somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শাহেদ নীলা

১০ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নীলা শাহেদ জামালের দিকে তাকিয়ে বলল- যারা স্বেচ্ছায় নিজের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, যারা উচ্ছাকাংক্ষার বশবর্তী হয়ে অপরকে প্রবঞ্চনা করার নেশায় মাতে না, তারাই খাঁটি মানুষ।
শাহেদ বলল, তুমি অনভিজ্ঞ, জীবনের কতখানি তুমি দেখেছ? একটি নারীর আকস্মিক হাসি বা কান্নার মর্ম তুমি বুঝ? পিঁপড়ের পেট টিপে মধু বার না করলে কি তোমার চলে না? সুরা পানে সর্বনাশ হয় মূর্খদের। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সুরা পান করলে তাদের চিন্তাশক্তি আরও বিকাশ হয়। শাহেদ দারুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল- আমি সত্যের উপাসক। যে-ধর্মের মধ্যে যে-টুকু সত্য আছে, তা গ্রহন করাই ধর্মসম্মত। সত্যের অনুসন্ধানের জন্য সবার মন মুক্ত থাকা দরকার।

কোথাও গান বাজছে, ''দাঁড়াও দাঁড়াও প্রিয়তম, মুখ ফিরে যেও না/তোমায় ভালোবাসি তাই/চোখের দেখা দেখতে চাই/কিন্তু 'থাকো' 'থাকো' বলে ধরে রাখবো না/আমি কোনো দুঃখের কথা তোমায় বলবো না/তুমি যাতে ভালো থাকো সেই ভালো/গেলো গেলো বিচ্ছেদে প্রান আমারই গেলো'!

নীলা বলল, একজনের পাপে সমগ্র সমাজ ছারখার হয়ে যেতে পারে। সত্যিকার পুরুষ তারাই যারা নিয়তির মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, কোনও কিছুতেই ভয় পায় না।
শাহেদ জামাল বলল, ঈশ্বর পুরুষ ও নারী জাতিকে সমানভাবেই বুদ্ধি, হৃদয় ও সুখ-দুঃখের অনুভূতি দিয়েছেন। আমি হচ্ছি সেই ধরনের মানুষ, যারা কয়েকটি মহৎ ধারনার পরিপোষন করেই জীবনটা কাটিয়ে দিতে সুখ পায়। ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়েও পৃথিবীর মানুষের কিছু সুখ বৃদ্ধির চেষ্টা করেই তৃপ্তি পাই আমি।
নীলা বলল, মাইকেল মধুসূধন দত্তের 'ক্যাপ্টিভ লেডী' বইটি পড়েছো?
শাহেদ বলল- যে মাইকেল মধুসূধন বলেছিল, বাংলা ভাষা সাহিত্য রচনার জন্য উপযোগী নয়। বাংলা ভাষা অতি কদর্য ও ইতর লোকের ব্যবহার্য। এই ভাষার দ্বারা কোনো মহৎ ভাব প্রকাশ সম্ভব না। বাংলাতে শিখবার কোনো বস্তু নাই। বাংলাতে যা রচিত হয়, তা সবই কুরুচিপূর্ন।
নীলা রেগে বলল, বাঙালিরা বাংলা ভাষার নিন্দা করে! আরে... পাঁচশত বছর আগে ইংল্যান্ডেও ইংরাজী ভাষা খুবই অমার্জিত ও বর্বর ছিল।

শাহেদ জামাল বলল, খাঁচার পাখি কে নিয়ে কবিরা কত কবিতা লিখেছেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে খাঁচার পাখির মনে মুক্ত আকাশের জন্য দুঃখ কতকাল পোষা থাকে তা কে বা জানে! অভ্যাস বশে প্রথম প্রথম কিছু দিন খাঁচার মধ্যে থেকে ছটফট করে বটে, তারপর এক সময় সে হয়তো সেই খাঁচাকেই ভালোবেসে ফেলে। অনেক সময় দেখা যায়, পিঞ্জরের দ্বার খোলা থাকলেও আকাশের পাখি আর ফিরে যেতে চায় না মুক্ত আকাশে।
নীলা বলল, শাহেদ তুমি তো খুব সুন্দর করে কথা বলো।
শাহেদ বলল- সুন্দর মানুষের সাথে আমি সুন্দর করেই কথা বলি।
নীলা হেসে ফেলল।

নীলা বলল, কোনো পুরুষ মানুষ যখন আমার দিকে তাকায়, সেই তাকানো টা আমার গায়ে কাটার মতো এসে লাগে। তখন আমার এক ধরনের সুখানুভূতিতে সারা শরীর শিরশির করে। পছন্দের পুরুষের সাথে সময় কাটাতে আমার খুব ভালো লাগে। তাই, এখন আমার চলনে-বলনে কথাবার্তায় ব্যক্তিত্বের ছাপ এসেছে। অনেকদিন পর আমি নারী হিসেবে নিজের মূল্য বুঝতে পেরেছি।
শাহেদ বলল- এই মেয়ে, আমাদের দেশের মতো বৃষ্টি পৃথিবীর আর কোনো দেশে হয়? তুমি তো বৃষ্টি খুব ভালোবাসো। ঝুম বৃষ্টি ইউরোপে হয় না বললেই চলে।
নীলা বলল, শুধু বৃষ্টি দেখার সুফল নাই। বৃষ্টির সময় নগ্ন গাত্রে বাহিরে দাড়াবে। তাতে ঘামাচি মরবে!
শাহেদ হেসে বললেন- হাঁ, ঘামাচিতে কিছু কষ্ট পাচ্ছি বটে, ঘামাচির এই রকম ঔষধের কথা তো আমার জানা ছিল না। নীলা তোমাকে ধন্যবাদ।
নীলা হাসে। বড় ভালো লাগে এই বোকা মেয়েটির হাসি।
শাহেদ বলল- তুমি কি জানো, কবি কালিদাসের স্ত্রী অনেক জ্ঞানী মহিলা ছিলেন। আজ থেকে ২০০ বছর আগে বিশ্বদেবী নামে এক নারী 'গঙ্গাবাক্যাবলী' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। খনা নামের এক নারী জ্যোতিষ শাস্ত্র অনেক জানতেন, এখনও লোকে খনার বচন মান্য করে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৪৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×