somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বহুদিন পর আমাদের এলাকায় বৃষ্টি হলো!

০৫ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

এ মাসের দুই তারিখ বৃষ্টি হলো!
টানা ১৫ মিনিট বৃষ্টি হয়েছে আমাদের এলাকায়। এতদিন ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রী তাপমাত্রা গেছে। হায়রে গরম! আমি থাকি ছয় তলা বাড়ির ছয় তলাম। মধ্যরাতেও ঘর গরম হয়ে থাকে। কলের পানিও গরম থাকে। যাই হোক, প্রতিদিন সবাই মিলে ইফতারী খেতে বসেছি। আমি আবার সেহেরি এবং ইফতারীটা খুব আগ্রহ নিয়ে খাই। যদিও রোজা রাখা হয় না। সারাদিন না খেয়ে থাকার কোনো মানে হয় না। না খেয়ে থেকে আমি আল্লাহকে খুশি করতে চাই না। বরং আমি চাই আল্লাহ আমাকে প্রতিটা মুহুর্ত খুশি করুক। আমি তাঁর বান্দা। সে আমাকে দুনিয়ায়তে পাঠিয়েছে। অবশ্যই সব দায়দায়িত্ব তাঁর।

ইফতারীতে নানান রকম আইটেম থাকে।
পেয়াজু আর ডিম চপ টা আমার বেশ লাগে। চিকেন ফ্রাইটা গরম-গরম বেশ লাগে সস দিয়ে খেতে। তরমুজও ভালো লাগে। তবে বাঙ্গির জুস আমি খাই না। সুরভি খায়। ট্যাং এর শরবত বানায় সেটাও আমার ভালো লাগে না। আমার ভালো লাগে লেবুর শরবত। প্রতিদিন ইফতারীতে নুডুলস আর রমেন বানায়। রমেন আসলে আরেক রকমের নুডুলস'ই। তবে এখানে নুডুলসটা ঝোলের মধ্যে ডুবে থাকে। আমার কাছে ভালো লাগে না। আমি সব কিছু দিয়ে সামান্য মুড়ি মাখাই। মুড়ি মাখা আমার কাছে ভালো লাগে। আমি মুড়ি মাখলে শেষমেশ সবাই মুঠো ভরে-ভরে খায়। আর বলে মুড়ি মাখাটা ভালো হয়েছে।

ইফতারী শেষ করে আমি এক কাপ চা খাই।
দুধ চা। চা শেষ করে আমি হাঁটতে বের হই। হাঁটতে হাঁটতে খিলগাও তিলপাড়া চলে যাই। সেখানে একটা চায়ের দোকানে আড্ডা দেই। এই চায়ের দোকানের মালিক একজন মহিলা। বয়স আনুমানিক ৪৫ হবে। এই মহিলা আবার জিন্স প্যান্ট পরেন। সাথে গেঞ্জি অথবা শার্ট। শার্টের কলারে আবার একটা বড় রুমাল পেচিয়ে রাখেন। সারাক্ষণ একটা টুথপিক মুখে দিয়ে রাখেন। কেমন একটা রংবাজ, রংবাজ ভাব। এই মহিলা আমাকে খুব পছন্দ করেন। পছন্দের কারন আমি জানি না। প্রায় সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত এখানে আড্ডা দেই। তারপর বাসায় ফিরি। বেশ কিছু চ্যাংড়া ছেলে মেয়ে বাইক নিয়ে চা খেতে আসে। তাদের সাথে বেশ খাতির হয়ে গেছে আমার।

২ তারিখ এরকম চায়ের দোকান থেকে বাসায় ফিরছিলাম।
হঠাত শুরু হলো বৃষ্টি। বৃষ্টি দেখে আমি মুগ্ধ! সাথে সাথে মোবাইল বের করে ছবি তুললাম। ভিডিও করলাম। রাস্তা বেশ ফাঁকা ছিলো। পনের মিনিটের মতো বৃষ্টি হলো। বৃষ্টি উপভোগ করলাম। আমি ইচ্ছা করেই খানিকটা ভিজলাম। আমার হাতে পাউরুটি, দুই ডজন কলা, আধা কেজি টক দই আর দুধ ছিলো। সেগুলো নিয়েই ভিজলাম। খুব আনন্দ লাগলো। একদম ছোটবেলার মতোন আনন্দ পেয়েছি। এখন বড় হয়ে গেছি। মা আর চিল্লাচিল্লি করবে না। বড় হয়ে যাওয়ার কিছু সুবিধা আছে। তবে সুরভি অবশ্যই চিল্লাচিল্লি করবে। মেয়েছেলে চিল্লাচিল্লি করতে পছন্দ করে। এটা তাদের স্বভাব।

বেশ কয়েকবার কাল বৈশাখী ঝড় হয়েছে এ বছর।
কিন্তু বৃষ্টি হয়নি। শহরবাসী বৃষ্টির অপেক্ষায়। তবে ছন্নছাড়া ভাবে দেশের ভিবিন্ন জায়গায় ঝড় এবং বৃষ্টি হয়েছে। আমরা এসি ছেড়ে ছোটর একটা ঘর ঠান্ডা করি। আর আল্লাহর এসি দিয়ে পুরো দুনিয়া ঠান্ডা হয়ে যায়। কাল বৈশাখী ঝড় বৃষ্টির পর সারা দুনিয়া এত ঠান্ডা হয়ে যায় যে শেষ রাতের দিকে পাতলা কাঁথা গায়ে দিতে হয়। রাতের ঘুমটা বেশ ভালো হয়। অবশ্য এই সিজনে গরমেরও দরকার আছে। গরম না হলে আম, কাঠাল, জাম, লিচু, তাল ইত্যাদি ফল পাকবে না। দুনিয়া একটা নিয়মের মধ্যে দিয়ে চলছে। কেউ নিয়মের বাইরে গেলে তাঁর খবর আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:০৯
১৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×