
প্রিয় কন্যা আমার-
আজ তুমি পাঁচ মাসে পা রেখেছো। দেখতে দেখতে চারটা মাস পার হয়ে গেলো। হয়তো এমাসে তুমি বসতে শিখবে। আগামী মাসে তোমার মুখে প্রথম ভাত দিবো। আগামী মাস জুন মাস। জুন মাসের ৬ তারিখ পরীর জন্ম দিন। ইচ্ছা আছে পরীর জন্মদিনে তোমার মুখে প্রথম ভাত দিবো। তুমি জানো না, তুমি কত সুন্দর করে হাসি দাও। তোমার হাসি আমাকে আনন্দ দেয়। তোমার হাসি আমার সমস্ত ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। পৃথিবীতে এসে তুমি সবার আগে হাসি দেওয়া শিখেছো। আমি তোমার সাথে অনেক কথা বলি। আমার কথা শুনে তুমি হাসো। এবং আমার ধারনা, তুমি আমার কথা গুলো বুঝতে পারো।
ফারাজা তাবাসসুম খান (ফাইহা)
প্রচুর গরম পড়েছে। ৩৮ ডিগ্রী তাপমাত্রা ঢাকায়। অথচ বৃষ্টির কোনো নাম গন্ধ নেই। গরমে তোমার কষ্ট হচ্ছে। গরম থেকে তোমার গায়ে র্যাশ উঠেছে। দেখতে ঘামাচির মতো। তোমার শরীর লাল হয়ে থাকে। চুলকায়। একবার ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার ওষুধ দিয়েছেন। তাতে কোনো উপকার হয়নি। এরপর অনলাইনে ডাক্তার দেখালাম। তাতেও কোনো উপকার পাইনি। এখন আবার যাবো ডাক্তারের কাছে কিন্তু চারিদিকে করোনা তাই তোমাকে নিয়ে বাইরে যেতে ভরসা পাচ্ছি না। রাতে তুমি আমার পাশে ঘুমাও। তুমি ঘুমাও আমার মতো করে। ডান পাশ ফিরে ডান হাত ডান গালের উপর রেখে।
প্রিয় কন্যা আমার-
গত পনের দিন বাসায় গজব অবস্থা গিয়েছে। পুরো ঘরবাড়ি রঙ করাচ্ছি। দরজা, খাট, শোকেস, চেয়ার টেবিল আর আলমারি ফার্নিচার বার্নিশ করাচ্ছি। কিছু ইলেকট্রিকের কাজও করাচ্ছি। সব মিলিয়ে আমাদের পুরো বাসা এলোমেলো। তবে আগামী দুই একদিনের মধ্যে সমস্ত ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে। ধুলো বালির জন্য তোমার সমস্যা হচ্ছে। ধুলোবালি থেকে এলার্জি। ফলাফল তোমার গায়ে র্যাশ। তবে আশার কথা তোমার মা তোমার খুব যত্ন নেয়। আমি তোমার মায়ের মতো করে তোমার এত দেখভাল করতে পারতাম না। যাই হোক, আজ আঠারো রমজান। আর বারো তের দিন পর ঈদ। তোমার জীবনের প্রথম ঈদ।
প্রিয় ফারাজা
তুমি তো জানো সামু ব্লগে আমি মাঝে মাঝে লিখি। আমি চাই তুমিও বড় হয়ে ব্লগিং করবে। যাই হোক, সেই ব্লগ কয়েকদিন ধরে আমাকে ব্যান করেছে। এখন আমি কাউকে মন্তব্য করতে পারি না। এমন কি আমার লেখা প্রথম পাতায় যায় না। ইহা আমার জন্য দুঃখজনক। আর কেউ না জানুক তুমি তো জানো- তোমার বাবা একজন সহজ সরল ভালো মানুষ। প্রিয় কন্যা, এতটুকু সব সময় মাথায় রাখবে তোমার বাবা কখনও কোনো অন্যায় করেনি। তোমার বাবা একজন মানবিক মানুষ। আমি তো বারবার বলি- লাইফ ইজ বিউটিফুল। আসলে লাইফ এমনি এমনি বিউটিফুল হয় না। লাইফকে বিউটিফুল করতে হয় নিজের ভালোত্ব, মহত্ব আর পরিশ্রম দিয়ে।
প্রিয় কন্যা আমার-
এখন তোমার মা তোমাকে গোছল করাচ্ছে। আর আমি তোমাকে নিয়ে লিখছি। তোমার ছোট্র একটা লাল বোল আছে। গোছল করার সময় তুমি অন্য বাচ্চাদের মতো কান্না করো না- এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লাগে। তোমাকে দেখলে বুঝা যায় তুমি গোছলটা উপভোগ করছো। গোছল শেষ করে তুমি খাবে এবং খেয়ে ঘুমাবে। তুমি ঘুমে থাকতে থাকতে তখন তোমার মা ঘরের কাজ শেষ করে এবং রান্নাটা শেষ করে ফেলে। তোমার বড় বোন পরী মাঝে মাঝে তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আর সত্যি সত্যি তুমি পরীর কোলে ঘুমিয়ে যাও। আমি তোমার ঘুমন্ত মুখের দিকে এক আকাশ ভালবাসা নিয়ে তাকিয়ে থাকি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০২১ দুপুর ১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




