somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মাই ফাদার

০৮ ই মে, ২০২১ দুপুর ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার মনে'ই হয় না আব্বা মারা গেছে।
মনে হয় দরকারী কাজে ঢাকা বাইরে গেছে, কিছু দিনের মধ্যে চলে আসবে। কিন্তু সত্য হলো ৪/৫ মাস হয়ে গেছে আব্বা মারা গেছে। এ মাসের ১ তারিখ ছিলো আব্বার জন্মদিন। একসময় আমরা সবাই মিলে খুব ধূমধাম করে আব্বার জন্মদিন পালন করতাম। অনেক মজা হতো। মাঝে মাঝে আমরা আব্বার জন্মদিনে সকলে মিলে গ্রামে যেতাম। খুব মজা হতো। অবশ্য গত দশ বছর আব্বা তাঁর জন্মদিন পালন করে নাই। কারন আব্বার জন্মদিনে আমার দাদা মারা যান। সেই থেকে আব্বা তাঁর জন্মদিন পালন করে নাই। বরং জন্মদিনে আব্বা মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াতে। দাদার কবর জিয়ারত করতো। গ্রামে মিলাদ পড়াতো। গরীবদের খাওয়াতো।

সেদিন আব্বাকে স্বপ্নে দেখলাম।
দেখি আব্বা দুইটা বিশাল তরমুজ নিয়ে বাসায় আসছে। আব্বা বলল, তরমুজটা কাট। আয় সবাই মিলে খাই। আমি তরমুজ কাটলাম। টকটকা লাল তরমুজ। আর কি মিষ্টি! আব্বাকে তরমুজ দিলাম। আব্বা খেলো না। বলল, তুমি চুল কাটাচ্ছো না কেন? চুল দিয়ে কান ঢেকে গেছে। যাও এখনই চুল কেটে এসো। আমি বললাম, শুক্রবার কাটাবো। আব্বা বলল, পত্রিকাটা দে তো, পড়ি। দেখি দেশের কি অবস্থা? আমি বললাম, পত্রিকা রাখা বন্ধ করে দিয়েছি। আব্বা বলল, তাহলে টিভিটা ছেড়ে দে, খবর দেখি। আমি টিভি ছেড়ে দিলাম। আব্বা বলল, খুব ঠান্ডা লাগছে। এসিটা কমিয়ে দে। স্বপ্ন এতটুকুই। আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘুম ভাঙ্গার পর মনটা খুব খারাপ হলো। মোবাইলে আব্বার ছবি বের করে দেখলাম।

আব্বা ছিলো খুব সৌখিন মানুষ।
সে তাঁর বাসায় পরা লুঙ্গিটা পর্যন্ত দোকান থেকে আয়রন করিয়ে আনতো। কোনো দিন আব্বাকে এলোমেলো অবস্থায় দেখি নাই। সে সব সময় টিপটপ থাকতে পছন্দ করতো। প্রতিদিন দাঁড়ি কামাতো। আব্বা প্রতিটা ঋতুতে নতুন জামা কাপড় বানাতো। প্রতি বছর শীতে দুইটা করে কমপ্লিট স্যুট বানাতো। আব্বা কোনো দিন নিজের জন্য এবং আমাদের জন্য সস্তা কিছু কিনতো না। ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় মার্কেট থেকে কেনাকাটা করতো। আমি আব্বার সাথে সবচেয়ে বেশী বাজারে গিয়েছি। আব্বাকে কখনও কোনো জিনিস কেনার সময় দামাদামি করতে দেখি নি। পছন্দ হয়েছে, নিয়ে নিয়েছে। বাজার শেষ করে আব্বা আমাকে বার্গার আর কোক খাওয়াতো। কিন্তু বলতো কোক বার্গার খাওয়ার চেয়ে ফল খাওয়া ভালো।

আমি বড় হয়ে গেছি। বিয়ে করে ফেলেছি।
তবু আব্বা আমাকে জোর করে ধরে সেলুনে নিয়ে যেত। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে চুল কাটাতো। কখনও রাস্তায় দেখা হয়ে গেলো- হাত ধরে রাস্তা পার করে দিতো। রিকশা ঠিক করে দিত। ছোটবেলা থেকেই আমার দাঁতে সমস্যা। দাঁতের ডাক্তারের কাছে যেতে আমার ভয় করে। আব্বা আমাকে দাঁতের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেত। বলতো ভয় নেই। আমি আছি। তোমার হাত ধরে রেখেছি। আর ডাক্তার যদি তোমাকে ব্যথা দেয়, ডাক্তারের কানটা টেনে ছিড়ে ফেলবো। চিনে আমাকে! বাসায় ফেরার পথে আব্বা আইসক্রীম কিনে দিতো। আমি বাচ্চা ছেলেদের মতোন আইসক্রিম খেতে খেতে বাসায় ফিরতাম। আমার অন্য তিন ভাইয়ের চেয়ে আব্বা আমাকে বেশী পছন্দ করতো। বেশী ভালোবাসতো।

আব্বাকে আমি খুব মিস করি।
কাঁধে হাত রেখে কেউ বলবে না- কি রে, মন খারাপ? বিরানী খাবি? চল। বিরানী খাওয়া শেষে বলতো- তোকে একটা জুতো কিনে দেই। জুতোর কথা বলে শার্ট প্যান্টও কিনে দিতো। আব্বা বলতো- সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকবি। কখনও যেন মাথার চুল এলোমেলো না থাকে। জামা ইন করে পরবি। জুতোয় যেন ময়লা না থাকে। সব সময় সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবি। দরিদ্র মানুষদের সাহায্য করবি। কেউ সাহায্য চাইলে কখনও ফিরাবি না। পকেটে যা থাকবে দিয়ে দিবি। দেখবি, তাতে অনেক আনন্দ পাবি, শান্তি লাগবে। আব্বাকে সব সময় দেখতাম, ভিক্ষুকদের কখনও ৫/১০ টাকা দিতো না। ১০০ শ' টাকা করে দিতো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২১ দুপুর ১২:০৬
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×