somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

গাড়ি

০২ রা মে, ২০২১ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১।
জলিল সাহেব নতুন গাড়ি কিনেছেন।
গাড়ির দাম পড়েছে ১৮ লাখ টাকা। পনের হাজার টাকা বেতন দিয়ে ড্রাইভার রেখেছেন। অসৎ টাকায় গাড়ি কেনা হয়নি। জলিল সাহেব একজন সৎ মানুষ। তের বছর টাকা জমিয়ে গাড়ি কিনেছেন। তার ছেলেমেয়েদের গাড়ির খুব শখ। গাড়িটি ব্যাবহার করেন তার ছেলে-মেয়েরা। তিনি রিকশা এবং বাসে'ই যাতায়াত করেন। সেদিন ছুটির দিনে তিনি কি মনে করে যেন গাড়ি নিয়ে বের হলেন। যাবেন মিরপুর তার ছোট বোনের বাসায়। তার গাড়ি কাওরান বাজার এসে জ্যামে পড়লো। ড্রাইভার এসি ছেড়ে দিয়েছে- আরামে তার ঘুম এসে যাচ্ছিল। গাড়িতে রবীন্দ্রনাথের গান চলছিল।

হঠাত জলিল সাহেব জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলেন- তার গাড়ির পাশে একটা লোকাল বাসে অনেক মানুষজন বানরের মতো ঝুলে আছে। বাসের দিকে তাকিয়ে জলিল সাহেবের লজ্জা করতে লাগল। তিনি সারা জীবন এরকম বাসে ঝুলে ঝুলে গন্তব্যে গিয়েছেন। '৬' নম্বর বাস গুলোতে খুব ভীড় হয়, ঠিকভাবে পা'ও রাখা যায় না। গরমে সারা শরীর ভিজে যায়। একটুও নড়া-চড়া করা যায় না। জলিল সাহেবের মনে হচ্ছে যেন, বাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ গুলো এক আকাশ ঘৃণা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। জলিল সাহেব বিবেকের তাড়নায় গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলেন মিরপুর। এবং তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন- আর কোনোদিন গাড়িতে উঠবেন না।

২।
মোবারক সাহেব নতুন একটি গাড়ি কিনেছেন।
দাম পড়েছে বত্রিশ লাখ টাকা। তার আরও দু'টি গাড়ি আছে। দু'টি গাড়ির মধ্যে একটি তার স্ত্রীর এবং একটি তার ছেলের। প্রত্যেকটা ড্রাইভারকে বেতন দেওয়া হয় বিশ হাজার টাকা করে। মোবারক সাহেব মিরপুরে একটি গার্মেন্টস দিয়েছেন। সপ্তাহে একদিন সেখানে বসেন। মোবারক সাহেব তার বাপ-দাদার ব্যবসা নিজ বুদ্ধি দিয়ে সাত গুন বাড়িয়েছেন।

তার গাড়ি সিগ্যানালে পড়েছে। তিনি সব সময় জানালা বন্ধ করে রাখেন। জানালা খোলা থাকলেই ভিক্ষুক এবং নানান ধরনের হকার'রা হাত ঢুকিয়ে দেয়। এটা তিনি একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। তখন তার ইচ্ছা করে এদের হাত গুলো ভেঙ্গে দিতে। মোবারক সাহেব তার গাড়ির কালো কাঁচের জানালা দিয়ে দেখতে পেলেন একটা বাসে অনেকগুলো লোক যাতাযাতি করে বানরের মত ঝুলে আছে। মোবারক সাহেবের হঠাত খুব রাগ হলো। তার ইচ্ছা করলো- প্রেট্রোল দিয়ে বাসে আগুন ধরিয়ে দিতে। সব গুলো ঝুলে থাকা বানর আগুনে পুড়ে মরুক। তিনি গরীব মানুষদের একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। এই জন্য তিনি আজকাল জানালার দিকে তাকান না। গাড়িতে সব সময় টাইমস ম্যাগাজিনে চোখ বুলান। অথবা মোবাইলে গেমস খেলেন।

৩।
আজমল সাহেব একজন সরকারী কর্মকর্তা।
তিনি একটি নতুন গাড়ি কিনেছেন। গাড়ির দাম পড়েছে ৫২ লাখ টাকা। তার আরও তিনটা গাড়ি আছে। সেগুলো তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্যবহার করে। আজমল সাহেব তার ড্রাইভারকে বেশী টাকা বেতন দিতে কখনও কার্পণ্য করেন না। আজ আজমল সাহেব যাচ্ছেন মিরপুর। তিন সপ্তাহে একদিন চাঁদনী নামে একটি মেয়ের কাছে যান যৌনসুখ ভোগ করতে। মেয়েটিকে তিনি প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা দেন। চাঁদনীর একটি চার বছরের ছেলে আছে। স্বামী থাকে বিদেশে। চাঁদনী ছাড়াও আজমল সাহেব আরও তিনজন নারীর কাছে নিয়মিত যান।

আজমল সাহেবের গাড়ি কাওরান বাজার এসে সিগ্যানালে পরেছে। তিনি জানালা দিয়ে দেখলেন- একটা বাসে অনেক গুলো লোক ঝুলে আছে। ঝুলে থাকা মানুষ গুলোকে দেখে আজমল সাহেব অনেক আনন্দ পেলেন। দরিদ্র মানুষদের দেখে তিনি অনেক আনন্দ পান। বাসে যাতাযাতি করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ গুলোর দিকে তাকিয়ে আজমল সাহেব মিটমিট করে হাসেন এবং মনে মনে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। বাসের লোকজনদের দিকে তাকিয়ে কখনো কখনো ভিক্ষুক এবং হকারদের ধমক দেন, এই গাড়িতে হাত দিবি না। দাগ পড়ে যাবে। আজমল সাহেব দুর্নীতি করে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারী দলের অনেক নেতা তাকে তোষামদ করেন। আজমল সাহেবের অনেক দিনের ইচ্ছা ধনী এবং গরীবদের জন্য আলাদা রাস্তা করা হোক। যেন এসি গাড়িতে বসে ঝুলে থাকা বানরদের না দেখতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২১ রাত ১১:৩৪
২২টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×