somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ওস্তাদের রাজনীতি

১৩ ই মে, ২০২১ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন সত্যিকারের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিজ্ঞানী বিশ্বাস করে যেকোন কিছু হয় বস্তু অথবা শক্তি দ্বারা তৈরী। এটা ঠিক যে, বস্তু এবং শক্তি একই মুদ্রার দুই পিঠ মাত্র। বস্তু আর শক্তির দুনিয়া যিনি দেখেন, সেই বিজ্ঞানী যখন প্লেটোর দর্শন পড়েন তার কাছে খুবই মজার ঠেকে। বিশেষ করে সক্রেটিসীয় ঐতিহ্যে ধরে প্লেটোর সংলাপ নির্ভর লেখা। প্লেটো নিজের তরফে কিছু বলতেন না, সব কিছুর বরাত ছিলেন গুরু সক্রেটিস। সক্রেটিসের হেয়াঁলিপূর্ণ কথাবার্তা তার কালের লোকজনকে মুগ্ধ করত, নিঃসন্দেহে এইকালের বিজ্ঞানীদেরও করে। তারা যখন প্লেটোর দি রিপাবলিক বইটি পড়েন, সক্রেটিসের মুখে বয়ানকৃত গুহার রূপক পড়ে চমৎকৃত হন বলে জানা যায়।

তিনজন মনীষী গ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যকে সবচেয়ে প্রভাবিত করেছিলেন। তারা হলেন- সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল। সক্রেটিসের সবচেয়ে প্রিয় ও বিখ্যাত শিষ্য ছিলেন প্লেটো। সক্রেটিস নিজে কিছু লেখেন নি। সক্রেটিসের কথা ও চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি প্লেটোর লেখা থেকে। আর এরিস্টটল ছিলেন প্লেটোর শিষ্য। প্রায় ৪২ বছর বয়সে খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪২ সালে মেসিডোনিয়ার রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ তাঁর ১৩ বছরের ছেলে আলেক্সান্ডার- এর গৃহশিক্ষক হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এরিস্টটল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এরিস্টটল তাঁর ছাত্র আলেক্সান্ডারকে সামরিক বিদ্যাসহ একজন ভাবী রাজার উপযোগী অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শী করে তোলেন। এরিস্টটলের পদার্থবিদ্যা প্রাচীনকালের বিষয় আর আধুনিক ভৌত বিজ্ঞানসমূহ আধুনিক যুগের বিষয়- এই পার্থক্যের চেয়েও বড় পার্থক্য হচ্ছে এরিস্টটলের পদার্থবিদ্যা ছিল দর্শন, যেখানে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান একটি ইতিবাচক বিজ্ঞান যা একটি দর্শনকে প্রথমেই সত্য বলে ধরে নেয়। এরিস্টটলের পদার্থবিদ্যা না থাকলে গ্যালিলিও'র জন্ম হতো না।

এরিস্টটল, বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক বিজ্ঞানী ও দার্শনিক।
তাকে প্রাণীবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। শৈশবে তাঁর বাবা মারা যান এবং ১৭ বছর বয়সে তার অভিভাবক প্রোক্সেনাস তাকে এথেন্সে জ্ঞানার্জনে পাঠিয়ে দেন। এথেন্স তখন বিশ্বে জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গণ্য হত। সেখানে তিনি প্লেটোর একাডেমিতে সরাসরি প্লেটোর অধীনে প্রায় বিশ বছর শিক্ষা গ্রহণ করেন। একসময় প্লেটো ও তার একাডেমিতে থাকাকালেই তিনি নিজেই ভাষাত্বত্ত নিয়ে লেকচার দিতে শুরু করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪৭ সালে প্লেটোর মৃত্যুর পর অ্যারিস্টটলই একাডেমির প্রধান হবার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু প্লেটোর দর্শণের সাথে অ্যারিস্টটলের নিজের দর্শণের দূরত্বের দরুণ প্লেটোর আত্মীয় Speusippus কেই একাডেমির প্রধান হিসেবে বেছে নেয়া হয়। এরিস্টটলের ফুজিকোস আক্রোয়াসেওস (ইংরেজিতে যে বইটি Physics নামে পরিচিত, আক্ষরিক অনুবাদ 'প্রকৃতি বিষয়ক বক্তৃতামালা' গ্রন্থটি মূলত একটি বক্তৃতা যাতে তিনি এমন সব বস্তু নির্ণয়ের চেষ্টা করেছেন যারা নিজে থেকেই উদ্ভূত হয়।

