলিশের গুলিতে মারা গেলে আসল ঘটনার কোন সাক্ষী থাকে না।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:০৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×