এরিস্টটলের রচনাবলী শুধুমাত্র তার সময়েই প্রভাব বিস্তারকারী ছিলো না বরং নিউটনের আগ পর্যন্ত পরবর্তী দুই হাজার বছর ধরে সমস্ত বিজ্ঞানের ভিত্তিমূল হিসাবে স্বীকৃত ছিল। দর্শন, যুক্তি, জোতির্বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞানসহ অসংখ্য বিষয়ে লিখে গেছেন তিনি। যুক্তিবাদী হিসেবে তিনি ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী। অন্যদিকে তার সবচেয়ে দুর্বল দিক ছিল প্রাকৃতিক দার্শনিক বা বিজ্ঞানী হিসাবে। গ্রীকদের চিন্তাভাবনার বেশীর ভাগই সংরক্ষিত ছিল আলেকজান্দ্রিয়া শহরের লাইব্রেরীতে। এরিস্টটলের মৃত্যুর সময়কালীন সময়ে আলেকজান্দ্রিয়া পরিনত হয় সারাবিশ্বের জ্ঞানের তীর্থভূমিতে। আলেকজান্দ্রিয়ার এই লাইব্রেরী দুই বার ধ্বংস করে দেয়া হয়। প্রথমবার করেছিল ক্রিশ্চান বিশপ থিওফিলাস ৩৯০ সালের দিকে। সপ্তদশ শতাব্দীতে একে দ্বিতীয়বারের মত ধ্বংস করে দেয় মুসলমানেরা। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর পরই প্লেটোর ধারণা সমূহ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তা-চেতনা বড় ধরনের দুঃসময়ে পতিত হয়। প্লেটোর দর্শনের কারণে এরিস্টটলের অনেক ধারণাও মার খেয়ে যায় সেই সময়। প্লেটো ছিলেন মানবকেন্দ্রিক (Anthropocentric) ধারণার অনুসারী। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বিশ্ব চরাচর পরম কোন সত্ত্বা সৃষ্টি করেছেন এবং তা তিনি নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন। এই বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডে মানুষের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি মনে করতেন।

এরিস্টটলের স্ত্রীর নাম ছিল পাইথিয়াস।
তাঁদের এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। কন্যা পাইথিয়াস দীর্ঘদিন বাঁচে নি। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে মহাবীর আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর এরিস্টটল এথেন্স থেকে চলে যেতে বাধ্য হন এবং ইউবা দ্বীপের ক্যালসিস নামক স্থানে তার মায়ের জমিদারিতে অবস্থান নেন। সেখানেই তিনি পরের বছর পেটের পীড়ায় ৬৩ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন।
প্লেটো এরিস্টটলের রাষ্ট্র ভাবনায় রয়েছে দুটি শ্রেণীর উপস্থিতি। এক, অভিজাত, দুই দাস। যাদের অস্তিত্ব হলো অভিজাতদের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা করার জন্যে। এই দর্শনকে এখনো পড়ানো হয় এবং দর্শনের ভিত্তি বলা হয়। তাদের এই দর্শনকে বোঝাবার জন্যে কার্টুন ইলাস্ট্রেশন-এ দেখানো হয়েছিলো একটি পাহাড়, যার চূড়োটা সমতল। সেখানে বসে আছে আট দশজন অভিজাত শ্রেণীর মানুষ। আর পাহাড়ের নিচে আছে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ যারা কোনোরকমে কুঁজো হয়ে পাহাড়ের বোঝাটাকে বহন করে চলেছে। এটাকে অবিদ্যা ছাড়া আর কী বলা যায়। গ্রিক সভ্যতায় যে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, সে গণতন্ত্র হচ্ছে অভিজাত কিছু মানুষের গণতন্ত্র। সাধারণ মানুষের নয়।

তথ্যসুত্রঃ
১। এরিস্টটলের এর পলিটিক্স/ সরদার ফজলুল করিম।
২। এরিস্টটলের পলিটিক্স/ অসীম কুমার সাহা।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০২১ রাত ৮:০২
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×